ফিলিস্তিন রক্ষা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ রায়েদ সালাহকে কারাগারে নিলো ইসরাইল

প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

দুই বছর গৃহবন্দি থাকার পরে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ রায়েদ সালাহকে সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে পূনরায় কারাগারে নিলো ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ এনে ১৭ মাসের জন্য পূনরায় জেলে প্রেরণ করা হয়েছে তাকে।

এই সাজা গত মার্চ মাসে শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে তখন এ সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

এর আগে উত্তর ফিলিস্তিনের ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা রায়েদ সালাহকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে আটক করা হয়েছিল এবং জেরুজালেমের ফ্ল্যাশপয়েন্ট আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে একটি মিছিলে ইসরাইলের সমালোচনা করায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

তখন এক প্রহসনের বিচারে ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি আদালত তাকে ২৮ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে। তখন তিনি ১১ মাস জেল জীবন কাঁটিয়েছেন। যে সময়টা তিনি গৃহবন্দি হওয়ার আগেই কাঁটিয়েছিলেন। এখন আবার তাকে ১৭ মাসের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে সালাহর আইনজীবী কালেদ জাবরাকা ইসরাইল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় সালাহর প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন।

তাকে পূনরায় জেলে নেওয়ার সময় কয়েকশ ফিলিস্তিনিরা হাইফার কাছে আলজালমা জেলের বাইরে সমবেত হয়েছেন তাদের নেতাকে সমর্থন জানানোর জন্য।

এদিকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দল সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির নিন্দা করেছে এবং বলেছে যে এটি ফিলিস্তিনিদের পক্ষের কোনো কাজ নয় এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে। হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শান্তি চুক্তি “ফিলিস্তিনি জনগণের পিছনে বিশ্বাসঘাতকতার ছুরিকাঘাত”।

প্রসঙ্গত : ১৯৫৮ সালে জন্মগ্রহণকারী শেখ সালাহ কবি এবং আট সন্তানের জনক। তিনি ইসরাইলের আরব শহর উম্মে আল-ফাহমের মেয়র হিসাবে তার প্রকাশ্য কাজ শুরু করেছিলেন, যেখানে তিনি ফিলিস্তিনের ইসলামিক আন্দোলনের উত্তর শাখার নেতাও হয়েছিলেন।

তাঁর কার্যক্রম প্রসারিত হওয়ার সাথে সাথে এবং তাঁর পেশাবিরোধী ভাষণগুলি ইসরাইলও ফিলিস্তিনের মাসলমানদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাই ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃপক্ষ তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও করেছিলো।

২০০৩ সালে তিনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দল ​​হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিলেন, ২০০৫ সালে তার সকল ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে, ইসরাইলের এক পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তিনি ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে সর্বদা সরব কন্ঠ রেখেছেন। তিনি ইসরাইলী নীতিমালার বিরুদ্ধে প্রচুর প্রতিবাদ ও দখলকৃত অঞ্চলগুলিতে ইসরায়েলি জনবসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।

মন্তব্য করুন