ইসরাইল আমিরাতের মুসলিম স্বার্থবিরোধী চুক্তি : প্রত্যাখ্যান ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টের

প্রকাশিত: ৯:০২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম স্বার্থবিরোধী এক চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দুই দেশের মধ্যে কথিত এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ কথা আবার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু এবং ‘সফলতা’ বলে টুইট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

  • মিশর ও জর্দানের পর আরব আমিরাত তৃতীয় কোনো আরব দেশে যারা ইসরাইলের সাথে সমর্থন ও কুটনৈতিক চুক্তিতে গেলো। তবে জর্দান এবং মিশর ইসরাইলের সিমান্ত দেশ হিসেবে তাদের সাথে কুটনৈতিক চুক্তি থাকাটাকে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিলেও আরব বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে বিবেচিত ইসরাইলের সাথে আরব আমিরাতের এ চুক্তিকে অনেকেই স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না।

অপরদিকে এই চুক্তিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার ফোনে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়েহের সাথে কথা বলেছেন।হানিয়েহ আমেরিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরাইলের ত্রিপক্ষীয় এই কথিত চুক্তির ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এবং মাহমুদ আব্বাসের প্রতি সমর্থন আরও জোরদার করেছেন।

ফিলিস্তিনের ওয়াফার এক খবরে প্রকাশিত বিবৃতিতে হানিয়ে বলেছেন, “আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের মতামতকেই শ্রদ্ধা করি এবং তাদের সাথেই আমরা রয়েছি। একই সাথে আমরা সকলেই সেই প্রেসিডেন্টকেই সমর্থন করছি যারা জেরুজালেমকে পুরোপুরি ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এটিকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।

সাথে সাথে তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার খর্ব হয় এবং আন্তর্জাতিক নীতিবিরুদ্ধ এসব একতরফা ঘোষণা ও সিদ্ধান্তকে কড়াভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।”

গতকাল একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে আরব আমিরাত ও ইসরাইলের সাথে এই চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ আল নাহিয়ান আশা প্রকাশ করে বলেন ‘এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে’। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ‘মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কৌশলগত এজেন্ডায়’ ইসরায়েল ও ইউইএ যুক্ত হবে। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, তাঁদের আঞ্চলিক হুমকি ও সুযোগ একই ধরনের। তাঁরা কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সুসংহত করতে চান।

এছাড়াও এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, আজ বিশাল সাফল্য! “আমাদের দুই পরীক্ষিত বন্ধু ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি হয়েছে।”

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হিব্রু ভাষায় টুইট করেছেন, ‘ঐতিহাসিক দিন’। ইউএইর দূত ইউসুফ আল ওতাইবা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটা কূটনীতির জন্য জয়, এই অঞ্চলের জয়’। তিনি বলেন, আরব-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে শক্তি জোগাবে।’

উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর কারও সঙ্গেই ইসরাইলের তেমন কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রায় সবাই ইসরাইলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রেখেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আরব দেশের এই চুক্তি ১৯৪৮ সালে দেশটির স্বাধীনতা ঘোষণার পর মাত্র তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ইসরাইলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডান চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহগুলোতে ইসরাইল ও ইউএইর প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি ফ্লাইট, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং পারস্পরিক দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করার জন্য বৈঠকে বসবেন।

১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়  সম্পূর্ণ অন্যায় ও অন্যায্যভাবে ফিলিস্তিনের ভূমিতে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিঁষফোড়া খ্যাত রাষ্ট্র ইসরাইল। ওই বছরই আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ বেশ কিছু আরবভূমি দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৬৭ সালে আরব-ইইরায়েল যুদ্ধে ফিলিস্তিনের প্রায় পুরোটাই ও মিসরে সিনাইয়ের কিছু ভূমিও দখল করে ইসরাইল।

#আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন