বেফাকের গঠনতন্ত্রে সভাপতি নির্ধারণের শর্তসমূহ জেনে নিন

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রাহি. এর ইন্তেকালের পর আলোচনায় এসেছে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন থাকা কওমি অঙ্গনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাচনের বিষয়টি।

বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সম্মিলিত শিক্ষা সংস্থা আল হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

একই সাথে আলোচনা চলছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচনের বিষয় নিয়েও। কারণ এই সবগুলো সংগঠনেরই প্রধান ব্যক্তি ছিলেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বেফাকের প্রধান নির্বাচনের বিষয়টিই। কারণ যিনি বেফাকের প্রধান হবেন তিনিই হবেন গঠনতন্ত্র অনুসারে হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান।

তবে বেফাকের সদর বা সভাপতি নির্ধারণের বিষয়ে বেফাকের গঠণতন্ত্রে পরিস্কার ভাবেই চারটি নিয়মবা মূলনীতি দেওয়া আছে। মূলনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো – ১. কোন রাজনৈতিক দলের কর্ম কর্মকর্তা বা সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত বা একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বা দায়িত্বশীল এমন ধরনের ব্যক্তি অত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য সদর হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

এছাড়াও আরো যে তিনটি শর্ত রয়েছে তা হলো – ২. উক্ত প্রতিষ্ঠানের সদরকে অবশ্যই হক্কানী আলেমে দীন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, বিবেচনা শক্তির অধিকারী, কর্মতৎপর, বেফাকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি আস্থাশীল ও বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সকলের আস্থা ও শ্রদ্ধাভাজন, হক্কানী কোন বুযুর্গের নিসবতওয়ালা  যুগ চাহিদার সম্পর্কে সচেতন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি অগ্রগতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে।

৩.  যারা প্রতিষ্ঠানের সদর বা নায়েবে সদর হবেন তাদেরকে অবশ্যই নিয়মিত বেফাকের সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মাদ্রাসার কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি হতে হবে।

৪. বেফাকের প্রতি আন্তরিক, বেফাকের হিতাকাঙ্খী, এবং বেফাকের প্রতি যাদের ত্যাগ রয়েছে এমন ধরণের ব্যক্তিত্ব হতে হবে।

এই চার শর্তের ভিত্তিতেই বেফাকের গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রধান ব্যক্তি নির্বাচিত হবেন।

মন্তব্য করুন