গাছে ‘দোয়া লেখার’ কাগজ লাগানোয় ইশার কর্মীকে আওয়ামী নেতার মারধর

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

ভোলা সদর উপজেলার ১০ নং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল রাস্তায় গাছে গাছে জিকির ও দোয়া সম্বলিত কাগজ লাগানোয় আওয়ামী লীগের এক নেতা কর্তৃক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি, কালিমুল্লাহ নায়েব (৪০) তাকে মারধর করেছে বলে জানা গেছে। এমনকি মারধরের সময় তাকে অন্যায়ভাবে শিবির কর্মী আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও এসেছে।

জানা গেছে – গত ৮ সেপ্টেম্বে ভোলা সদর উপজেলাধীন ১০ নং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে বিকেল ৩ টার দিকে একই ওয়ার্ডের ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক, মোঃ রাসেল (১৭) ইউনিয়ন ছাত্র আন্দোলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিকির সম্বলিত কিছু কাগজ গাছে লাগানোর জন্য রাস্তায় বের হয়। এ সময় ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি কালিমুল্লাহ নায়েব (৪০) তার এই কাজে বাধা দেয়।

তাকে জিগেশ করে এগুলো কি লাগাও? সে বলে আমি জিকির সম্বলিত কাগজ লাগাই। তখন ওই আওয়ামী নেতা তাকে বলে জিকির তো মসজিদে করবে গাছের সাথে কেন লাগাও? এবং এর অর্থ কি বল? রাসেল বলে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ অর্থ হলো আল্লাহর কাছে মাফ চাই। নায়েব বলে, তোমাকে এগুলো কে লাগাতে বলেছে? রাসেল বলে ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীলরা লাগাতে বলেছে। তখন নায়েব উত্তেজিত হয়ে বলে “তাদেরকে ডাকো। নেতাগিরি করতে আসছো।”

এরপর এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সে তার হাতে থাকা হাতুড়ি নিয়ে তাকে মারতে থাকে। পাশের থেকে ইট নিয়েও তাকে মারধর করে। এরপর লাঠি দিয়েও তাকে মারধর করে। রাসেল সহ্য করতে না পেরে দৌড় দেয়। পিছন থেকে তাকে শিবির, ধর.. ধর.. বলে দৌড়াতে থাকে কালিমুল্লাহ ও তার সহযোগিরা।

এরপর ওই আওয়ামী নেতা গাছ থেকে দোয়া সম্বলিত কাগজগুলো ছিড়ে ফেলতে থাকেন এবং আল্লাহ তায়ালার নামের সম্মান না রেখেই সেগুলো ছিড়ে ছিড়ে রাস্তায় ফেলে দেন।

পরবর্তিতে ঘটনাটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভেলুমিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বশীলদের মাঝে জানাজানি হলে ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ ওমর ফারুক মসজিদে বসেন এবং কালিমুল্লাহ নায়েবকে ফোন দেন। কিন্তু তার সাথে কালিমুল্লাহ নায়েব অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। একপর্যায়ে সে বলে রাসেলকে আরো মারবো, তারপর বিচারে বসবো।

এরপর সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলার পক্ষ থেকে ঘটনাটি জানতে নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া যায় এবং সার্বিক বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন – রাসেল একটি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার পিতার নাম সুলতান ফরাজী। রাসেল চন্দ্র প্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র। ঘটনার দিন জোহরের নামাজের পর মসজিদে আধাঘন্টা কোরআন শরীফ শিখে। তারপর বাড়িতে খানা খেয়ে কাগজগুলো লাগাতে বের হয়। রাসেলের মা পর্দার আড়াল থেকে কেঁদে দিয়ে বলেন, আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি।

তিনি বলেন – আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, পেশিশক্তি ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এজাতীয় উশৃঙ্খল পাতি নেতার কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই ভোলার সচেতন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।

মন্তব্য করুন