হাজার শিক্ষার্থীর ভালোবাসায় সিক্ত ইবি উপাচার্য, পুনর্নিয়োগের দাবি

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সফলভাবে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাজারো শিক্ষার্থীর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ।

আজ ২০ আগস্ট অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ” ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আজ আমার শেষ দিন। সুষ্ঠুভাবে চার বছর দায়িত্বপালন করতে পেরে সর্বপ্রথম কৃতজ্ঞতা জানাই পরম করুনাময় আল্লাহর প্রতি। অশ্রুঝরা আগস্টের এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানাই মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি, যাঁরা আমাকে এই দায়িত্বপালনের উপযুক্ত মনে করে আস্থায় নিয়েছেলেন । কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রীসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতার জন্যে । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের কাছে আমার অনিঃশেষ ঋণ। ছাত্রছাত্রীরা আমার সকল প্রেরণার উৎস। তাদের ভালোবাসা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। তাদের সান্নিধ্য পেতে উপাচার্যের চরম কর্মব্যস্ত দিনগুলোতেও ক্লাস বিচ্ছিন্ন থাকিনি। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি নিষ্ঠা ও সততার সাথে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিক এবং একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনে। দেশ-দেশান্তরে ছুটে বেড়িয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য-মুকুটে নতুন নতুন পালক পরাতে। আমি কায় মনোবাক্যে এই প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল কামনা করেছি- বিগত চার বছর উপাচার্য হিসেবে এবং সবসময়ই করি এর একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে। উপাচার্য হিসেবে যদি কোনো সাফল্য অর্জন করে থাকি, তার কৃতিত্ব বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার। আর সীমাবদ্ধতা- যদি কোনো থেকে থাকে, তার দায় নাহয় আমারই রইল।”

তারা এমন স্ট্যাটাসে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “অসাধারণ মনের মানুষের পক্ষে কেবল এভাবে বলা সম্ভব। কথা ও কাজের বৈপরীত্য যখন চরমভাবে দৃশ্যমান এমন একটি সময়ে এসে আপনাকে স্রোতের প্রতিকূলে চলতে দেখেছি। শুধু কথার ফুলঝুরিতে নয় আপনার বিচক্ষণতা এবং কর্ম নৈপুণ্যের মাধ্যমে আপনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন সেজন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আপনার নামটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। উন্নয়নের জোয়ার যেন থেমে না যায় সেজন্য আপনাকে দ্বিতীয় মেয়াদে অবশ্যই প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন পূরণ হোক এটাই বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষার্থীদের চাওয়া।”

আরেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন,” আপনার মত নিষ্ঠাবান শিক্ষক যদি প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি হিসেবে থাকতো তাহলে হয়তো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বদরবারে তাদের পরিচয় আরো সুস্পষ্ট করতে পারত। আপনি একজন শুধু ভিসি স্যারই ছিলেন না আপনি ছিলেন পরিশ্রমী জাদুকর যে কিনা তার পরিশ্রমের মাধ্যমে ইবিকে তার আগের অবস্থান থেকে এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যা কিনা ইবির ইতিহাসে বিরল। আমরা গর্বিত আপনি আমদেরকে অভিভাবকের মতো চার বছর আগলে রেখেছেন। ইবিয়ানদের জন্য আপনার বিকল্প কেউ নেই।”

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন চার বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন যেখানে সাধারন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ভালোবাসায় আবদ্ধ করে পুনঃনিয়োগ দাবি করেছেন হাজার শিক্ষার্থী ।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোন উপাচার্য তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারলেন। বিগত সময়ে নানা অনিয়ম আর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে মেয়াদ পূরণ করার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে সকল উপাচার্যদের। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ জুন নানা অনিয়মের দায়ে অধ্যাপক হাকিম সরকারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয় সরকার। এরপর একই বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ১২ তম উপাচার্যের দায়িত্ব পান অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-অর-রশিদ। দায়িত্ব প্রাপ্তির পর পাঁচটি অনুষদ থেকে আটটি অনুষদে রূপান্তর , ২৫ টি বিভাগ থেকে ৩৪ টি বিভাগে উন্নীতকরণ, সেশনজট দূরীকরণ, শিক্ষা ও গবেষণায় মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণ এ ভূমিকা পালন‌ এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টিরও অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এম ও ইউ স্বাক্ষর সহ অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন।###

এনএইচ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন