কওমী মাদরাসা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই, অতি শীগ্রই খুলে দিন : মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিত: ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০

করোনাপরিস্থিতির অজুহাতে দেশের কওমী মাদরাসাগুলো বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ এখন আর নেই উল্লেখ করে বিশেষ বিবেচনায় হলেও দেশের সকল কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম। (শায়খে চরমোনাই)।

দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিলেও ধর্মীয় শিক্ষার মূল মাধ্যম বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোকে অতি শীঘ্রই খুলে দেওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার ১৪ই আগস্ট চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ মাদ্রাসার মসজিদে জুমার নামাজ পূর্ববর্তী এক বিশেষ আলোচনায় তিনি এ দাবি জানান।

তিনি বলেন – আমি সরকারকে দাবির সাথে অনুরোধ করে বলছি যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই খুলে দেওয়া হোক। বিশেষ করে কওমী মাদরাসা খুলে দিতে কোনো দেরি করা উচিত নয়। তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন – কওমী মাদরাসার সিলেবাসেদও কওমি মাদরাসার পড়াশোনা একটি নির্দিষ্ট সিলেবাসভিত্তিক। মাদরাসার ছাত্ররা এক বছর পড়াশোনা করে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে মাদরাসার ছাত্রদের পড়াশোনা বন্ধ থাকায় তাদের আদব-আখলাক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এখন যেহেতু সবকিছুই অঘোষিতভাবে খুলে গেছে তাই সরকারকে বলবো, আপনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে দেরিতে সিদ্ধান্ত নিলেও কওমি মাদরাসার ব্যাপারে অতি শীঘ্রই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। কারণ কওমি মাদরাসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। জলদি জলদি করে মাদরাসাগুলো খুলে দেয়া হোক।

কওমী মাদরাসা খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত হাইআর : নতুন সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে

৮ আগষ্ট দেশের সকল কওমী মাদরাসা খুলে দেওয়ার ঘোষণা

মাদরাসা খুলতে সরকারের সাথে যোগাযোগে হাইআর সাব-কমিটিতে আছেন যারা

তিনি সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন – যদি আপনি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন তাহলে কওমি মাদরাসা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে। এর জন্য আমি সরকারকে বলবো অতি শীঘ্রই মাদরাসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিন এবং মাদ্রাসাগুলো খোলার ব্যবস্থা করুন।

তিনি আরও বলেন – সরকারকে বলতে চাই, সব জায়গা ঘুরে গেছে! কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, বাজার ঘাট সব কিছু খুলে গেছে কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি করা হচ্ছে না। এর কারণটা কোথায়। সামাজিক দূরত্ব এখন আর কোথাও নেই! বাজারে নেই, রাস্তা-ঘাটে নেই, অফিস আদালতে নেই। অথচ এর অজুহাতে আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি খোলা হচ্ছে না। তারমানে এদেশের মানুষকে মুর্খ করে তোলার একটি কাজ চলছে। এদেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহ তাদেরকে ভাবে পড়ালেখা থেকে দূরে রাখার কোনো যুক্তি এখন আর নেই।

 অনুলিখনঃ পিয়াস

আরও পড়ুন : 

স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করে হলেও কওমী মাদরাসা খুলে দিন : ইশা ছাত্র আন্দোলন

মাদরাসা খুলে দেয়া সময়ের দাবী : মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

স্বাস্থ্যবিধী মেনে খুলছে দেশের কওমী মাদরাসার হিফজ বিভাগগুলো

খুলছে হেফজখানা : খুলতে পারে কওমী বিভাগও

বেফাক সংকট সমাধানে দায়িত্বশীলরা দ্রুত উদ্যোগী হন : মুফতী ফয়জুল করীম

বেফাক ও কওমী মাদরাসা সংকট : মূল প্রশ্ন আড়ালেই থাকছে

বেফাকের ফোনালাপ ফাঁস ও মার্কশীট দুর্নীতি : ফেঁসে যেতে পারে শতাধিক মাদরাসা

মন্তব্য করুন