খোঁজ পাওয়া যায়নি আশরাফ মাহদির, আলেমদের বিবৃতি : যা বলছেন তার বাবা

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২০

ইসলামি ঐক্যজোটের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মুফতী ফজলুল হক আমিনী (রহ) এর দৌহিত্র মিশর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও বাংলাদেশ ছাত্র জমিয়তে যোগ দেওয়া হাফেজ আশরাফ উদ্দীন মাহদীর খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনও।

প্রায় ৪৮ ঘন্টার কাছাকাছি সময় হয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন : ছাত্র খেলাফত থেকে জমিয়তে যোগ দিলেন মুফতী আমিনী দৌহিত্র

আশরাফ মাহদি ফেসবুকে তার নিজ আইডি থেকে ‘অপহরণ হয়ে যাচ্ছেন’ মর্মে পোস্ট দেওয়ার পর প্রায় দুই দিনের কাছাকাছি সময় পার হয়ে গেলেও কেউ জানে না তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন।

জানা যায় – আশরাফ মাহদীকে গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা লালবাগ কিল্লার মোড় এলাকা থেকে বাসায় যাওয়ার পথে কেউ তুলে নিয়ে যায়। তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে সে তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নিজেই তাঁর অপহরণের বিষয়ে পোস্ট করেন এবং লেখেন – “লালবাগ থেকে বাসা ফেরার পথে ওরা আমাকে তুলে নিয় যাচ্ছে। আমার কিছু হলে দায়ী থাকবে মুফতি ফয়জুল্লাহ আলতাফগং।” তবে অপহরণের সময় কিভাবে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সে বিষয়েও আলোচনা করেছেন অনেকে। যার প্রকৃত ব্যাখ্যাা এখনও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে তার বাবা লালবাগ মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন –

  • “আমরা তার ব্যাপারে এখনও কোনো খোঁজ পাইনি। এবং আমরা জানিও না সে কোথায় আছে। তবে তার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুলিশ খুবই তৎপর  ও আন্তরিক রয়েছেন এবং তারা আমাদেরকে জানিয়েছেন – দু’একদিনের মধ্যেই তারা আশরাফ মাহদিকে খুঁজে বের করবেন।”

‘আশরাফ মাহদিকে কারা তুলে নিয়ে যেতে পারে বা কাউকে তারা সন্দেহ করেন কি না’ জানতে চাইলে তিনি বলেন –

  • না, সে কোথায় আছে এ বিষয়ে আমরা এখনও কাউকে সন্দেহ করতে চাই না এবং আমাদের জানাও নেই যে, তাকে কে বা তুলে নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন – আমি চকবাজার থানাসহ কয়েকটি থানায় দৌড়াদৌড়ি করেছি এবং দীর্ঘ সময় থানায় ছিলাম। থানা থেকে আমাকে আশ্বস্থ করা হয়েছে যে তারা আশরাফ মাহদীকে খুঁজে বের করবেন। এমনকি আশরাফ মাহদি অপহরণের রাতের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজও পুলিশের হস্তগত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু অনুসন্ধান চালানো হয়েছে যাতে দেখা গেছে কওমী মাদরাসা ও ইসলামী রাজনীতি অঙ্গনের পারস্পরিক মতপার্থক্য ও বিভিন্ন দল-উপদলের কোন্দলের কারণেই এ ঘটনাগুলো ঘটছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশেষ একটি সূত্র দাবি করেছে – কওমী অঙ্গনের এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ো এখানে তৃতীয় পক্ষের কেউ সুযোগ নিতে পারে। যে বিষয়েও সতর্ক থাকা উচিত।

আশরাফ মাহদির বিদেশ থেকে ফেরত আসা : ফেসবুকে প্রতিবাদ কওমী তরুণদের

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রতিবাদ করছেন এবং কওমী অঙ্গনে বিষয়টি চর্চার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করছেন এবং আশরাফ মাহদির প্রকৃত সন্ধান দাবি করছেন।

এমনকি বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেমরাও। প্রায় ২৩ জন শীর্ষ আলেম বলেছেন, সর্বজনস্বীকৃত আধ্যাত্মিক জগতের রাহবার হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.)এর পরিবারের সদস্য মুফতী আমীনী (রাহ.)এর দৌহিত্র হাফেজ মাওলানা আশরাফ মাহদীকে গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ঢাকা লালবাগ কিল্লার মোড় এলাকা থেকে বাসায় যাওয়ার পথে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এবং এখন পর্যন্ত কোথাও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দেশের শীর্ষ ওলামা নেতৃবৃন্দ, ছাত্র জনতা ও সচেতন দেশবাসী গভীরভাবে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

আশরাফ মাহদীর দুটি লেখা :

গ্রেটেস্ট পিরামিড ও স্ফিংক্সের রহস্যরাজ্যে একদিন: আশরাফ মাহদি

একজন মুফতি ফয়জুল করিমের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা : আশরাফ মাহদি

আজ (৮ আগস্ট) শনিবার মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ ২৩ জন আলেম আরো বলেন, এদেশে গুম, খুন আর অন্যায়ভাবে হত্যার ফিরিস্তি অনেক লম্বা। আমরা হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.)এর ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আশরাফ মাহদীর অপহরণের ঘটনায় গভীরভাবে উৎকণ্ঠিত। আমরা বলতে পারি, এই পরিবারের সাথে যারা বেআদবী করবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

আলেম নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও আব্রু-ইজ্জতের হেফাজত করা সরকারের সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অত্যন্ত দু:খ ও পরিতাপের বিষয় যে, আজ দু’দিন গত হতে চলছে, আশরাফ মাহদী অপহরণের ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে জানাজানির হওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ ও হতাশা সত্ত্বেও সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সংস্থার পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন তৎপরতা বা প্রকিক্রিয়াই জাতি দেখতে পায়নি। আল্লাহ না করুন, আশরাফ মাহদীর কিছু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই দায়িত্বহীনতার দায় এড়াতে পারবেন না। ইতিপূর্বেও বিশ্ববিখ্যাত আল-আজহার ইউনিভার্সিটির এই মেধাবী ছাত্রকে মিশর যাওয়াকালে একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলক একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দুবাই থেকে দেশে এনে গ্রেফতার ও হয়রানির শেষ চেষ্টাটুকু করেছে।

আলেমগণ বলেন, এদেশের সর্বস্তরের মানুষের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতিক ছিলেন হযরত হাফিজ্জী হুজুর (রাহ.)। তাঁর রক্তের এই সম্ভাবনাময়ী উজ্জ্বল নক্ষত্র আশরাফ মাহদীর অপহরণ নাটকের অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অক্ষতভাবে তাকে তার পরিবারের নিকট পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য দেশপ্রেমিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের প্রতি আমরা উদাত্ত্ব আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিদাতা আলেমগণ হলেন- আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, আল্লামা নূরুল ইসলাম, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা), আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা মাহফজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুতিউর রহমান কাসেমী, মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির, মাওলানা ছানাউল্লাহ মাহমূদী, মাওলানা মীর ইদরিস, মাওলানা জসীম উদ্দীন (মাহদীর পিতা), মুফতি আব্দুর রহীম, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত : সম্প্রতি ফেসবুকসহ কওমী অঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বর্তমানে ফেসবুকে বেশ আলোচিত মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। কিছুদিন পূর্বে (গত ২৭ জুলাই) আশরাফ মাহদিকে গত ১৮ জু্লাই শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ছাত্র খেলাফত চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা ওসমান কাসেমের উপর অজ্ঞাত পরিচয়ের কিছু যুবকের হামলার বিষয়ে করা মামলায় দুবাই থেকে ফেরত আনা হয় এবং ২৮ জু্লাই চট্টগ্রাম আদালত থেকে তার জামিন হয়। জামিন হওয়ার পর তিনি চুপচাপ থাকলেও গত ৬ আগষ্ট পূনরায় তাকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া যায়।

ঘটনার শুরু যেভাবে :

গত মাসখানেক আগেই হঠাত করে ফেসবুকে প্রকাশ পেতে শুরু করে কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের বৃহত বোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ নিয়ে বিভিন্ন দাবি পাল্টা দাবি। কিছু ছদ্মনামের ফেসবুক আইডিসহ অনেকে প্রকাশ্যেও এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এ বিষয়ে পাবলিক ভয়েসের নিম্নোক্ত  প্রতিবেদনগুলো পড়লেই বিস্তারিত জানা যাবে।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন