ঢাকার ১৮ লাখ বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত!

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২০

রাজধানী ঢাকা শহরে দুই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। এদের মধ্যে ৯ শতাংশ অর্থাৎ ১৮ লাখ মানুষ মরণব্যাধী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর’বি) এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) যৌথ গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখানে বলা হয়, শুধু ঢাকার বস্তিগুলোতে বসবাস করা বাসিন্দাদের মধ্যে ৬ শতাংশই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত। তার মানে বস্তিগুলোতে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। কিন্তু ওই সব এলাকায় টেস্টিং সুবিধা নেই। ফলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যাটা অজানাই থেকে যাচ্ছে।

গত ১৮ এপ্রিল থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই গবেষণা চালানো হয়। এতে সম্পূর্ণ সহায়তা করে ইউএসএআইডি এবং বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। গবেষণার জন্য ৩ হাজার ২২৭টি বাসায় জরিপ চালানো হয়। যেখানে ২১১ জন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ১৯৯ জন করোনা পরীক্ষা করান।

জরিপে উপসর্গ রয়েছে এমন বাড়ি থেকে উপসর্গবিহীন ৪৩৫ জনের মধ্যে ২০১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, উপসর্গবিহীন বাড়ি থেকে ৮২৭ জনের মধ্যে ৫৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং ছয়টি বস্তি এলাকার ৭২০ বাড়ি থেকে পৃথক নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

যে সব বাড়িঘর পরিদর্শন করা হয়েছে সেগুলোর ৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির উপসর্গ পাওয়া গেছে। যা মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ। সে অনুযায়ী যত সংখ্যক বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে তার শতকরা ৯ শতাংশ কোভিড-১৯ পজেটিভ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

যাদের মধ্যে করোনার উপসর্গ পাওয়া গেছে তাদের ৯৩ শতাংশের জ্বর, ৩৬ শতাংশের কাশি, ১৭ শতাংশের গলাব্যথা এবং ৫ শতাংশের শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল এবং এদের ১৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়। জরিপের আওতাধীনের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগী মারা গেছেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীই শনাক্তকরণের বাইরে রয়ে গেছে। যেহেতু পরীক্ষার সংখ্যা কম, তাই শনাক্তের সংখ্যাও কম।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জরিপের জন্য আইইডিসিআরের নমুনার আকার নিয়ে আপত্তি তোলার সুযোগ নেই। এখানে গবেষণার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, আইইডিসিআর সচরাচর বিশ্বমানের গবেষণা করে থাকে। অনেকেই তাদের কাজের ওপর আস্থা রাখেন। এ জরিপের নমুনাগুলো পরিসংখ্যানগতভাবে গুরত্বপূর্ণ হলে জরিপের দিনই ঢাকা শহরের ৯ শতাংশ মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিলেন।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, এটা গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল। চূড়ান্ত ফলাফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। তখন এর প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন