ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অবৈধভাবে জেরুজালেমে দূতাবাস খুলছে সার্বিয়া

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ইসরাইলে অবস্থিত সার্বিয়ান দূতাবাসকে তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে নিচ্ছে সার্বিয়া।

সম্প্রতি আমেরিকার মধ্যস্থতায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করেছে ইসরাইলের ইহুদীবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সার্বিয়ায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নাভান।

বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে – সার্বিয়া তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে তার দূতাবাস স্থানান্তরিত করা ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের শান্তি প্রস্তাবগুলির পরিপন্থী।

তিনি বলেছেন – “এটি যতদূর সম্ভব, আন্তর্জাতিক আইনের বিপরিত একটি বিষয়। তাছাড়া ফিলিস্তিনের অধিকার প্রশ্ন এবং জেরুজালেমের সাথে সম্পর্কিত জাতিসংঘের নির্দেশনার ক্ষেত্রেও একটি অন্যায় পক্ষেপ।

তাছাড়া বিষয়টিতে সার্বিয়া এবং ফিলিস্তিনের বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হবে জানিয়ে বলা হয়েছে – “এতে কোনও সন্দেহ নেই যে এটি ফিলিস্তিন এবং সার্বিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে” নাভান বলেছেন, তিনি সার্বিয়া এবং সার্বিয়ান জনগণকে ফিলিস্তিনের বন্ধু হিসাবে বিবেচিত করে এবং তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান থেকে আশা করছেন যে, ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এই সিদ্ধান্ত থেকে সার্বিয়া নিজেকে দূরে রাখবে।

অপরদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেবে সার্বিয়া। এর ফলে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে জেরুজালেমে দূতাবাস খুলবে সার্বিয়া।

ইসরাইলে অধিকাংশ দেশের কূটনৈতিক মিশন তেলআবিব ভিত্তিক। কারণ জেরুজালেম শহরের বিষয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হওয়ার আগে অধিকাংশ দেশই তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়।

কিন্তু ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে জোর করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

তবে শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে দূতাবাস জেরুজালেমে সরাবে সার্বিয়া।

নেতানিয়াহু বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমি আমার বন্ধু সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাই। এই অর্জনের পেছনে ভূমিকা রাখায় আমি আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরব মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিকের এই ডাকে সাড়া দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। একই সাথে ইসলাইলের জন্য আকাশ পথ খুলে দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ব্যাপারেও একমত হয়েছে।

মন্তব্য করুন