তালেবানের সাথে না পেরে নিরীহ জনগণের উপর হামলা করছে আফগান সরকার

প্রকাশিত: ৬:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

আন্তঃআফগান শান্তি আলোচনার মধ্যে তালেবানরা তাদের যুদ্ধ পরিস্থিতি কঠোর করার পর দিশেহারা হয়ে পড়ছে আফগান সরকার। গত এক সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আফগান সরকারের সিকিউরিটি গার্ডের উপর তালেবানের আক্রমনে পর্যদুস্ত হয়ে পড়েছে আফগান সরকার।

দিশেহারা হয়ে এলোপাথারি বিমান হামলা শুরু করেছে আফগান সরকার। গত শনিবার থেকে রবিবার পর্যস্ত দুই দিনে কল্পিত তালেবান ঘাঁটিতে দুটি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১২ বেসামরিক নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছে বলে একটি প্রাদেশিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা, যারা বলেছিলেন যে এই হামলায় ৪০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে, তারা কোনও বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা বলেছিল যে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কোনো তালেবান সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি তালেবানের নেতৃবৃন্দ।

তালেবানদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এই বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ১৭ জন আহত হয়েছে। তালেবানের কোনো সদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি তারা।

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য ফাতেমা আজিজ বলেছেন – প্রথম হামলাটি তালেবান ঘাঁটিতে আঘাত করেছিল কিন্তু দ্বিতীয় হামলার আগে বোমা বিস্ফোরণের স্থানে বেসামরিক জনগণ জড়ো হওয়ার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে”।

তিনি বলেছিলেন যে কুন্দুজ প্রদেশের খানবাদ জেলায় ১১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, এই বিমান হামলায় শিশুসহ ১২ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গিয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছে। তবে তিনি বলেছিলেন যে বেশ কয়েকজন তালেবান সদস্যও নিহত হয়েছে।

অপরদিকে কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়া শান্তি আলোচনার সংলাপে আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের বিষয়ে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তালেবানের প্রতি যুদ্ধবিরতি বন্ধের আহবান জানিয়েছিলো আফগান সরকান।

তালেবানের পক্ষ থেকে যে আহবান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক ভাষণে তালিবান জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা শুরু থেকেই আফগানিস্তানে “ইসলামী শাসন ব্যবস্থা” প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই “আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু” হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তারা দৃঢ়ভাবে বলেছে – আফগানিস্তানে ইসলামী শাসন ব্যবস্থাই কেবল শান্তি বয়ে আনতে পারে এবং দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধসহ আফগানিস্তানের সমস্যা সমাধান করতে পারে।

তালেবানরা বিদ্যমান আফগান শাসন ব্যবস্থাটিকে অবৈধ এবং তারা আমেরিকা দেশটির দখলদার হিসাবে অভিহিত করেছে।

তবে আফগান সরকার তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটিকে পুরোপুরি ইসলামী ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে তালেবান সংলাপকারীদের সাথে আলোচনায় এ বিষয়ে কোনও আপস না করারও অঙ্গীকার করেছে। সূত্র : ডেইলি সাবাহ।

মন্তব্য করুন