আল্লামা শফী রহ. এর ইন্তেকাল নিয়ে তদন্তের দাবিতে ৮ দফা প্রস্তাবনা

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় প্রভাবশালী আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. এর জীবনের শেষ দুইদিনের ঘটনাবলী ও হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে ‘বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি’ করে ৮ দফা প্রস্তাবনা আকারে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ একাধিক আলেম ও আল্লামা শফী রহ. এর খলিফাবৃন্দরা।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার)  বিকাল ০৩ টায় বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সদ্যপ্রয়াত হেফাজত আমির আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে এই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়।

ঘোষনাপত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও আল্লামা শফী রহ. শেষ জীবনে মৃত্যুকালে কিছু ছাত্রদের হাতে নিজ কক্ষ ভাংচুর হতে দেখা, জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রেরিত ৮ দফা ঘোষণাপত্র নিম্নরুপ :

সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ভক্ত ও খলিফাদের পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রস্তাবনা।

১- আল্লামা শাহ আহমদ শফী বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়েই সমাদৃত ছিলেন। কিন্তু তার সঙ্গে শেষ সময়ে যে আচরণ করা হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক। সারা জীবনের তালিম দেয়ার পরিণতিতে মৃত্যুকালে তিনি কিছু ছাত্রদের হাতে কক্ষ ভাংচুর দেখে গেলেন। জীবন দিয়ে যে মাদ্রাসা গড়েছেন সেখান থেকে তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এ পুরো বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

২- জীবনের শেষ দুই দিন আল্লামা আহমদ শফী কোন অবস্থার মধ্যদিয়ে অতিবাহিত করেছেন, সেটি এখন বিভিন্নভাবে আমরা প্রকাশ হতে দেখছি। অত্যন্ত লজ্জার কথা, হাটহাজারী মাদ্রাসার মতো স্থানে শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফীর কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যেহেতু আল্লামা শফীর রুমসহ হাটহাজারী মাদ্রাসার বিভিন্ন শিক্ষকদের রুমে তাণ্ডবের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে, তাই আমরা পুরো বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

৩- পারিবারিক ও বিভিন্ন সূত্রে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, হযরতের কক্ষে ভাঙচুরের সময় তাকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং এরমধ্যে বিভিন্ন সময় তিনি অক্সিজেন নিতে পারেন নি। এরসঙ্গে কারা জড়িত তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে প্রতিটি অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হযরতের পরিবার ও ভক্তরা মনে করেন, যে পরিস্থিতে হযরতের ইন্তেকাল হয়েছে এটি স্বাভাবিক ছিলো না।

কারণ মেডিসিন নিতে না দেয়া, অক্সিজেন খুলে ফেলা , হাসপাতাল নিতে বাধা প্রদান, মাদ্রাসার গেইটে দুই ঘন্টা এম্বুলেন্স আটকে রাখা- এসব বিষয় সে বিষয়টিই প্রমাণ করে।

৪- আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বা শিক্ষকরা প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু হাটহাজারী মাদ্রাসার সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি, সেখানে অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও দাবি তোলা হয়েছে। তাই এটির সঙ্গে বহিরাগত কোনো উসকানি বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে।

৫- উদ্বেগের বিষয় হলো- একটি মহল থেকে হাটহাজারীতে কোনো ভাঙচুর হয়নি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, এছাড়া বিভিন্নভাবে ভাঙচুরের আলামত বিনষ্ট করা হয়েছে। তাই সরকারিভাবে তদন্ত কমিটি করার আগে আলেমদের উদ্যোগে নিজস্বভাবে তা তদন্ত ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করব না।

৬- আল্লামা শফীর পরিবার, খাদেম ও ভক্তদের এখনই পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জানতে পেরেছি, তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে তাদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

৭- আমরা খুবই উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, হাটহাজারী মাদ্রাসার এ ঘটনার পর কিছু মানুষ সারাদেশে একটি উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। ‘হাটহাজারী স্টাইলে সারাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে তারা বিপ্লবের আহ্বানও জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশবরেণ্য আলেমদের ব্যাপারে সরাসরি বক্তৃতাসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে উসকানি দেয়া হচ্ছে। এ ধরণের হিংসাত্বক মনোভাব জাতির জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলো পরিহার করে আমরা সবাইকে ইসলামের শাশ্বত উদারতা ও শান্তির পথে আহ্বান জানাই।

৮- আজকের এ সভা খুব শিগগিরই আল হাইয়াতুল উলয়ার উদ্যোগে আল্লামা আহমদ শফীর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ছাড়া বাংলা, আরবি ও ইংরেজিতে হযরতের জীবনী ও স্বারকগ্রন্থ প্রকাশের অনুরোধ করছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন – মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, মাওলানা ওয়াহিদুজ্জামান, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম,  মাওলানা মুখলেছুর রহমান কাসেমী, মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী প্রমূখ।

মন্তব্য করুন