আল্লামা শফীর জানাযাই প্রমান : হেফাজতি চেতনা এখনও বেঁচে আছে

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

আবদুল্লাহ আল ফারুক

আল্লামা আহমদ শফি রহ. এর জানাযায় স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনতার বাঁধভাঙ্গা উপস্থিতি দেখে বাংলাদেশের শাহবাগি ও বিদআতি মহল ব্যর্থ আক্রোশে ফেটে পড়ছে।

তসলিমা নাসরিন, আসিফ মুহিউদ্দীন ও প্রভাষ আমিনদের ওয়ালে চলছে বিধবার আর্তনাদ। মৃত আহমদ শফিও যে শয়তানের দোসরদের জন্যে আজরাইলি বিভীষিকা, তা তাদের বিলাপ থেকে পরিস্কার প্রকাশ পাচ্ছে।

আজকের জানাযা প্রমাণিত করলো, ২০১৩ থেকে ২০২০- বাংলাদেশের হিফাজতি চেতনায় একটুও আঁচ পড়েনি। বরং এদেশের বিশ্বাসী জনতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক সতর্ক ও সংঘবদ্ধ। সময়-সুযোগমত এ বারুদ জ্বলে উঠতে এক মুহূর্তও দেরি হবে না, ইনশাআল্লাহ।

যারা মনে করতো, চেতনা হিমঘরে চলে গেছে, তারা এখনো বোকার স্বর্গে বাস করছে।

হাটহাজারি মাদরাসা পরিচালনার জন্যে তিন সদস্যের মজলিসে এদারি নির্ধারণের মাধ্যমে মজলিসে শূরা আজ একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পেশ করল। বাংলাদেশের সকল দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সামনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল। ফেতনার এ জামানায় শূরার কোনো বিকল্প নেই।

দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে অসংখ্য ইতিবাচক গুণের পাশাপাশি অল্পবিস্তর যে ত্রুটিগুলো বিদ্যমান, তা হলো প্রতিষ্ঠানপরিচালনায় একনায়কতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের অনুপ্রবেশ। এই মহামারী আজ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ফোকলা করে ফেলছে। আজকের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখাবে, ইনশাআল্লাহ।

আজকের অনেক বড় অর্জন, হাটহাজারি হযরতের একটিমাত্র জানাযার নামায আয়োজন করা। আজ যদি ঢাকায় জানাযা হতো, তাহলে সেখানে হাটহাজারির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি জনতা উপস্থিত হয়ে ৬ এপ্রিল ও ৫ই মের মতো পুরো ঢাকাকে অচল করে ফেলতো। অসংখ্য শুকরিয়া যে, সেই আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে একটি মৃতপ্রায় সুন্নাহকে জাগিয়ে তোলা হয়েছে।

দিনশেষে সকল কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর।

প্রসঙ্গত : আধুনিকোত্তর এই বাংলাদেশের সর্বপ্রভাবের আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী গত পরশু শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

তার ইন্তেকালে শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়ে মুসলমানরা। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বের মুসলমানরাও তার জন্য চোখের পানি ঝড়ায়। তার মৃত্যুর জানাযা নামাজ বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস তৈরি করে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার হাটহাজারী মাদরাসা মাঠে দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত এই জানাযায় স্মরণকালের সর্ববৃহত গণজমায়েতের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের সকল প্রান্ত থেকে বাধভাঙ্গা জোয়ারের মত মানুষ জমা হতে থাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হতে হতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় হাটহাজারী মাদরাসার চতুর্প্বার্শের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা।

স্মরণকালের সর্বৃবৃহত এই জানাযার মাধ্যমে বিদায় দেওয়া হয় বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনের এই মুকুটহীন সম্রাটকে।

মন্তব্য করুন