অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতিদ্রুত কওমী মাদরাসাগুলো খুলে দিন

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত রমজানের আগে কওমী মাদরাসাগুলোর যখন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন ছিল বার্ষিক পরীক্ষার সময়। পরীক্ষার কোনো কাজই কোথাও আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে ঈদুল ফিতরের পর যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা তাও সম্ভব হয়নি। এখন ঈদুল আযহাও শেষ। ইতোমধ্যে কওমী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠদানহীন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মাস শেষ হতে চলেছে। কওমী মাদরাসাগুলো খুলতে আরও দেরি হলে লাখো ছাত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।

পুঁজিবাদের নানামাত্রিক আগ্রাসন থেকে শিক্ষাব্যবস্থাও মুক্ত থাকতে পারছে না। অথচ কোনো সংকটের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জন থেকে পিছিয়ে রাখা দেশ ও জাতির জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে। যতদ্রুত সম্ভব দেশের হাজার হাজার কওমী মাদরাসা খুলার অনুমতি দিয়ে লাখ লাখ ছাত্রের শিক্ষাজীবন রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।

গত রমজানের আগে কওমী মাদরাসাগুলোতে যখন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়, তখন ছাত্রদের সামনে ছিল বার্ষিক পরীক্ষাসহ বোর্ডসমূহের পরীক্ষা। ছিল দাওরায়ে হাদিসের সমাপনী পরীক্ষার জন্য সম্মিলিত কওমি মাদ্রাসা বোর্ড-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমীয়ারও পরীক্ষা। এসব পরীক্ষাই মুলতবি করে দেওয়া হয় এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে মাদ্রাসাগুলো ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এতে লাখো ছাত্রের ভবিষ্যৎ প্রোগ্রাম পিছিয়ে যায়। সাধারনত কওমী মাদরাসায় যেটা প্রায় কখনো ঘটে না, সেই সেশনজটের একটি পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়ে গেছে।

সরকার সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি হাট বাজার, অফিস, আদালত, ব্যাংক, ইন্ডাস্ট্রি সর্বত্র মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মানুষ সতর্কতার সঙ্গে হলেও স্বাভাবিক জীবন-যাপনে প্রবেশ করছে। আমি মনে করি, জীবনের অন্যসব অঙ্গনের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত খুলে দেওয়া উচিত। বিশেষত কওমী মাদ্রাসাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিশেষত কওমী মাদরাসাগুলো খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করা উচিত নয়। কারণ, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কওমী মাদরাসার ছাত্র ব্যবস্থাপনার একটি বড় পার্থক্য হলো, কওমী মাদরাসাগুলো প্রায় শতভাগ আবাসিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কঠোর আবাসিক নিয়ম পালন করা হয়। করোনা কালীন স্বাস্থ্য সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষাসহ মাদরাসা-কোয়ারেন্টাইন পালন করা সম্ভব। এসব প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে মাদরাসা শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে খেয়াল রেখে কওমী মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

সরকার যেভাবে ঈদুল আযহার পূর্বে হিফজ, বিভাগ, কিন্ডার গার্টেন সহ সকল প্রাইমারী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দিয়ে উদারতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তদ্রুপ লক্ষ লক্ষ কওমী শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাদের হৃদয়ের কথাগুলো আমলে নিয়ে সকল স্বাস্থ্য সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার নীতি আরোপ করে হলেও অনতিবিলম্বে কওমের প্রয়োজনে কওমী মাদ্রাসাগুলো খুলে দিন।

লেখক : নুরুল বশর আজিজী, কেন্দ্রীয় কওমী মাদরাসা সম্পাদক। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন।

মন্তব্য করুন