শরীয়তপুরে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মাদরাসার কাজে বাধা ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশীনগরে দারুল এহ্সান আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার ভবন নির্মাণকাজে বাধা ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এহতেশামুল হক বুলবুল মালত আরশীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা যায়, গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আরশীনগরের চরফেলিজ মালত বাজার দারুল এহ্সান আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার চলমান ভবন নির্মাণকাজে জোরপূর্বক বাধা প্রাদান করেন আরশীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল হক বুলবুল মালত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকালে কাজ শুরু করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এসময় লিটন খালাসী ও ওয়ালিদ মাদবরসহ দলবল নিয়ে এসে জোরপূর্বক মাদরাসার কাজ বন্ধ করে দেন বুলবুল মালত। এসময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে জোর করেই ওই জমি দখলে রাখবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন স্থানীয় এ আওয়ামী লীগ নেতা।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, এর আগে গতবছরের শেষেরদিকেও একবার নির্মাণকাজের সময় জমির মালিকানা দাবি করে কাজে বাধা প্রদান করেন আওয়ামী লীগ নেতা বুলবুল মালত। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কোর্টে মামলা করলে শরীয়তপুর জেলা সহকারী জজ আদালত বিবাদী পক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাদের অপ্রীতিকর কার্যকালাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

স্থানীয়সূত্রে আরো জানা যায়, বাধাপ্রদানকারী বুলবুল মালত মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হক চুন্নু মালতের আপন ভাই (তিনি এখন দেশের বাইরে রয়েছেন)। আরেক ভাই আজমুল হক নান্টু মালতসহ কয়েকভাই মিলে ২০০৪ সালে মাদরাসা ও মসজিদের নামে ২০ গন্ডা (১কানি) জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরমধ্যে মাদরাসার নামে প্রায় ১৫ গন্ডা (৬০কড়া) জমি রয়েছে। এই জমিতে মালিকানা দাবি করেন দাতাদের ফুফাতো ভাই লিটন খালাসী। তারই যোগসাজশে ২০১৯ সালের নভেম্বরে মাদরাসার নির্মাণ কাজে বাধা দেন বুলবুল মালত। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে বাধা প্রদানের অভিযোগে শরীয়তপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের অহেতুক কার্যকালাপে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু বিবাদীপক্ষ নোটিশের জবাব না দিয়ে চুপসে যায়। এরপর করোনাকালীন সময়ে কাজ বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হলে আবারো কাজে বাধা দিতে আসে বিবাদীপক্ষ।

এ ব্যপারে দাতা সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজমুল হক নান্টু মালত বলেন, এই জমি আমাদের বাবার নামের সম্পত্তি। ওয়ারিশসূত্রে আমাদের তিন ভাইয়ের অংশ মাদরাসার নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। বুলবুল মালত নিজেও একজন দাতা সদস্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রায় ১৬ বছর পরে এসে গতবছর তিনি প্রথমে লিটন খালাসীর যোগসাজশে মাদরাসার কাজে বাধা দেন। পরে আমরা কোর্টে মামলা করি।

তিনি বলেন, এই সম্পত্তি আমার বাবার নামের সম্পত্তি। এখানে আমাদের ফুফু বা অন্যকারো অংশ নেই।

নান্টু মালত বলেন, করোনাকালীন সময়ে কাজ বন্ধ থাকার পর গতকাল শুক্রবার পুনরায় কাজ শুরু করতে গেলে আবারো দলবল নিয়ে এসে বাধা প্রদান করেন বুলবুল মালত। এসময় আদালতের নির্দেশনার ব্যপারে সতর্ক করলে তিনি উপস্থিত সবার সামনেই জোর করে জমি দখলে রাখার হুমকি দেন।

পরবর্তীতে হামলা ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে নান্টু মালত বলেন, রোববার আমরা আদালতে যাবো। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

লিটন খালাসীসহ অন্যান্যদের যোগসাজশে বুলবুল মালত সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যপারে শনিবার এহতেশামুল হক বুলবুল মালতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। মুঠোফোনে দু’বার তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে প্রথমে তিনি ব্যস্ততার কারণে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই ফোন করেন। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মিটিংয়ে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন রেখে দেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন