হাটহাজারী ছাত্রদের কোনো সমস্যা হলো ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হবে : নুরুল হক

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০
Any problem of Hathazari students is that Dhaka will be blocked: Nurul Haque

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় চলমান আন্দোলনে কোনো ছাত্রদের উপর হামলা মামলা হলে ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার চলমান আন্দোলনকে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যে আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠিত হওয়া একটি সংহতি সম্মেলনে নুরুল হক নুর ও মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা এ বক্তব্য রাখেন।

হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা : শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন জারী

নুরুল হক বলেন – আপনারা যারা মাদ্রাসার ছাত্ররা আন্দোলন করছেন আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবেন।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমি হুঁশিয়ার করে দিতে চাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় কোন ছাত্রদের উপর যদি আজকে রাতে বা কখনও আঘাত আসে তাহলে আগামীকালকে পুরো ঢাকা শহর অবরোধ করে দেয়া হবে।

মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্যে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন – একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই এখানে কোন রাজনৈতিক নেতার পরিচয় হিসেবে আমি আসিনি বরং এখানে উপস্থিত হয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে।

তিনি বলেন আপনারা দেখেছেন হাটহাজারী মাদরাসায় যে ক্ষোভ কালকে বহিঃপ্রকাশ হয়েছে এটা কোন একদিনের ক্ষোভ নয় বরং ছাত্রদের মধ্যে থাকা দীর্ঘদিনের অত্যাচার নির্যাতনের ধারাবাহিকতার ক্ষোভ। তাই কোন হঠকারিতার আশ্রয় না নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্রদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।

সংহতি সমাবেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক এম শোযাইব হোসেন বলেন – কওমি মাদ্রাসা যে ধারাবাহিকতা কওমি মাদ্রাসার যে ঐতিহ্য সেটা একদিনের নয় বরং সেই ঐতিহ্য ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। সে হিসাবে কওমি মাদ্রাসার জন্মই হয়েছে ফ্যাসিবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন – আপনারা জানেন হাটহাজারী মাদ্রাসায় যে ঘটনা ঘটেছে এটি একদিনের কোনো ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি কওমি মাদ্রাসাগুলোকে খুব গভীরভাবে ধ্বংসের পায়তারা চালাচ্ছে একটি অংশ। তাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে মুছে দেওয়ার জন্য একদল দালাল চক্র তাদের উপর জগদ্দল পাথরের মতো হাজির হতে চায়। তাই আমরা সচেতন সচেতন ছাত্র সমাজ বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা দেখতে চাই না। আমরা কোন নির্দিষ্ট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে নয় বরং আমরা শুধুমাত্র ‘ছাত্র’ পরিচয় হিসেবে ব্যাপারগুলোকে আলাদাভাবে চিন্তা করতে পারিনা।

তিনি বলেন গতকাল যে ঘটনা হাটহাজারী মাদ্রাসায় ঘটেছে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আজকে প্রশাসনের মাধ্যমে গোটা মাদ্রাসা কে ঘিরে রাখা হয়েছে যেন একটি খাঁচাবন্দি অবস্থা পরে আছে। এর সমাধান ও ছাত্রদের দাবি অতিদ্রুত মেনে নেওয়া উচিত।

অপরদিকে নুরুল হক নুর মানববন্ধনে মাদ্রাসাছাত্রদের আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা মাদ্রাসার ছাত্র না আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। যদি আমরা আন্দোলনের আহ্বান জানাই আপনারা কি নেমে আসতে পারবেন না?

তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রয়োজন হয় না বরং সিনা উঁচু করে দশজন দাঁড়ালেই হয়।

নুরুল হক বলেন – আমরা বারবার বলছি আমরা আনাস মাদানী তমুক মাদানী এটা চিনিনা। আমরা কারো পক্ষে বিপক্ষে না বরং ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি মানতে হবে এবং এর সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে আমাদের অবস্থান এটাই।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন – যদি সরকার এখানে নোংরা দলীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করে তাহলে এর পরিণাম সরকারকে ভোগ করতে হবে।

হেফাজত আন্দোলনের সময় ৫ ই মে রাতে আলেম-ওলামাদের ওপর সরকার আক্রমণ করেছে এবং তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দাবি করে তিনি বলেন সেদিন আপনারা হাস্যরস করে বলেছিলেন যে এখানে কোন আলেম মারা যায়নি বরং রং মেখে শুয়ে ছিল। এই বেঈমান সরকার বাংলাদেশে ইসলামের শত্রু এবং জনগনের শত্রু।

তিনি সবাইকে আহবান জানিয়ে বলেন বাম-ডান কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই বরং ছাত্রদের যৌক্তিক যে কোনো দাবি আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের ছাত্র তুহিন খান বলেন, বর্তমান সরকার কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের সকল চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করে বলেন, হাটহাজারী মাদ্রাসায় সরকার তাদের নিজেদের আজ্ঞাবহ লোকজন বসিয়েছে এবং ছাত্রলীগের যেই কাজ সেই কাজেই মাদ্রাসার হুজুররা করছে এভন।

তিনি বলেন হাটহাজারী মাদ্রাসা দীর্ঘদিন যাবত আল্লামা আহমদ শফীর সন্তান আনাস মাদানী একটি সরকারি বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং সরকারের পক্ষে বিভিন্ন কাজ করার চেষ্টা করছিল। গতকালকে যোহরের সময় ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে তার কারণ হলো এই ছাত্রদের ভর্তি আটকে রেখেছে এবং তাদের পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে। এরপর পরে তারা আন্দোলন করেন এবং তারা ছয় দফা দাবি দেন। তাদের এই আন্দোলন মেনে নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সোহরাব হোসেন, লালমাটিয়া মাদরাসার ছাত্র শরাফত শরিফসহ অনেকে।

মন্তব্য করুন