নেত্রকোনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমের শোক প্রকাশ

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

নেত্রকোনা জেলার মদন থানার উচিতপুরে ট্রলার ডুবে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকসহ প্রায় ১৮ জন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদসহ দেশের একাধিক মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শায়খে চরমোনাই মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম।

আজ বুধবার রাতে (৫ আগষ্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় তিনি নিহত মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকসহ সকলের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ খোঁজ খবর নিতে স্থানীয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

একই সাথে তিনি সবার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন – নিহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবার ও সকলের প্রতি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রকাশ করুন। সাথে সাথে মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আল্লাহ তায়ালার নিকট নিহতদের সকল গোনাহ ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করার দোয়া করেন এবং আহতদের প্রতি সর্বোচ্চ সমবেদনা প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় তিনি আরও বলেন – নেত্রকোণার উচিতপুরে ট্রলার ডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও বেদনাহত হয়েছি। এমন একটি ঘটনা কিভাবে ঘটলো এবং ট্রলারডুবির ঘটনায় কারো কোনো দায়সারা অপরাধ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখারও তিনি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন – একটি দুর্ঘটনায় এভাবে ১৮ জন মানুষের মৃত্যু হওয়া খুবই দুঃখজনক বিষয়। ঈদ পরবর্তি এ ধরণের আনন্দ উৎসব পালনের ক্ষেত্রে সবার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন জরুরী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সাথে হাওড়ে এ ধরণের মর্মান্তিক ঘটনা যাতে আর না ঘটতে পারে সেদিকেও সচেতনদের দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত : নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওরে ট্রলার ডুবে মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকসহ প্রায় ১৮ জন যাত্রী মারা গেছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন)। বুধবার দুপুরে উচিতপুর ট্রলারঘাটের অদূরে রাজালিকান্দা হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ঘুরতে আসা পর্যটক।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা বুধবার মদনের উচিতপুর এলাকায় হাওর ভ্রমণে আসেন। তারা একটি ট্রলারে করে উচিতপুর থেকে গোবিন্দশ্রীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় রাজালিকান্দা নামক স্থানে ট্রলারটি ডুবে যায়।

অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মদনের উচিৎপুর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ট্রলারটি ২০/২৫ জন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম হলেও সেখানে প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রবল বাতাসে অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। তাদের মধ্যে সাঁতরে ৩১ জনের তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা ডুবে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পরে স্থানীয় দমকল বাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।

মন্তব্য করুন