প্রবাসীদের উপর নিপীড়ন কী বন্ধ হবে না : প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০

ফাহিম ফাইয়াজ
পাবলিক ভয়েস

ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, সারাজীবনই বিমানবন্দরে প্রবাসীদের নিপীড়নের বিভিন্ন গল্প আমরা শুনে আসছি। কিন্তু আজ যে বিষয়টা বলব সেটা অতীতের সব গল্পকে হার মানায়। আজ আশ্চর্য হয়েছে বিভিন্ন দেশে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগে জেল হয়েছিল ছাড় পেয়ে বাংলাদেশে আসার পর তাদের আবারও ভাবমূর্তি নষ্টের সন্দেহে জেলে পাঠানো হয়েছে। ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে শুধু এই অভিযোগে তাদের জেলে পাঠানো অমানবিকতার শেষ ধাপ। আমি মনে করি এরচেয়ে আর অমানবিকতা হতে পারে না।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এসব কথা বলেন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, আজকে আমার কাছে একটা মামলা আছে। এখানে ৪৬ জন প্রবাসীকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে আবার তাদের জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রবাসীরা মালদ্বীপ থেকে এসেছেন। ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য মালদ্বীপ তাদের সাজা দিয়েছিল। কিন্তু করোনার জন্য সেই সাজা মওকুফ করা হয়েছে। ওই দেশ যেখানে করোনার কারণে সাজা মওকুফ হল কিন্তু নিজ  দেশে আসার পর শুধু সন্দেহের বশে তাদের আবারও জেলে পাঠানো হয়েছে। এবং প্রত্যেকটি পরিবারের এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাগবে তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনতে।

সুমন বলেন, আমি বলতে চাই, এম্বাসেডর ও হাইকমিশনাররা ভুল ইনফর্মেশন দিয়ে তাদের জেলে পাঠিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জীবনে এমন করতে পারেন না। বাংলাদেশে অনেক হাইকমিশনার আছেন যারা তাদের দুর্নীতি ঢাকতে এই অবিচার করেছে। প্রবাসীদের দোষ দিয়ে এই সরকারকে প্রবাসীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন এটা কোনভাবেই হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- এটা দেখতেই তো খারাপ দেখায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার কোনভাবেই এটি করতে পারে না। তাকে নিশ্চয় ভুল বোঝানো হয়েছে। কোনো মামলা নেই, দোষ নেই, এরপরও যদি তাদের জেলে পাঠান এরচেয়ে অবিচার আর হতে পারে না। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সরকার কোনদিনই এই কাজ করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, এই যে বিভিন্ন জায়গায় হাইকমিশনারদের ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়, তারা এই দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে প্রবাসী ভাই বোনদেরকে, যাদের টাকায় আমাদের অর্থনীতি চলে তাদের সঙ্গে এমন একটা অবিচার করা হল। আপনার থাকেন আর না থাকেন এই দেশ কোনদিন সোনার বাংলা হবে না।

লাইভ শেষে ব্যাবস্থা নেওয়ার আহ্বান করে সুমন বলেন, যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে, আর এখানে সামন্য ভাবমূর্তি বলবেন। এই ভাবমূর্তির জন্য এখন এদের এই দুর্ভোগ। বিদেশ থেকে আসার পর মানুষের পকেটে একটা টাকাও থাকে না। কিন্তু তাদের এখন জেলে গিয়ে আইনজীবীদের পেছনে পেছনে গিয়ে ঘুরতে হবে। আবারও বলি তাদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন