হাটহাজারী মাদরাসার সামনে পুলিশের সতর্ক অবস্থান : শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ছাত্ররা

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় চলছে ছাত্রদের আন্দোলন। কওমী মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যার জের ধরে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।

মাদরাসার গেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সন্তান মাওলানা আনাস মাদানী ও মাওলানা নূরুল ইসলামের রুম ভাঙচুর করার একটি অভিযোগ এসেছে।

তবে ছাত্ররা উস্তাদদের রুমের সামনে গিয়ে মূলত তাদের দাবি আদায়ের ব্যাপারেই কথা বলছেন। ভাংচুরের মাত্রাও বেশি নয়। তাছাড়াও এখনও শ্লোগান শান্তিপূর্ণ অবস্থানেই তারা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে মাদরাসার গেটের বাইরে পুলিশের সতর্ক অবস্থান রয়েছে এবং তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। মাদ্রাসার গেট বন্ধ থাকায় পুলিশ ভিতরে ঢুকতে পারেনি। বাইরেই তারা সজ্জিত হয়ে আছেন।

আন্দোলনে ছাত্ররা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো –

এক. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

দুই. ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তিন. শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।

চার. উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে।

পাঁচ. বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

জানা যায় – চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ এই কওমি মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক মতপার্থক্য চলে আসছিল। বিশেষ করে আল্লামা আহমদ শফীর সন্তান আনাস মাদানী এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

তার আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম মুফতি ইজহার ও তার সন্তান মুফতি হারুন ইজহার এর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। যে মতপার্থক্যের জের ধরে হেফাজত থেকে পারস্পরিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে।

এরপর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিয়েই ফটিকছড়ির প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথেও আল্লামা শফী ও তার পুত্রের মতবিরোধ হয়েছে।

সামগ্রিক এসব ঘটনা উপ-ঘটনা মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কওমি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা চলে আসছিল। সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক বেফাক বিষয়ক অস্থিরতাও।

করোনাভাইরাস মহামারী সময় পুরো লকডাউনের সময়টিতেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়গুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

এর মধ্যে গত মাসখানেক আগে হাটহাজারী মাদরাসা খোলার পর আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে দেয়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু মাদরাসা নিয়ে বাড়াবাড়ি করাসহ অনেক সমস্যার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দৃশ্যমান প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলেও মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটহাজারী মাদরাসার আর একজন শিক্ষক।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মাওলানা আনাস মাদানী এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার দপ্তরে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন