বাটপারদের হাত থেকে ফুটবলকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যরিস্টার সুমনের অনুরোধ

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০

বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন দুর্নীতিবাজ, বাটপারদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে উল্যেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি, হবিগঞ্জে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন ফুটবল একাডেমির প্রধান ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি সহযোগিতা করেন এবং দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে দেন তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ফুটবলের এতোটা উন্নতি হবে তা কেউ চিন্তাও করেনি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে বাঁচাতে এবং বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বের শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করে ‘প্রজন্ম, ফুটবল যাদের চেতনাও ও অস্তিত্বে’ শিরোনামে প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান ব্যারিস্টার সুমন।

তিনি বলেন – আজকে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করতে যারা এসেছেন তারা কেহ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নেতা হতে আসে নাই। এখানে কেহই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দুর্নীতির ভাগ নিতে আসে নাই। এখানে যারা আসছে তারা বিবেকের টানে এসেছে দেশপ্রেমের টানে এসেছে এবং ফুটবলকে ভালোবেসে এখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন – এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে আমি বলতে চাই, আপনারা বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক। আপনারা নিজেদের সময় বের করে এখানে এসেছেন। আপনারা জানেন ফুটবল ফেডারেশনে একটি দুর্নীতির মহোৎসব চলতেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন –  বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যেখানে রুমে রুমে অফিসে অফিসে বসে ভাগ বাটোয়ারা করার একটি প্রক্রিয়া চলছে সেই সময় এখানে যারা ফুটবলের প্রেমে দাঁড়িয়েছে তবে তারা জানে না যে তাদের আওয়াজ ঠিকমতো ফুটবল ফেডারেশনের অফিসে যাবে কিনা।

তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে একটা কথা বলি আমি ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমি তৈরি করেছি মাত্র ৩ মাস হয়েছে। এই তিন মাসে আমি বুঝেছি আমাদের অ্যাক্যাডেমি যখন সিলেট বিভাগ এবং সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন একাডেমির সাথে সামান্য একটি উপজেলার প্লেয়ারদেরকে নিয়ে সবাইকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছি তখন আমি বুঝছি আমাদের ছেলেদের যোগ্যতার কম নয়।

তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বলেন কাজী সালাউদ্দিনকে লক্ষ্য করে বলেন – আমি আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি আপনি একজন ফুটবলার ছিলেন। আপনি ফুটবলার থাকার পরেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের গত ২৪ বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উন্নতির ধাপ শতভাগ নিচে নেমে গেছে।

তিনি বলেন আমি বলতে চাই আমাদের কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন আপনারা কি দেখেন না যখন সিলেটে ফুটবল খেলা হয়, যখন ফরিদপুরে ফুটবল খেলা হয়, মাদারীপুরে ফুটবল খেলা হয় তখন হাজার হাজার মানুষ খেলা দেখে আর যখন ফুটবল ফেডারেশন গাজী সালাউদ্দিন সাহেব এর নেতৃত্বে ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলা হয় তখন কোনো কোনো সময় একজন দর্শকও থাকেন না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন – আপনাদের কি বিবেকে লাগেনা? আপনি সালাহউদ্দীন সাহেবেরও হয়তো ছেলে মেয়ে রয়েছে আপনি হয়তো তাদেরকে ফুটবলার বানাবেন না_বানাবেন কি করে আপনি তো তাদেরকে ফুটবলার না বানালেও চলে কারণ আপনি তো আপনার ছেলেরা মেয়েদেরকে অর্থ সম্পদের মেশিন  বনায়া ফেলছেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিন্তু তারা এখন রাজাকারদের সাথে হাত মিলিয়ে রাজাকারদের থেকেও খারাপ অবস্থায় রয়েছে তেমনিভাবে গাজী সালাউদ্দিন নিজে ফুটবলার ছিলেন অথচ এই ফুটবলারদের জান-মাল টাকা-পয়সা নিয়ে লুটপাটের যে অভিযোগ উনার বিরুদ্ধে রয়েছে তাতে তিনি ফুটবলার হিসেবে আমাদের সমাজে গ্রহণযোগ্য আছেন বলে আমার কাছে মনে হয় না।

তিনি বলেন এখানে আপনারা দেখেছেন আমাদের কায়সার হাবিব সাহেবের মত সম্মানিত একজন ফুটবলার যখন আবেগের কথা বলেন তখন মনে হয় আমাদের আর যাওয়ার জায়গা নেই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন – আমি একটি কথা বলতে চাই আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামাল সাহেব উনি ফুটবল পছন্দ করতেন। অনেকে দাবি করে বলেন – শুনেছি যে, গাজী সালাউদ্দিন সাহেব বলে বেড়ান আমি শেখ কামাল সাহেবের বন্ধু। আমাকে আবার ফুটবল ফেডারেশন চেয়ারম্যানের পদ থেকে কে সরাবে! আমি যা ইচ্ছা তাই করবো।

ব্যারিস্টার সুমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন – যেহেতু আমাদের শেখ কামাল সাহেবের প্রেমের বস্তু ছিল ফুটবল। তাই উনি হয়তো বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ ফুটবলের এই অবস্থা হতো না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আপনার ভাই শেখ কামাল সাহেবের যেহেতু প্রেমের বিষয় ছিল ফুটবল, তার হৃদয়ে জায়গা ছিল ফুটবল তাই ফুটবলকে মাননীয় নেত্রী আপনি বাঁচিয়ে দেন। আপনার ভাইয়ের আত্মা শান্তি পাবে।

অন্তত বাটপারদের হাতে ফুটবল ফেডারেশনকে ছেড়ে দিয়েন না বলেও অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বঙ্গবন্ধুর কথা উল্লেখ করে বলেন আজকে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলেও বাংলাদেশ ফুটবলের এই অবস্থা হতো না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় চরম অনিয়ম হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা কেউ এখানে নেতা হতে আসি নাই। আমরা নিজেরা নিজেদের টাকায় একাডেমি চালাই। আমি শুধু বলতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ভাই শেখ কামাল সাহেবের নাম ব্যবহার করে এরা দুর্নীতি করতেছে। ফেডারেশনকে কলঙ্কিত করতেছে এবং এদের দুর্নীতির কথা বললে এরা বলে এরা নাকি শেখ কামাল সাহেবের বন্ধু।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানি এবং চিনি। আপনাকে এরা ভুল বুঝানোর চেষ্টা করতেছে। এই পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আজকে এখানের প্রতিবাদকারীদের চেহারা দেখেন তাহলে বুঝবেন – এখানে কেউ নেতা হইতে আসে নাই। আপনি ভাল করে জানেন গাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আমলনামা আমাদের কাছে অপরিষ্কার থাকলেও আপনার কাছে পরিস্কার আছে। উনি কি করেন এবং ফুটবল ফেডারেশন কে কতটা অধঃপতনের জায়গা নিয়ে গিয়েছেন সেটা আপনি জানেন।

সুমন বলেন – আমি বলতে চাই, ফুটবল হচ্ছে আমাদের প্রাণের খেলা। সারা বাংলাদেশের খবর নিয়ে দেখেন যদি মাদক থেকে আমাদের তরুণ সমাজকে বাঁচাতে চান তাহলে ফুটবলের বিকল্প নাই। হাজার হাজার মানুষ বিকেলে মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলে। তাই আমি বলবো – এখনো সময় আছে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি গাজী সালাউদ্দিন সাহেব যে সিন্ডিকেট তৈরি করছে এই সিন্ডিকেটকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ ভাঙতে পারবে না। এজন্য বলতেছি দুর্নীতিবাজদের যে অবস্থান বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে তা ভেঙে দিতে হবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বলেন – আপনি ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিয়েছেন কিন্তু অভিযোগ আছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ছিলো। তিনি বলেন আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান করব আপনি একটু খবর নিয়ে যদি এই ফুটবলের কি অবস্থা তা যদি একটু দেখেন তাহলে ক্রিকেটের মতো আমরা ফুটবলকেও বিশ্বব্যাপী এগিয়ে যেতে পারবো।

মন্তব্য করুন