লেবাননের বৈরুতে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

লেবাননে খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী এবং মেডিকেল টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয় প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে লেবাননকে যেকোন সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছারবেল ওহেবিকে ফোন করে সেদেশে বিস্ফোরণে নিহতদের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করার সময় এসব বিষয় অবহিত করেন।

এসময় ড. মোমেন বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য লেবানন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। লেবাননে গতকাল এক বিস্ফোরণে ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ প্রায় ১শ’ জন বাংলাদেশি আহত হন। এ ঘটনায় সেদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘‘বিজয়’’ এর ক্ষতি হয়।

অপরদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের একটি ওয়্যারহাউজে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত নৌসদস্যরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আহত ২১ জনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১১ জন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রেজা উল-করিম শাম্মী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

এতে বলা হয়, লেবাননে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত নৌসদস্যরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। আহত ২১ জনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১১ জন। গত ২০১০ সাল হতে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে।

প্রসঙ্গত : গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈরুতের বন্দর এলাকার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই জোড়া বিস্ফোরণে অন্তত ১০০ জন নিহত ও ৩ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে বিবিসি। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কী করে এতো বড় ধ্বংসযজ্ঞ ঘটল তার কারণ অনুসন্ধানের পর লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক প্রধান বলেছেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। পরিকল্পিতভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। বন্দর এলাকায় রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিস্ফোরক রাসায়নিক পদার্থের গুদামে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় ভিন্ন কিছু বিষয় রয়েছে বলেও দাবি করছে অনেকে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদামে ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মত বিস্ফোরক অনিরাপদভাবে রাখা ছিল। কোনো কারণে সেখানে আগুন লাগে আর তা বিস্ফোরিত হয়। এর আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছিল, আতশবাজির এক গুদাম থেকে এই বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে।

লেবাননের রাষ্ট্র-পরিচালিত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বন্দর এলাকায় একটি বিস্ফোরকের ডিপোতে আগুন লাগার পর ওই বিস্ফোরণ ঘটে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যে স্থানটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেখানে বন্দরের গুদাম রয়েছে। রাসায়নিকের মজুদ থাকা বন্দরের গুদামে প্রথম আগুন লাগার কথা জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর পর টুইটারে বিস্ফোরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই বিস্ফোরকের কারণেই এ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে বলে বোঝা গেছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, সেন্ট্রাল বৈরুতের আকাশে ধোঁয়ার লাল কুণ্ডুলী। এর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেন্ট্রাল বৈরুতের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন চিৎকার, ছুটোছুটি করেছে। বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বাসিন্দাদের তোলা ভিডিও এবং ছবিতে শহর জুড়ে ভবনগুলোর দরজা ও জানালার গ্লাস ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

মন্তব্য করুন