নেমে এল শোকের ছাঁয়া, কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাটহাজারী

প্রকাশিত: ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরকে শেষবারের মতো দেখতে লাখো মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। 

আল্লামা আহমদ শফীর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে সারাদেশ থেকে হুজুরের ছাত্র, বিভিন্ন মাদ্রসার শিক্ষক, মুরিদসহ দলে দলে হাটহাজারী উপস্থিত হয়েছেন বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ। ফজরের নামাজের পর থেকেই মাদ্রাসার মাঠে ছাত্র শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ করা  গেছে। হাটহাজারীতে এই মুহূর্তে তিল ধারণের জায়গা নেই। আশপাশের গ্রাম থেকে ছুটে আসছে বহু মানুষ।

হাটহাজারী এলাকা জুড়ে যেন নেমে এসেছে শোকের ছাঁয়া। হুজুরের ভক্তরা যেন কিছুতেই সংবরণ করতে পারছে অশ্রু। প্রিয় মানুষটির বিদায়ে হু হু কেঁদে ফেলছেন অনেকে। মাদ্রাসা প্রঙ্গণের বাতাস কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা থেকে আল্লামা শফীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স হাটহাজারী মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশ করে। এই মাঠেই হুজুরকে শেষ দেখার জন্য রাখা হয়েছে। শেষবারের মতো দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন হাজারো ছাত্র শিক্ষক, শুভাকাঙ্খী ও ভক্তরা। একনজর দেখার জন্য মাদ্রাসা মাঠে দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তারা।

হুজুর ভক্তরা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এ বিদায়।

হুজুরের ইন্তেকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালে জাতি একজন অভিভাবক হারিয়েছে, জগতে যে শূন্যতা তৈরি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়।

প্রসঙ্গত, আল্লাামা শাহ আহমদ শফি ১৯৮৬ সালে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদে যোগ দেন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর ধরে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় উচ্চতর ডিগ্রীধারী আল্লামা শফি শিক্ষাজীবন শুরু করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা মাদ্রাসায়। সেখান থেকে পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) লেখাপড়া করেন তিনি।এর পর হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষে তিনি ভারতের দেওবন্দ মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা নেন ।

আল্লামা শাহ আহমদ শফি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।

আল্লামা শফির ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী হেফাজতের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক ছিলেন। বড় ছেলে মাওলানা মোঃ ইউছুফ আল্লামা শফির নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার পরিচালক (মুহতামিম) হিসেবে কর্মরত আছেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন