যার নির্দেশে ভুতুড়ে বিল, ‘তিনিই’ তদন্ত কমিটির প্রধান!

প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

গত কয়েকমাসে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  জানা গেছে, যার নির্দেশে বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, তাকেই তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কাজের সাফল্য দেখাতেই অতিরিক্ত বিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আইসিটি বিভাগের পরিচালক এসএম শহিদুল ইসলাম। পরে অভিযোগ ওঠার পর ডিপিডিসি যে তদন্ত কমিটি করে তার প্রধান করা হয় শহিদুল ইসলামকেই। তখন তার কথার ওপর ভিত্তি করেই কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড এবং শোকজ করা হয়।

জানা গেছে, তদন্তের মাধ্যমে ৬২ হাজার ৯৬ জন গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোডের্র ৩৪ হাজার ৬১১ জন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ১৫ হাজার ২৬৬ জন, ঢাকা ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির দুই হাজার ৫২৪ জন, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৫৫৬ জন এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২ হাজার ৫৮২ জন ভুতুড়ে বিলের ভোগান্তির শিকার হন।

এ ঘটনার জের ধরে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো ১৩ জন মিটার রিডার এবং ডাটা অ্যান্ট্রি অপারেটরসহ মোট ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এসএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এসব করা হয়।

এ বিষয়ে যারা শোকজ পেয়েছেন তাদের একজন অভিযোগ করে জানান, এসএম শহিদুল ইসলামের নির্দেশেই তারা অতিরিক্ত বিল করেছিলেন। কোন এলাকায় কত ভাগ বেশি বিল করতে হবে তাও বলে দিয়েছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ ৬৫ ভাগ বিল করতে বলা হয়েছিল। গত ৮ এপ্রিল এ নির্দেশ সংক্রান্ত চিঠি ও ইমেইল তাদের কাছে পাঠানো হয়। বেশি বিদ্যুৎ বিল আদায় করে ‘পারফরমেন্স বোনাস’ নেয়াই ছিলো এর উদ্দেশ্য।

ডিপিডিসির এমডি বিকাশ দেওয়ান বলেন, এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছেন। পদের কারণে ওই সময়ে শহিদুল ইসলামকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছিল। তবে এখন পুরো ঘটনা জানতে নতুন তদন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ডিপিডিসি বাড়তি বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কোনো অফিসিয়াল নির্দেশ দেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, তারপরও এটা যদি কেউ করে থাকেন, সেটা তার ব্যক্তিগত দায়। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সময় কাটিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাড়তি বিল আদায়ের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সেটা সরাসরি দেশের প্রচলিত আইন বিরুদ্ধ কাজ। যারা এটা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করতে হবে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকৌশলী শামসুল আলম বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হলেও তারা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের কাজ হল দুই পক্ষের শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করা। কিন্তু সেটা তারা করেনি। শুধু কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা একটি চিঠির মাধ্যমে জানতে চেয়ে দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছে তারা।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন