আফগানে ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনো আলোচনা নয় : তালেবান

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০
তালেবান। ছবি : আনাদুলু এজেন্সি।

কাতারের রাজধানী দোহায় এক সপ্তাহব্যাপী চলমান আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে আন্ত:আফগান শান্তি আলোচনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারে দু দলের কেহই।

শনিবার প্রকাশিত তালেবানে একটি সাপ্তাহিক বিবৃতিতে তালিবান জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা শুরু থেকেই আফগানিস্তানে “ইসলামী শাসন ব্যবস্থা” প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই “আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু” হওয়ার আহবান জানিয়েছে।

তারা দৃঢ়ভাবে বলেছে – আফগানিস্তানে ইসলামী শাসন ব্যবস্থাই কেবল শান্তি বয়ে আনতে পারে এবং দুর্নীতি ও অন্যান্য অপরাধসহ আফগানিস্তানের সমস্যা সমাধান করতে পারে।

তালেবানরা বিদ্যমান আফগান শাসন ব্যবস্থাটিকে অবৈধ এবং তারা আমেরিকা দেশটির দখলদার হিসাবে অভিহিত করেছে।

তবে আফগান সরকার তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থাটিকে পুরোপুরি ইসলামী ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে তালেবান সংলাপকারীদের সাথে আলোচনায় এ বিষয়ে কোনও আপস না করারও অঙ্গীকার করেছে।

অপরদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই তালেবান তাদের যুদ্ধপরিস্থিতি আরও মজবুত করেছে। গত এক সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আফগান সরকার বাহিনীর উপর ২৫টিরও বেশি হামলা করেছে তালেবান যোদ্ধারা। ফলাফলে তালেবানের সাথে না পেরে নিরিহ জনগণের উপর হামলা করছে আফগান সরকার।

গত শনিবার থেকে রবিবার পর্যস্ত দুই দিনে কল্পিত তালেবান ঘাঁটিতে দুটি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১২ বেসামরিক নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছে বলে একটি প্রাদেশিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা, যারা বলেছিলেন যে এই হামলায় ৪০ জনেরও বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে, তারা কোনও বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা বলেছিল যে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে কোনো তালেবান সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি তালেবানের নেতৃবৃন্দ।

তালেবানদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এই বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ১৭ জন আহত হয়েছে। তালেবানের কোনো সদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি তারা।

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদ সদস্য ফাতেমা আজিজ বলেছেন – প্রথম হামলাটি তালেবান ঘাঁটিতে আঘাত করেছিল কিন্তু দ্বিতীয় হামলার আগে বোমা বিস্ফোরণের স্থানে বেসামরিক জনগণ জড়ো হওয়ার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে”।

তিনি বলেছিলেন যে কুন্দুজ প্রদেশের খানবাদ জেলায় ১১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, এই বিমান হামলায় শিশুসহ ১২ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গিয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছে। তবে তিনি বলেছিলেন যে বেশ কয়েকজন তালেবান সদস্যও নিহত হয়েছে।

মন্তব্য করুন