কমেছে সিজার, বেড়েছে স্বাভাবিক প্রসব

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

দুই দশক আগেও ‘সিজারিয়ান সেকশন’ বিষয়টি প্রায় অপরিচিত ছিল, অথচ বর্তমানে সময়ে উল্টো ‘স্বাভাবিক প্রসব’ বিষয়টিই যেন অপরিচিত হয়ে উঠছে। রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে। জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। ক্লিনিকগুলোর আয়ের ৯৫ শতাংশই আসে সিজারের মাধ্যমে। তবে আশার কথা হলো, করোনার কারণে কমেছে সিজারের প্রবণতা।

চলতি বছরের মার্চ থেকেই করোনার কারণে সবকিছু স্থবির। মানুষ এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবন যাপন করছে। সংক্রমণের ভয়ে প্রসূতিরা হাসপাতালে যেতেও ভয় পাচ্ছে, বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ক্লিনিক। সবমিলিয়ে হঠাৎ করেই কমে গেছে সিজারিয়ান সন্তান প্রসব। প্রসূতিরা যেন ফিরে গেছেন সেই দুই দশক আগের অবস্থায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই ধারাটি চলমান রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।

করোনার মধ্যে সিজারে বাচ্চা প্রসব কমেছে, তবে বাড়েনি প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার। এ থেকেই প্রমাণ হয়, বিনা প্রয়োজনে অসংখ্য সিজারের ঘটনা ঘটে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। অথচ প্রত্যেকটি সিজারের আগেই বলা হয়, এটা না করলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। কিছু অসৎ চিকিৎসকদের এমন কথায় দিশাহারা অভিভাবকরা সিজারে সম্মত হয়ে পড়েন।

প্রসূতি মা এবং অভিভাবকদেরও একটা বড় দায় থেকে যায় সিজারিয়ান প্রসবের ক্ষেত্রে। প্রসব যন্ত্রণার ভয়ে অনেক প্রসূতি মা আগেভাগেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে থাকেন। অভিভাবকরা তখন তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন না, উল্টো কেউ কেউ এই আপাত অস্বাভাবিক প্রসবের ব্যাপারে প্রসূতি মাকে উৎসাহ দিয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমে পরিবার থেকেই এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

শারীরিক জটিলতার কারণে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সিজারের ঘটনা ঘটতে পারে, এমন সীমারেখা টেনে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অথচ বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ৫১ শতাংশ বাচ্চার জন্ম হয়েছে এই পদ্ধতিতে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রসবকালীন এই অস্ত্রপচার বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ শতাংশ। এমনকি সিজার কমাতে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আদালতে রিট পর্যন্ত করা হয়েছে।

সিজারের এমন বাড়বাড়ন্ত অবস্থায় যেন আর্শীবাদ হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস! মহামারিকালে সবাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে, আর তাতেই বেরিয়ে এসেছে অপ্রয়োজনে কী পরিমাণ সিজার হচ্ছিল আমাদের দেশে!

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন