বেশি দেনমোহর ও যৌতুক, বহু তরুণ তরুণীর জীবনে অভিশাপ

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

এম ওমর ফারুক আজাদ:  দেনমোহরে মোটা অংকের টাকা ও যৌতুক এখন সমাজের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। সামাজিক অন্যান্য অপরাধ ও কুসংস্কার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও এসবের বিরুদ্ধে দন্ড থাকলেও এই দুই নীরব অভিশাপ তিলে তিলে পুড়াচ্ছে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর জীবনকে।

যৌতুকের অভিশাপে যেমনি উপযুক্ত বয়স পেরিয়েও বিয়ে হচ্ছে না অনেক তরুণীর তদ্রুপ উচ্চ কাবিনের নিরব বাঁধায় যৌবনের পূর্ণ সময় পার করেও লক্ষ লক্ষ যুবক বিয়ে করতে পারছে না। যার ফলশ্রুতিতে সমাজে ঘটছে ব্যাভিচার,ধর্ষণ,পরকীয়া,অসম প্রেম ও হত্যার মতো ঘটনা।

বেশি দেনমোহর ও যৌতুক একটিকে আরেকটি প্রভাবিত করে থাকে। অতি প্রাচীন সময় থেকে চলে আসা যৌতুকের সামাজিক ।অপরাধগুলোর কারণে কন্যা পক্ষের অভিভাবকদের মনে প্রভাব ফেলেছে উচ্চ কাবিনের ধারণা।

যার কারণে বিয়ের ধারণা আগের চেয়ে আরো জঠিল আকার ধারণ করেছে সমাজে। একদিকে যৌতুকের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় মানসিক ও মানবিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে বিয়ের উপযুক্ত সময় পার করা তরুণীরা অন্যদিকে যৌবনের মূল্যবান সময় পার করতে চললেও ধর্মীয় ও সামাজিক নিয়ম মেনে বিয় করতে সাহস করছেনা অসংখ্য যুবক।

এই দুই অভিশাপের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে চট্টগ্রামের ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ “উচ্চ কাবিন ও যৌতুক বিরোধি ফোরাম’।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ নোমান ২০১৯ সালের দিকে এ ফোরামের প্রতিষ্টা করেন। বর্তমানে ফোরামের গ্রুপে ৮ হাজারের অধিক সদস্যা ও ৫ হাজারের অধিক পেজ ফলোয়ার রয়েছে।

রয়েছে এক ঝাক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও শিক্ষক সমৃদ্ধ এডমিন প্যানেল। যারা প্রতিনিয়ত অনলাইন-অফলাইনে যৌতুক এবং উচ্চ কাবিনের কুফল ও উত্তরণের পথ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ফোরামের আহবায়ক ও প্রতিষ্টাতা আব্দুল্লাহ নোমান বলেন, যৌতুক ও উচ্চ কাবিনের অভিশাপের ফলে সামাজিক অপরাধগুলোর উপর গবেষণা করে আমি ২০১৯ সালে “যৌতুক ও উচ্চ কাবিন বিরোধী ফোরাম” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলি। অল্পদিনের মধ্যে শিক্ষিত ও তরুণ প্রজন্মের নজর কাড়ে গ্রুপটি। ধীরে ধীরে ফেসবুক গ্রুপটি রুপ নেয় একটি সামাজিক আন্দোলনের।

এ পর্যন্ত ফোরামের কার্যক্রম ও সফলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নোমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং বিনোদনস্থলসমূহে উচ্চ কাবিন ও যৌতুক বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করেছি। জনগমস্থলে করেছি সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা ক্যাম্টেইন। আমরা যেখানে গিয়েছি সেখানে জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক কর্তাব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছি।

কোন ধরনের যৌতুক ছাড়া বিয়ে করা এমন যুবকদের ধন্যবাদ স্বরুপ ও অন্যদের উতসাহ দিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছি।আমাদের এ কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সায়েদুল আরেফীন মহোদয় সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ফোরামকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করেছেন।

ফোরামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে এ আন্দোলনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে। আমাদের ফোরামটি চট্টগ্রামকে ঘিরে প্রতিষ্টালাভ করলেও সামাজিম যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সাথে বিভিন্ন জেলার অনেক তরুণ-তরুণী যুক্ত হচ্ছেন। তারাও এ আন্দোলন স্ব স্ব জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা পূণর্ব্যক্ত করছেন। এক্ষেত্রে আমরা প্রশাসন ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

আই.এ/

মন্তব্য করুন