সুইডেনে যারা কুরআন পুড়িয়েছে তারা ‘আধুনিক বর্বর’ : তুরস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২০

সুইডেনে যারা কোরআন পুড়িয়েছে তাদের ‘আধুনিক বর্বর’ ও তাদের মানসিকতাকে ‘আদিম মানসিকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন।

ইব্রাহিম কালিন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তারা নির্লজ্জভাবে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে ইউরোপের মাঝে পোড়ায়। এরপরও তারা নিজেদেরকে যুক্তিবাদী, স্বাধীনতার ধারক এবং ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্তবাদী হিসাবে নিজেদের জাহির করে।

তিনি আরও বলেন – “তারা নির্লজ্জভাবে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকে ইউরোপের মাঝখানে দাড়িয়ে পুড়িয়ে ফেলে। আধুনিক এই বর্বররা আদিম মানসিকতার কোনও সীমাবদ্ধতা হয়ত জানেন না। “

এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে বলা হয়েছে – “উস্কানিমূলক এসব কাজ পারস্পরিক সহাবস্থান এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধের জন্য একটি ভারী আঘাত।”

প্রসঙ্গত : গত শুক্রবার মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে সুইডেনের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত মালমো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরটিতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জানা যায়, রাসমুস পলদান নামে একজন কট্টরপন্থী নেতার সুইডেনের মালমো শহরে একটি বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু, তাকে সেই বৈঠক করতে দেওয়া হয়নি।

[সুইডেনের উগ্র মুসলিম বিদ্ধেষী নেতা রাসমুস পলদান।]

আবার কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানায়, মালমো শহরে তিনি যাতে বৈঠক করতে না পারেন তাই তাকে আটক করেছিল পুলিশ। এর জেরে তার অনুগামীরা কোরআন পুড়িয়ে প্রতিবাদ দেখায় বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে শহরটি।

সুইডিশ সংবাদপত্র ‘এক্সপ্রেসেন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুলিশের মুখপাত্র রিকার্ড লুন্ডভিস্ট জানিয়েছেন, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন শরীফ পোড়ানো হয়।

বিকেলে অভিবাসন বিরোধী চরম উগ্র রাজনৈতিক দল ‘হার্ড লাইন’-এর নেতা রাসমাস পালুডানের মালমো শহরের এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। একই দিনে মুসলিমদের বিশেষ ধর্মসভার আয়োজনও করা হয়েছিল। অবধারিত সংঘর্ষের আশঙ্কায় তাই পালুডানকে পথেই আটকায় পুলিশ।

পরে ডেনমার্কের এই নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য তাঁর সুইডেনে প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। মালমো-তে পুলিশ মুখপাত্র জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে হিংসা ছড়ানোর সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই পালুডানকে গ্রেফতার করা হয়।

নেতাকে গ্রেফতার করা হলেও তাঁর সমর্থকরা জনসভা করেন এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যান। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে ফেসবুকে পালুডান পোস্ট করেন, ‘সুইডেন থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং দুই বছরের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাই হোক, ধর্ষক ও খুনেদের সব সময়ই স্বাগত জানাই।’

বরাবরের মতো কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী রাসমাস পালুডানের বিরুদ্ধে এর আগেও সাম্প্রদায়িক হিংসায় সাহায্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৯ সালে শুয়োরের মাংসে কুরআনের পৃষ্টা মুড়িয়েও তুমুল  বিতর্ক সৃষ্টি করেন এই উগ্র নেতা।

মন্তব্য করুন