স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে চার শিশু সন্তান নিয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি।। ভোলার মনপুরা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর আলাউদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে চার শিশু সন্তান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার স্ত্রী শাহনাজ।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন স্বামী আলাউদ্দিন হত্যা হওয়ার পর থেকে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছেন তার ভাই জাফর, জামাল ও আলাউদ্দিনের দোকানের কম্পিউটার অপারেটর শামিম মাস্টার (মাদ্রসার শিক্ষক)।

এমনকি আলাউদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজকে ৪টি শিশু সন্তানসহ বাড়ি ছাড়া করতে কয়েকবার চেস্টা করা হয়। দুই দফা অপহরণ করা হয় মেঝ সন্তানকে। হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও মূল হোতাদের গ্রেফতার দাবিতে বৃহস্পতিবার ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে তিনি এসকল অভিযোগ করনে।

লিখিত অভিযোগ বলার সময় চারজন শিশু সন্তান নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহনাজ।

তিনি জানায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে আলাউদ্দিনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

স্বামীর হত্যার বিচার পাওয়ার বিষয় যেমনি অনিশ্চিত তেমনি সন্তানদের অধিকার ও ভবিষ্যতও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন শাহনাজ আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বামী হত্যা মামলার বাদি তার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে না জানিয়ে বাদি হয়েছেন আলাউদ্দিনের ভাই মো. জাফর। আলাউদ্দিন কম্পিউটার চালাতে পারতেন না। তাই তার লাখ লাখ টাকার লেনদেন পোষ্টিং দিতেন পাশ্ববর্তী বাড়ির মাদ্রাসা শিক্ষক শামিম মাস্টার। ওই শামিম মাস্টার জানতেন আলাউদ্দিনের সকল টাকার হিসাব।

ঘটনার রাতে আলাউদ্দিনের গলায় ছুরিকাঘাত করার পর আলাউদ্দিন বাড়ির দিকে ছুটে আসেন। তাকে হাসপাতালে মটর সাইকেল যোগে নেয়ার পথে পুনরায় হত্যা নিশ্চিত করা হয়। ওই সময় শামিম মাস্টার কোথায় ছিলেন ? তার ভূমিকা কি ছিল? এমন প্রশ্ন তুলে ধরে শাহনাজ জানান হত্যার নেপথ্যে তার হাত ছিল। অথচ প্রথম থেকে নিজেকে আড়াল করে মামলা অন্যদিকে নেয়ার চেস্টা চালায় এরা।

সঠিক তদন্ত হলে অনেক রহস্য বের হবে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ আরো অভিযোগ করেন আলাউদ্দিনের ডাচবাংলাসহ, বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ওই দিন ৬০ /৭০ লাখ টাকা ছিল। কাগজের কাটুন ভর্তি এই সব টাকা হাতিয়ে নেন দেবর জামালসহ শামিম মাস্টাররা। এই সব টাকার হিসাব চাওয়ায় শশুর,দেবর ও শামিম মাস্টার তাকে বাড়ি থেকে উৎখাত করতে ওই বাড়ি বিক্রি করার চেস্টা চালায়। উপায়ন্ত না পেয়ে মনপুরা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে হিসাবের জন্য লিখিত আবেদন করি।

উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে , ৪ ইউপি চেয়ারম্যানসহ একটি টিম কয়েক দফা তদন্তে আলাউদ্দিনের রেখে যাওয়া কোটি টাকার হিসেবে নয়ছয় ও লোপাট করার প্রমান পেয়েছেন। যার লিখিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন শাহানাজ আক্তার।

শাহনাজ অভিযোগ করেন, তিনি যাতে স্বামী হত্যার বিচার না চান এবং সম্পত্তির ভাগ না চান, এ জন্য তার ১০ বছর বয়সী মেঝ মেয়েকে দুই দফা অপহরণ করা হয়। পরে ফেরত দিয়ে যায়। বার বার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় শাহনাজ আক্তার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

স্থানীয় থানার ওসি’র কাছে নিরাপত্তা চাইলে তিনি উল্টো শামিম মাস্টার গংদের পক্ষে কথা বলেন বলেও অভিযোগ তোলেন শাহনাজ। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, শাহনাজের পিতা আবুল কাশেম, ভাই আবুল কালাম।

মন্তব্য করুন