ভূজপুরকে থানা থেকে উপজেলায় পরিণত করা এখন গণদাবি

প্রকাশিত: ১:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০
ভূজপুরকে থানা থেকে উপজেলায় পরিণত করা এখন গণদাবি

এম ওমর ফারুক আজাদ

ভূজপুর ফটিকছড়ি উপজেলার অধীনস্থ একটি থানা। ২০০৭ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি নূর মোহাম্মদ এর হাতে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৪৮৬.৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এ থানার যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় একটি উপজেলার সমান এই থানার অধীনে রয়েছে ৬ টি ইউনিয়ন, ২ টি কলেজ ও একটি স্কুল এন্ড কলেজসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক  প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্কুল-মাদরাসা।

[ঐতিহাসিক হালদা নদী। মিঠাপানির দেশের এই বৃহত ও প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন কেন্দ্রটিও ভূজপুর থানায় অবস্থিত।]

প্রকৃতিক ও খনিজ সম্পদের মধ্যে ভূজপুর থানায় রয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাবার বাগান (দাঁতমারা রাবার বাগান – ৪,৫০০ একর) ও তারাকোঁ রাবার বাগান (৩,০০০ একর) ও সেমুতং প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র।

এছাড়াও দেশের ১৬৩টি ও ফটিকছড়ির ১৭ টি চা বাগানের মধ্যে শুধু ভূজপুরেই রয়েছে ১১ টি। তন্মেধ্যে হালদাভ্যালী চা বাগান এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক লেক বিশিষ্ট চা বাগান।

[এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাবার বাগান – দাঁতমারা রাবার বাগান – (৪,৫০০ একর)]

এতো কিছু সত্বেও এ জনপদের  প্রায় ২ লক্ষাধিক জনগন দীর্গদিন ধরে প্রশাসনিক সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেবায় রয়েছে পিছিয়ে। ভু’জপুর থানার ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়ন থেকে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ প্রায় ৩০ কিলোমিটার ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রায় ৪০ কিলোমিটারের দূরত্ব।

এতোদূর থেকে প্রশাসনিক মামলা-মোকদ্দমা ও চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এ অঞ্চলের মানুষদের জন্য রীতিমতো ভোগান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা ও বেশ কষ্টসাধ্য। এছড়া রাজনৈতিকভাবেও বড় দলগুলোর উপজেলা কমিটিতে ভূজপুরের নেতা-কর্মীরা থাকে উপেক্ষিত। যার কারনে যোগ্য নেতৃত্বও উঠে আসছেনা এ অঞ্চল থেকে। এসব নানবিধ  সমস্যাকে ঘিরে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মাঠে ময়দানে দাবি উঠছে ভূজপুর থানাকে উপজেলায় রুপান্তরকরণ নিয়ে।

[দৃষ্টিনন্দন হালদা রাবার ড্যাম। এটি পশ্চিম ভূজপুরে অবস্থিত।]

ইতোমধ্যে ফেসবুকেও খোলা হয়েছে গ্রুপ ও ইভেন্ট। যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামজিক সংগঠন, ছাত্র-শিক্ষক,পেশাজীবি ও ব্যবসায়িরা নিয়মিত উপজেলা গঠনের দাবিতে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতিও চলছে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচীর।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পাবলিক ভয়েসকে বলেন, দুইটি উপজেলা হলে জনগন সব দিক থেকে এখনের চেয়ে সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়াও জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে উন্নয়নের কাজ আরো তরান্বিত হবে।

ভূজপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলন, ভূজপুরকে উপজেলা রুপান্তর এখন সময়ের দাবি। এ জনপদের প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ নানাভাবে অবহেলিত। আমা দের ভূজপুর থেকে উপজেলা পরিষদ দূরে হওয়াতে আমরা অনেক ভোগান্তির শিকার হই।

[অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত চট্টগ্রামের বিখ্যাত জমিদার কাজী শাহাব উদ্দিন চৌধুরীর জমিদার বাড়ি। এটি ভূজপুর এলাকায় অবস্থিত। ব্রিটিশরা এখানে ফাঁসির কাজ করতো। পূর্বে ফটিকছড়ির সকল বিচারকার্য এ বাড়িতেই হতো।]

সামাজিক সেবামূলক সংস্থা চট্টগ্রাম ইহইয়াউস সুন্নাহ ফান্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নিজাম উদ্দীন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নিয়ে ভূজপুরের মানুষ শিক্ষা-উন্নয়ন ও চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি ভূজপুরকে উপজেলায় রুপান্তরের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলার দাবির পক্ষে যৌক্তিক বক্তব্য জানতে চাইলে কাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ি বাবু রঞ্জিত বড়ুয়া বলেন, ফটিকছড়ি একটি বিশাল উপজেলা। মন্ত্রণালয় থেকে এ উপজেলার জন্য যে বাজেট বরাদ্ধ হয় তা বিশাল এই অঞ্চলে সমান বন্টনের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হয় না। যার কারনে ভূজপুরের অনেক এলাকা এখনো উন্নয়ন থেকে দূরে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা হলে উন্নয়ন আরো তরান্বিত হবে।

এ ব্যাপারে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মর্তুজা এনামুল ইকবাল বলেন, ভূজপুরের জনগন শিক্ষা-দিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে। যদি উপজেলা বাস্তবায়ন হয় তাহলে শিক্ষার আলো এ অঞ্চলের গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়বে। তাই উপজেলা হোক এটা শিক্ষকদেরও প্রাণের দাবি।

[প্রতিবেদনটি করেছেন পাবলিক ভয়েসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ প্রতিনিধি এম ওমর ফারুক আজাদ। সার্বিক সহযোগিতা পাবলিক ভয়েস]

মন্তব্য করুন