যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশু হত্যা : দ্রুত বিচার চায় ইশা ছাত্র আন্দোলন

প্রকাশিত: ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ঠুনকো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনজন শিশুকে পিটিয়ে হত্যা ও প্রায় ১৫ জন আহত করার যে নির্মম ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে তা চরম অমানবিক এবং জাহেলী যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. হাছিবুল ইসলাম এবং সেক্রেটারী জেনারেল নূরুল করিম আকরাম।

  • আজ ১৫ ই আগস্ট শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের চলমান হত্যাকান্ড গুলো দেখে মনে হচ্ছে আমরা সেই চিরচেনা বাংলাদেশ এখন আর নেই।

তারা বলেন – এখানকার মানুষগুলোর মধ্যে নৈতিকতাবোধ বলতে কিছুই নেই। পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষ বলে চালিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং এটাকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড বলে চালিয়ে দেয়া যায় না বরং এটি ঐচ্ছিকভাবে পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড।

নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশ অনেক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কমিটি দেখেছে কিন্তু তার বিচার দেখেনি। এই হত্যাকাণ্ডে কিশোরদের জবানবন্দিতে দুজন ব্যক্তির স্পষ্ট নাম উঠে এসেছে সুতরাং এখানে কোনো তদন্ত কমিটির খেলা না খেলে সরাসরি বিচার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আমরা আহবান জানাচ্ছি। যদি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোন গড়িমসি করা হয় তাহলে আমরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

প্রসঙ্গত : গত বৃহস্পতিবার ওই কিশোরদের ডেকে নিয়ে বেদম পেটানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। নিহত কিশোরেরা হলো বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৭) এবং খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান (১৭)। এ ছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আহত আরও ১৫ কিশোর।

অপরদিকে যশোরে তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক (সহকারী পরিচালক) আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ পাঁচজনের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া অপর চারজন হলেন সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান, ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর শাহানূর আলম এবং কারিগরি প্রশিক্ষক ওমর ফারুক। পুলিশ সুপার বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ১০ জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে গতকাল দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ কর্মকর্তার জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে। যে কারণে তাঁদের কিশোর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় নিহত কিশোর পারভেজ হাসানের বাবা খুলনার দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রোকা মিয়া যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তবে এজাহারে আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মন্তব্য করুন