বাংলাদেশের সর্বপ্রভাবের আলেম আল্লামা শফীর ইন্তেকাল

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম, বাংলাদেশের সর্বপ্রবীণ ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ইন্তেকাল করেছেন। ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টার সময় ঢাকা আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর।

তার ইন্তেকালে বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে একটি বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হল। বাংলাদেশের ইসলামে অঙ্গনে নেমে এলো নেতৃত্বশূন্যতা বিরাট নজীর।

তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে সেখান থেকে তাকে আজ সন্ধ্যা ৬ টায় এয়ার এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আজগর আলী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তার মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেন।

হাসপাতালে অবস্থানরত কয়েকটি সূত্র বিষয়টি পাবলিক ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতররাতে  হার্টে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ডাক্তাররা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেছিল।

প্রসঙ্গত : আল্লামা শাহ আহমদ শফী আধুনিকোত্তর বাংলাদেশের সর্বাধিক পরিচিত একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ। একাধারে তিনি বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক এবং বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর ছিলেন।

তিনি ১৯২০ (উইকিপিডিয়া) সালে মতান্তরে ১৯১৫ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়ারটিলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম বরকত আলী ও মায়ের নাম মরহুমা মেহেরুন্নেছা। ১০ বছর বয়সে তিনি আল্-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় ভর্তি হন।

ওই বয়সে কিছুদিনের মধ্যে তিনি পিতা-মাতা উভয়কে হারান। এরপর একটানা ১০ বছর আল্-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় অতিবাহিত করেন। ২০ বছর বয়সে (১৯৪১ সালে) তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় ভর্তি হন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আলেমদের কাছে দূর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল এ মাদ্রাসাটি। ওই সময় তিনি শায়খুল আরব ওয়াল আজম, সাইয়্যেদ হুসাইন আহমাদ মাদানীর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। অল্প সময়েই তিনি খেলাফতপ্রাপ্ত হন। তিনি তৎকালীন স্বীয় উস্তাদ মাদানী রহ. এর নেতৃত্বে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদেন।

কর্মজীবনে আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী একাধারে চার বছর অধ্যয়ন ও বিশ্ববিখ্যাত ধর্মগুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমে হাদিস, তাফসির, ফিকাহশাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি আল্লামা মাদানীর প্রতিনিধি হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। এরপর চট্টগ্রামে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলামে শিক্ষক হিসেবে তিনি নিযুক্ত হন। ১৪০৭ হিজরিতে তিনি এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালকের পাশাপাশি শায়খুল হাদিসের দায়িত্বও তিনি পালন করে গেছেন।

বাংলাদেশে আল্লামা শফীর প্রভাব : বাংলাদেশে সর্বাধিক প্রভাব রাখা আলেমদের একজন ধরা হয় আল্লামা শফীকে। দেশে অনসৈলামিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ও নাস্তিকদের শাস্তির দাবিতে তাঁর ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশে সর্বাধিক প্রভাব তৈরি করে।

এছাড়াও ভারতে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদ, ফারাক্কা বাঁধ নির্মানের প্রতিবাদ, তাসলিমা নাসরীন খেদাও আন্দোলনসহ সরকারের ফতোয়া বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে তৎকালীন সময়ে আল্লামা শফি ছিলেন প্রথম সারিতে।

তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলী :

উর্দূ
• ফয়জুল জারী (বুখারীর ব্যাখ্যা)
• আল-বায়ানুল ফাসিল বাইয়ানুল হক্ব ওয়াল বাতিল
• ইসলাম ও ছিয়াছাত
• ইজহারে হাকিকাত
বাংলা
• হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্ব
• ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা
• ইসলাম ও রাজনীতি
• সত্যের দিকে করুন আহবান
• সুন্নাত ও বিদ’আতের সঠিক পরিচয়

  • দেশবরেণ্য এই আলেমের মৃত্যুতে পাবলিক ভয়েস পরিবার শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

মন্তব্য করুন