আল্লামা শফী ও আল্লামা বাবুনগরী : কারো প্রতিই আমার সম্মান কমেনি

প্রকাশিত: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০

আবদুর রহমান কফিল

কওমী মাদরাসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলমান অস্থিরতা ও সংকটপূর্ণ অবস্থায় হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের চেয়ারম্যান’ ও সিলেটের প্রতিনিধিত্বশীল তরুণ আলেম মাওলানা আবদুর রহমান কফিল “বিবেকের জবানবন্দি” শিরোনামে একটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন।

সমসাময়িক অস্থিরতার এ সময়ে পোস্টটি অনেকের জন্যই উপকারি হতে পারে। তাই সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত অবস্থায় তার ফেসবুক পোস্টটি পাবলিক ভয়েসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো –

১.
আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ।
– দু’জনই আমার শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ। আলহামদুলিল্লাহ, দুজনের প্রতি আগে যেমন শ্রদ্ধাবোধ ছিলো, এখনও আছে। চুল পরিমাণও কমে নি। অতিআবেগীদের ‘আস্ফালনে’ আমার আস্থা ও বিশ্বাসে কোনও রকম পরিবর্তন আসে নি। শ্রদ্ধাবোধে কোনও কমতি আসবেও না, ইনশাআল্লাহ।

২.
আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহ। শতবর্ষী আলেম। আল্লাহ তাআলা দ্বীনের অনেক বড় বড় খিদমাত নিয়েছেন তাঁর থেকে। বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় বর্তমানে কিছু ‘যাল্লাত’ হয়েছে এবং হচ্ছে। এটা স্বীকার করি। এই অমূলক কাজগুলো অবশ্যই সমর্থন করি না। কিন্তু তাই বলে তাঁর অতীত কীর্তি অস্বীকার করার মত দুঃসাহস আমার নেই।

৩.
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহ। একজন মজলুম আলেমে দ্বীন। ইসলামের জন্য তাঁর কুরবানী অতুলনীয়, অবিস্মরণীয়। সন্দেহ নেই, তিনি মজলুম হালতে আছেন। তাঁর উপর বর্তমানে যা হচ্ছে, তা অবশ্যই জুলুম। বিশ্বাস করি, এ জুলুমের অবসান হবে।

৪.
আল্লামা আহমদ শফী এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। দু’জনের মধ্যে কেমন আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো, এটা অবর্ণনীয়। কিন্তু এই অগাধ বিশ্বাস আর মুহাব্বাতের মাঝে কিছু স্বার্থান্বেষী ‘অমানুষ’ ফাঁটল সৃষ্টি করেছে। কারা করেছে? কেনো করেছো? এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট। এই ঘটনায় আমার বারবার মনে পড়ে ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে তৎকালীন এবং পরবর্তী যুগের কিছু মুহাদ্দিসীনের অশালীন মন্তব্যের কথা। ইমাম আউযায়ী, ইমাম বুখারী, ইমাম নাসাঈ, ইমাম দারাকুতনী রাহিমাহুমুল্লাহ ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেছেন। ইমাম আওযায়ী রাহিমাহুল্লাহ তো ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহকে ‘বিদআতী’ পর্যন্ত বলেছেন। এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করলে পাওয়া যায়, ইমাম আবু হানিফার বিদ্বেষীরা তাঁদের কানে উল্টাপাল্টা কথা পৌঁছিয়েছে। কারও কারও তো আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহুর জীবদ্দশায় এসব ভুল বুঝাবুঝির অবসানও হয়েছে। এগুলো কিতাবাদিতে বিস্তারিত আছে। তো চলমান ঘটনাতেও এমন কিছু হচ্ছে বলেই মনে করি।

৫.
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী হাফিযাহুল্লাহকে উপরে উঠাতে গিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফী হাফিযাহুল্লাহকে মাটিতে ফেলে দিতে হবে— এমন পাগলামি এবং অপরিনামদর্শী কাজ করাকে কিছুতেই সমর্থন করি না। এসব কিছুর জন্য সেই অথর্ব সাহেবজাদা (এবং আরও কয়েকজন) যেমন দায়ী, ‘অজ্ঞাত গোয়েন্দা’ এবং তাকে সমানতালে বাহবা প্রদানকারীরাও কম দায়ী নন। অতি আবেগী পোলাপান, এমনকি কিছু ‘বড়রাও’ তাকে সকল ক্ষেত্রে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। মক্তবপড়ুয়া ছেলেরা যখন শতবর্ষী এই মনীষীকে অশালীন ভাষায় গালি দেয়, লজ্জায় মাথা নুয়ে আসে। তরুণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে কী পরিমাণ বেআদব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, আল্লাহ পানাহ! তো এজন্য এই দুজনকেই স্তব্ধ করা দরকার। ওদের যে কোনো মূল্যে স্তব্ধ করা গেলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে।

৬. বাবুনগরী হুযূরের কল্যাণকামী হয়ে থাকলে বাবুনগরীর পক্ষে এবং ওদের বিপক্ষে কথা বলা বন্ধ করা উচিত। নতুবা বাবুনগরীর উপর জুলুমের মাত্রা বাড়তেই থাকবে। অন্তত বাবুনগরী হুযূর যদি হাটহাজারীতেই থাকতে চান, তাহলে এই সূরতের বিকল্প নেই। ফেসবুকে লেখালেখি করে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই। এক্ষেত্রে বড়রা উদ্যোগী না হলে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে বলেই মনে হচ্ছে।

৭.
কঠিন এক সময় পাড় করছি আমরা। কোনটা হক, কোনটা বাতিল, চিনতে পারা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এজন্য বেশি বেশি এই দুআ করি…

اللهم أرنا الحق حقا و ارزقنا اتباعه،
و أرنا الباطل باطلا و ارزقنا اجتنابه.

اللهم أحينا ما كانت الحياة خيرا لنا،
و توفنا ما كانت الممات خيرا لنا.

মন্তব্য করুন