আল্লামা শফী রহ. জানাযায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে ছিলো ইসলামী আন্দোলন : মামুনুল হক

প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত ইসলামী নেতা আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহর জানাযায় ‘স্বেচ্ছাসেবকের’ দায়িত্ব পালনে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীরা।

আল্লামা শফী রহ. এর জানাযার খাটিয়া জামায়াত নেতারা কাঁধে নিয়ে প্রকাশ করা কয়েকটি ছবি নিয়ে গণমাধ্যম ও ফেসবুকে চলমান বিতর্ক ও আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি আল্লামা মামুনুল হকের নাম জড়িয়ে কিছু সংবাদ ও আলোচনা তৈরি হওয়ায় জবাবমূলক এক লেখায় তিনি এ দাবি করেছেন।

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের হাতে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব থাকা সত্বেও আল্লামা শফী রহ. এর মৃতদেহ বহনকারী খাটিয়া জামায়াত নেতারা কিভাবে নিলো এ প্রশ্নও রেখেছেন তিনি। একই সাথে বিষয়টিতে তাদের ব্যর্থতা হিসেবেও উল্যেখ করেছেন মাওলানা মামুনুল হক।

[হাটহাজারী মাদরাসার প্রধান গেইটে শৃঙ্খলার কাজে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা টিম। ছবি : নিজাম উদ্দিন।]

  • এ বিষয়ে মাওলানা মামুনুল হকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া “আল্লামা আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহর জানাযার খাটিয়া বহনের প্রকৃত ঘটনা কী?” একটি পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো পাবলিক ভয়েস পাঠকদের জন্য।

আল্লামা আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহর জানাযার খাটিয়া বহনের প্রকৃত ঘটনা কী?

শাইখুল ইসলাম  আল্লামা শাহ আহমদ শফী রাহিমাহুল্লাহর জানাযায় যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, সেটা তো বলাই বাহুল্য ৷ সারাদেশ থেকে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে শাইখুল ইসলামকে শেষ বিদায় জানানোর জন্য হাটহাজারীতে একত্রিত হয়েছিল তাতে ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় জানাযায় পরিণত হয়েছে ৷ ইতিহাসের কিংবদন্তি এই মহান ব্যক্তিত্বের সাথে আমার ব্যক্তিগত বায়আতের সম্পর্ক ছিল ৷

আমি হযরত শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহর হাতে বায়আত গ্রহণকারী একজন শীষ্য ৷ তাই হযরতের প্রতি ব্যক্তিগত মুহাব্বাত ও ভালোবাসার তাগিদ থেকেই জানাজায় অংশগ্রহণ করার অভিপ্রায়ে লাখো মানুষের সাথে আমিও ছুটে যাই হাটহাজারী ৷ শাইখুল ইসলামের জানাযা এবং তার দাফনসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও তাঁর পরিবারবর্গের দায়িত্বে পরিচালিত হতে দেখেছি ৷
আমরা জানাজার উদ্দেশ্যে হাটহাজারী পৌঁছেছিলাম ভোরবেলায় ৷ তখনো শাইখুল ইসলামের মরদেহ (মৃতদেহ) হাটহাজারী পৌছেনি ৷ ফলে হযরতের অন্তিম মুখাবয়ব দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল না ৷ ফলে জানাজার পূর্বমুহুর্তে আমি গিয়েছিলাম শাইখুল ইসলামকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ৷ গিয়ে দেখি ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সের গ্লাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৷

এম্বুলেন্সযোগে লাশ মাদরাসার মাঠ থেকে হাটহাজারী ডাকবাংলো চত্বরে নিয়ে যাওয়া হবে ৷ উপস্থিত সেখানে তেমন কোনো দায়িত্বশীলকে আমি পাইনি ৷ দূর থেকে মাইকে ঘোষনা দেয়া হচ্ছিল, অ্যাম্বুলেন্স যেন মাদ্রাসা মাঠ থেকে ডাকবাংলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের সহযোগিতায় আমিও পাশের সিটে বসে অ্যাম্বুলেন্সের সাথে ডাকবাংলো চত্বরের দিকে যাই ৷ ডাকবাংলো চত্বর শক্তিশালী গেটের দ্বারা সংরক্ষিত ৷ সেখানে যখন গাড়ি পৌঁছে,  সেখানে ছিল শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ৷ আর মূল ফটকের মুখে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নাম লেখা এ্যাপ্রোণ পরিহিত স্বেচ্ছাসেবক ৷

ডাকবাংলোর গেট খুলে কারা ভিতরে প্রবেশ করল, আর কারা করল না এ বিষয়টির নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্পূর্ণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আর ইসলামী আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে ৷

কাকে ভিতরে ঢুকতে দিবে আর কাকে ঢুকতে দিবে না এ বিষয়ে আমার কোনো দায়িত্ব ছিল না, কিছু করারও ছিল না৷ কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন হাটহাজারীর স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শাইখুল ইসলামের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও মাদ্রাসার একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ৷ সেখানে ব্যক্তিগতভাবে আমি চেষ্টা করেছি  তাদেরকে সহযোগিতা করার ৷

জানাযা শেষে যখন খাটিয়া বহন করা হয় তখন অনেকেই এগিয়ে আসে খাটিয়া বহন করতে ৷ আমি খাটিয়ার বাঁ পাশে ছিলাম৷ জামাতে ইসলামীর দু-চারজন লোক সেখানে দেখতে পাই, তারা আমার পাশ দিয়ে খাটিয়া ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অন্য প্রান্তে গিয়ে তাদের একজন খাটিয়ার হাতল স্পর্শ করে এবং ছবি তুলে৷

গতকাল থেকেই লক্ষ করলাম বিষয়টি নিয়ে কিছু কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে ৷ এ বিষয়ে আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, কারা জানাযার কাছে গেল কারা খাটিয়া বহন করল, এ বিষয়ের দায়-দায়িত্ব প্রথমত হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের, দ্বিতীয়ত শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহর পরিবার থেকে নির্ধারিত জানাযা ও দাফনসহ সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ১০ সদস্যের,  তৃতীয়ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, চতুর্থত স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে নিয়োজিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা ও কর্মীবৃন্দের ৷

নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নিছক জানাযায় অংশগ্রহণকারী একজন ব্যক্তি হিসেবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি নিজেদের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া ছাড়া আর কী হতে পারে?

প্রসঙ্গত : আধুনিকোত্তর এই বাংলাদেশের সর্বপ্রভাবের আলেম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিটে রাজধানী ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

তার ইন্তেকালে শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়ে মুসলমানরা। বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বের মুসলমানরাও তার জন্য চোখের পানি ঝড়ায়। তার মৃত্যুর জানাযা নামাজ বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস তৈরি করে।

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার হাটহাজারী মাদরাসা মাঠে দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত এই জানাযায় স্মরণকালের সর্ববৃহত গণজমায়েতের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের সকল প্রান্ত থেকে বাধভাঙ্গা জোয়ারের মত মানুষ জমা হতে থাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। বেলা গড়িয়ে দুপুর হতে হতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় হাটহাজারী মাদরাসার চতুর্প্বার্শের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা।

স্মরণকালের সর্বৃবৃহত এই জানাযার মাধ্যমে বিদায় দেওয়া হয় বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গনের এই মুকুটহীন সম্রাটকে।

মন্তব্য করুন