ফেসবুকের কারণে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

ফেসবুকের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক সমীক্ষা থেকে এমন একটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

আভাজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সমীক্ষাটি চালিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গত এক বছরে অন্তত ৩.৮ বিলিয়ন মানুষ ফেসবুকে ভুয়া চিকিৎসা বিষয়ক ভুল সংবাদ পড়েছে। তাদের মতে, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ এক হুমকি।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত অন্তত ৯৮ মিলিয়ন ভুল তথ্য সম্বলিত খবর তারা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অন্তত সাত মিলিয়ন ভুল তথ্য সরিয়ে ফেলতে তারা কাজ করেছে। এই তথ্যগুলো জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দিতে পারতো বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন যে, মহামারীর সময় তার প্রতিষ্ঠান ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি তা পারেননি। আভাজ দাবি করেছে, গত কয়েক মাসে ফেসবুকে যতো ভুয়া সংবাদ ছড়িয়েছে, তার খুব কমই চিহ্নিত করা গেছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ খবরই চিহ্নিত করার আগেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।

আভাজ ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারিদের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা যাতে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য পেলে তা নিজেরা যাচাই করার চেষ্টা করেন। এতে ভুয়া সংবাদ বেশি মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হবে।

এ সংক্রান্ত একটি খবরে বিবিসি বলেছে যে, কেট সেরিমানি নামের একজন নার্স কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অনেক ভুয়া খবর ছড়িয়েছেন। এক পর্যায়ে নার্সিং ও মিডওয়েফারি কাউন্সিল তার নার্সিং নিবন্ধন বাতিল করে দেয়।

তিনি বারবার বিল গেটসকে আক্রমণ করেছেন, এনএইচএস-এর সদস্যদের গালাগাল করেছেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে করোনাভাইরাস নিয়ে ধাপ্পাবাজি করা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এক পর্যায়ে তিনি ভ্যাকসিন নিয়ে করা এক মন্তব্যে বলেন, পোলিওর ভ্যাকসিন গ্রহণ করে নাকি কোনো এক দেশে প্রচুর শিশু পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের আরো মিথ্যা দাবি তিনি ফেসবুকে প্রচার করেছেন।

আভাজের মতে, এই ধরনের আরো স্বাস্থ্য বিষয়ক ভুল সংবাদে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য তৈরি করছে বিশাল হুমকি।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন