আল্লামা আহমদ শফীর চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) পদ থেকে পদত্যাগ করার পর অসুস্থতাবোধ করায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের ৩য় তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ৮ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, শফী হুজুর হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার অবস্থা উন্নতির দিকে।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন আল্লামা শফী। রাতে হাটহাজারী মাদরাসার শুরা সদস্যদের বৈঠকে  এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে বৈঠকে তাকে হাটহাজারী মাদরাসার উপদেষ্টা হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাদরাসার মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী।

এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে ‘সম্মানজনকভাবে’ অব্যাহতি দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ, আল্লামা শফির ছেলে আনাস মাদানিকে মাদরাসা থেকে অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন মাদরাসার একদল শিক্ষার্থী।

একপর্যায়ে মাদরাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিয়ে মাদরাসার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুধবার রাতেই আনাস মাদানিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মজলিশা শুরার এক বৈঠকে। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওপর ‘নির্যাতন’ বন্ধ করার অঙ্গীকারসহ কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৪ আগস্ট কওমি মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কতিপয় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করা হয়। ‘কিন্তু আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসাটি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্দেশক্রমে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

তবে এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ফের বৈঠকে বসেন হাটহাজারী মাদরাসার মজলিশে শুরার সদস্যরা। সেখানে আল্লামা শাহ আহমদ শফি তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পরপরই আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষণা করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

আই.এ/

মন্তব্য করুন