হাটাহাজারী মাদরাসায় অস্থিরতার সুষ্ঠু সমাধান চান নুরুল হক

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

হাটহাজারী মাদ্রাসায় চলমান অস্থিরতার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান নেতা নুরুল হক নুর।

একই সাথে হাটহাজারী মাদরাসার নিরিহ ছাত্রদের উপর কোনো হয়রানী করা হলে সারা দেশের ছাত্রদের নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

আজ সন্ধ্যায় ফেসবুকে তার নিজ পেজ থেকে হাটহাজারী মাদরাসার বর্তমান অবস্থার কয়েকটি ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন –

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। নিরীহ মাদরাসা ছাত্রদের উপর কোন ধরনের পুলিশি হামলা হলে সারা দেশের ছাত্রদের নিয়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ইস্যু বানাবেন না। কওমী মাদরাসাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক নোংরামি বন্ধ করুন।

প্রসঙ্গত : আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনে ছাত্ররা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো –

এক. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

দুই. ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তিন. শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।

চার. উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে।

পাঁচ. বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

জানা যায় – চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ এই কওমি মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক মতপার্থক্য চলে আসছিল। বিশেষ করে আল্লামা আহমদ শফীর সন্তান আনাস মাদানী এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

তার আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম মুফতি ইজহার ও তার সন্তান মুফতি হারুন ইজহার এর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। যে মতপার্থক্যের জের ধরে হেফাজত থেকে পারস্পরিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে।

এরপর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিয়েই ফটিকছড়ির প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথেও আল্লামা শফী ও তার পুত্রের মতবিরোধ হয়েছে।

সামগ্রিক এসব ঘটনা উপ-ঘটনা মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কওমি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা চলে আসছিল। সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক বেফাক বিষয়ক অস্থিরতাও।

করোনাভাইরাস মহামারী সময় পুরো লকডাউনের সময়টিতেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়গুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

এর মধ্যে গত মাসখানেক আগে হাটহাজারী মাদরাসা খোলার পর আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে দেয়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু মাদরাসা নিয়ে আল্লামা শফিপূত্রের বাড়াবাড়ি করাসহ অনেক সমস্যার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দৃশ্যমান প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলেও মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটহাজারী মাদরাসার আর একজন শিক্ষক।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মাওলানা আনাস মাদানী এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার দপ্তরে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে হাটহাজারী মাদরাসায় শুরা কমিটির বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

মন্তব্য করুন