আনাস মাদানিকে বহিস্কার : সাময়িক স্থগিত হাটহাজারী ছাত্রদের আন্দোলন

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

আজ জোহরের নামাজের পর থেকে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের মাধ্যমে শুরু হওয়া আন্দোলনের সাময়িক সমাপ্তি টানা হয়েছে। তবে শনিবার পূনরায় আন্দোলনে ফেরার যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে – মজলিসে শুরার মিটিংয়ের মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্রদের পাঁচটি দাবির মধ্যে মাওলানা আনাস মাদানীকে বহিস্কারসহ প্রধান তিনটি দাবি মেনে নিয়ে শুরা সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজির ঘোষণার মাধ্যমে। আজকের মত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

যে তিনটি সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো –

১. আল্লামা আহমদ শফীর পুত্র ও মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানী কে মাদ্রাসা থেকে অব্যহতি প্রদান।

২. মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত কোন ছাত্রকে কোন ধরনের হয়রানি এবং সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।

৩. আগামী ১৯ তারিখ শনিবারে নতুন করে শুরা বৈঠক ডেকে বাকি সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

আল্লামা শফির সভাপতিত্বে তার রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং আন্দোলনরত ছাত্ররা তা মেনে নিয়ে সাময়িকের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে। তবে শনিবার পর্যন্ত ক্লাশ বর্জনের একটি সম্ভাবনার কথাও তারা জানিয়েছে।

অপরদিকে মাদরাসার ছাত্রদের কোনো ধরণের ফেৎনা তৈরি না করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে মাদরাসায় অবস্থানের অনুরোধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে কথা বলা মাওলানা নোমান ফয়েজী।

আল্লামা আহমদ শফীর সভাপতিত্ব ও উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন – হাটহাজারী মাদ্রাসার মুঈনে মুহতামিম আল্লামা শায়খ আহমদ। মজলিসে শুরার সদস্য আল্লামা নোমান ফয়জী। মজলিসে শুরা সদস্য আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী। মজলিসে শুরার সদস্য মাওলানা ওমর ফারুক।

আরো ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মাওলানা আহমদ দীদার, মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ফোরকান, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী প্রমূখ।

প্রসঙ্গত : আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনে ছাত্ররা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলো হলো –

এক. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

দুই. ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তিন. শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।

চার. উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে।

পাঁচ. বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

জানা যায় – চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ এই কওমি মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক মতপার্থক্য চলে আসছিল। বিশেষ করে আল্লামা আহমদ শফীর সন্তান আনাস মাদানী এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

তার আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম মুফতি ইজহার ও তার সন্তান মুফতি হারুন ইজহার এর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। যে মতপার্থক্যের জের ধরে হেফাজত থেকে পারস্পরিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে।

এরপর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিয়েই ফটিকছড়ির প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথেও আল্লামা শফী ও তার পুত্রের মতবিরোধ হয়েছে।

সামগ্রিক এসব ঘটনা উপ-ঘটনা মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কওমি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা চলে আসছিল। সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক বেফাক বিষয়ক অস্থিরতাও।

করোনাভাইরাস মহামারী সময় পুরো লকডাউনের সময়টিতেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়গুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

এর মধ্যে গত মাসখানেক আগে হাটহাজারী মাদরাসা খোলার পর আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে দেয়।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু মাদরাসা নিয়ে আল্লামা শফিপূত্রের বাড়াবাড়ি করাসহ অনেক সমস্যার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দৃশ্যমান প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলেও মনে করছেন অনেকে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মাওলানা আনাস মাদানী এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার দপ্তরে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন