জোয়ারে প্লাবিত শরীয়তপুরের বিস্তীর্ণ লোকালয় ; চরাঞ্চলে বিপদের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

টানা বন্যা, বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

জেলার গোসাইরহাট, ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া, জাজিরা ও ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে করে অনেকের মাছের ঘের, পুকুর, গবাদিপশু, হাস-মুরগি, ফসলাদি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

[গবাধি পশু নিয়ে বিপাকে আছে বাসিন্দারা]

গোসাইরহাটের কুচাইপট্টি, চর মাইজারা, কোদালপুর ও আলাওলপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জোয়ারের পানিকে প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে জোয়ারের সময় বাতাসের তীব্রতার কারণে বন্যার পানির সাথে জোয়ারের গতিবেগ বেড়ে যায় কয়েকগুন। পানির উর্ধ্বগামী স্রোতে মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। বিশেষ করে নদীর পাড় ও নদীবেষ্টিত চর এলাকার প্রায় শতভাগ বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর আজ বৃহস্পতিবারও জোয়ারের পানিতে ঘরবন্দি হয় এলাকাবাসী। এর আগে সমূহ বিপদ ও ক্ষতি থেকে বাঁচতে বৃহস্পতিবার সকালে ঘরবাড়ি ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ এলাকায় নিজেদের গবাদিপশু এনে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। একমাত্র ফ্লাডসেন্টার এখন মানুষের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আলাওলপুর ইউনিয়নের বন্যকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। ইউনিয়নের ব্যপক বন্যপ্রবণ এলাকা চর জালালপুরসহ ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন ইউপি চেয়ারম্যান উসমান গনি বেপারী।

[কাঁদাজল হেঁটে এলাকা পরিদর্শন করেন ইউপি চেয়ারম্যান উসমান বেপারীসহ অন্যান্যরা]

বেলা ১১টায় তিনি চর জালালপুরের ৮নং ওয়ার্ডভুক্ত মাঝের চর বারেক মাঝির কান্দি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ খবর নেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তিনি প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ধৈর্যের সাথে দূর্যোগ সামলে নেওয়ার পরামর্শ দেন ও প্রয়োজনীয় সহযোগীতার আশ্বাস দেন। এসময় ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার দেলোয়ার হোসেন দর্জি উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার প্রায় সবার বাড়িতে পানি উঠে গেছে। এজন্য এই চরের একমাত্র ফ্লাডসেন্টার এসডিএস একাডেমী মাঠে গবাদিপশু এনে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় অনেকেই বলেন, এই এলাকায় বসবাস শুরুর পর থেকে এতো বেশি পানি এর আগে কেউ দেখেনি।

[চারদিকে থৈ থৈ পানি]

এসময় উসমান বেপারী জানান, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বারেক মাঝির কান্দিসহ কয়েকটি চর আছে যার শতভাগ বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতো বেশি পানি হয়েছে যে, ইউনিয়নের মূলভুখন্ডের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফসলিজমি প্লাবিত থাকায় এমনিতেই লোকজন বিপর্যস্ত হয়ে আছে। সর্বশেষ বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। আশপাশের অন্যান্য এলাকা থেকেও অনেকে বাড়ি ঘর ভেঙ্গে এখানে মাদরাসার মাঠসহ অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।

উসমান বেপারী বলেন, আমরা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের নিয়মিত দান-অনুদান নিয়ে সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। এছাড়া দূর্যোগকালীন সময়ে সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে সহযোগিতা এলে সেগুলো যথোপযুক্তভাবে বন্টন করা হবে। এসময় তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও সামর্থ্যবানদের দূর্যোগকবলিতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া, আরশিনগর, চর ফেলিজ, কাচিকাটাসহ সখিপুর থানার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখনো পানি বন্দি হয়ে আছে। এসব এলাকার নেতৃস্থানীয়রা দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও সামর্থবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এসএস/এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন