বেফাক ও হাইয়া নিয়ে বসুন্ধরা মাদ্রাসার প্রধান মুফতীর চার প্রস্তাব

প্রকাশিত: ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

মুফতী রফিকুল ইসলাম মাদানী
বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

বেফাক এবং হাইয়াতুল উলয়ার সর্বোচ্চ পরিচালকের পদ নির্বাচনের সময় আসন্ন । এ পরিসরে কিছু মতবিনিময় করার ইচ্ছা করেছি । কারো অপছন্দ হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে কামনা করছি।

এক. বেফাকের যেসব পদে সম্ভাব্য প্রার্থী অথবা যাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের সভাপতিত্বে কাজটি সমাধান না করে তৃতীয় কোন মহৎ ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে বা সভাপতিত্বে চূড়ান্ত করা স্পষ্টতার জন্য ভালো হবে।

দুই. বেফাকের একটি ধারা মতে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ পাবেন না । আশা করি এ বিষয়টা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

তিন. কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে অনেকেই আজীবনের জন্য বিভিন্ন পদ দখল করে দুর্নীতিতে লিপ্ত আছে। অনেক ধরনের দুর্নীতি এই আজীবন পদের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। তাই আগত মজলিসে নতুন করে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে বেফাকের ও হাইয়াতুল উলয়া এবং কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা ও অন্যান্য পদ-পদবী আজীবনের জন্য না হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা ও মিয়াদ নির্ধারণ করা যেতে পারে। গোটা পৃথিবীতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য পদের জন্য একটা মিয়াদ নির্ধারণ থাকে। দারুল উলূম দেওবন্দের বিভিন্ন পদের জন্য এমনভাবে মিয়াদ নির্ধারণ করা আছে।

এতে করে নির্দিষ্ট কারো কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত না হয়ে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ন্যায় নীতি প্রতিষ্ঠা , উন্নয়নের প্রতিযোগিতা, স্বজনপ্রীতি ও রাজতন্ত্র ধারার মূলোৎপাটন এবং সমতার আশা করা যায়।

চার. বেফাকের ধারামতে বেফাকের প্রধান যিনি হবেন তিনি হাইয়াতুল উলয়ারও প্রধান হবেন। আর হাইয়াতুল উলয়ার ধারামতে যিনি এর প্রধান হবেন তিনি নিজের পছন্দমত বিশাল একটি সংখ্যার লোকজন কমিটিতে নির্বাচন করতে পারবেন। এই সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির একটা পথ থেকে যায়‌। অতএব এই সংখ্যা সীমিত এবং ছোট পরিসরে করা স্বচ্ছতার জন্য সহায়ক হতে পারে বলে আমি মনে করি।

আই.এ/

মন্তব্য করুন