ফিলিস্তিনিদের কাঁদিয়ে ইসরাইলের সাথে চুক্তিসই সম্পন্ন করলো দুই আরব দেশ

প্রকাশিত: ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাতিফ আল-জায়ানী (বামে), ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজমিন নেতানিয়াহু (মাঝখানে), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (মাঝখানে) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (ডানে) এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের কপি দেখাচ্ছেন। ছবি : এএফপি।
  • ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে আরব আমিরাত ও বাহরাইনের ‘সম্পর্ক চুক্তি’ স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।

অবশেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আমেরিকার হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ইসরাইলের বৈরি দেশ বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সাথে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তুলতে ‘চুক্তিসই’ করলো।

ফিলিস্তিনিদের আবেগ ও অধিকারের কোনো মূল্য না দিয়েই আরব দেশগুলো ইসরাইলের সাথে আমেরিকার মধ্যস্থতায় এই নগ্ন ও ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এই চুক্তিসই স্বাক্ষর করলো।

অপরদিকে এই চুক্তিস্বাক্ষরের বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফিলিস্তিনের নাগরিকরা। তারা বলেছেন – এই চুক্তিস্বাক্ষর ফিলিস্তিনের পিঠে ছুরিকাঘাত। আরব বিশ্ব এমন চুক্তিস্বাক্ষর করে মূলত ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে।

[ইসরাইলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় চুক্তির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ। (ছবি : আনাদুলু)]

ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আরবের দুটি দেশ বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের বিশেষ একটি কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

করোনা ভাইরাস মহামারী থাকা সত্ত্বেও কয়েকশ অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল তবে চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক হ্যান্ডশেক করা হয়নি।

বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম আরব দেশ যারা ১৯৭৯ সালে মিশর এবং ১৯৯৪ সালে জর্দানের পর ইসরাইলের সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্যস্থতাকারী দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আশা করছেন যে এই চুক্তিগুলি আরব-ইসরাইলের মধ্যে একটি শান্তি প্রক্রিয়া তৈরিতে বড় সমাধান হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, “দশক দশকের বিভাজন ও সংঘাতের পরে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সূর্যোদয় দেখতে যাচ্ছি। সংঘাতের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে আমরা আজ সংঘাতময় দিনগুলোর পড়ন্ত বিকেলে এসে পৌঁছেছি।”

তিনি বলেছিলেন যে এই চুক্তিগুলো “পুরো অঞ্চল জুড়ে একটি বিস্তৃত শান্তির ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে” এবং “খুব শীঘ্রই অন্যান্য আরব দেশও এই চুক্তির সাথে একমত হবে।”

অনুষ্ঠানের আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের আশা আরও কমপক্ষে পাঁচ বা ছয়টি দেশ খুব দ্রুত এগিয়ে আসবে।”

ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলির নাম উল্লেখ না করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বৈঠক করার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সৌদি আরব শীগ্রই এই চুক্তির আওতায় আসতে পারে।

“সৌদি আরবের সাথে আমাদের এ বিষয়ে একটি সফল ও দুর্দান্ত আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি তাদের মন খুব উন্মুক্ত।” ট্রাম্প বলেছিলেন।

অপরদিকে নেতানিয়াহু এই দিনটিকে “ইতিহাসের মূল” ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ইহুদিবাদী কট্টর নেতা বলেছেন – “এটি শান্তির একটি নতুন ভোরের সূচনা করে”। “শেষ পর্যন্ত এটি আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বের স্থায়ী সমাধান হতে পারে।”

নেতানিয়াহুর মন্তব্যে আল-নাহিয়ান বলেছেন: “আমি আজ শান্তির হাত বাড়িয়ে শান্তির হাত পেতে এখানে দাঁড়িয়েছি।”

অপরদিকে ট্রাম্পঅনুষ্ঠানের আগে ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, এই চুক্তিগুলি ফিলিস্তিনিদের উপরও আলোচনার টেবিলে আসতে চাপ সৃষ্টি করবে এবং তারা নমনীয়তার দিকে ঝুঁকবে। স্পষ্ট করেই তিনি বলেছেন – “ফিলিস্তিনিরাও শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসবে”।

সূত্র : আনাদুলু, নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি সাবাহ।

মন্তব্য করুন