মেজর সিনহা হত্যা : পুলিশ সেনাবাহিনীর সম্পর্ক অটুট থাকবে

প্রকাশিত: ৯:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহল সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যেকার সম্পর্কে চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে। তবে যত উসকানিই দেওয়া হোক না কেন, দুই বাহিনীর সম্পর্ক কোনোভাবেই নষ্ট হবে না, অটুট থাকবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের। তারা উসকানিদাতাদের দেশ ও মানুষের কল্যাণের চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) কক্সবাজারে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এসব কথা বলেন। এসময় তারা এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে অভিহিত করেন।

যৌথ ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ বলেন, আমরা একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই— এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত, ঘটনার দায় তাদেরই। এর দায় প্রতিষ্ঠানের হতে পারে না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যাদের দোষী সাব্যস্ত করবে, তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কাউকে সহযোগিতাও করবে না, কারও বিপক্ষেও যাবে না।

সেনাপ্রধান বলেন, একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী। স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিতে দুই বাহিনী একযোগে কাজ করেছে। আমাদের মধ্যে পারস্পারিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহায়তার সম্পর্ক অনেক বছরের। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, আমাদের এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। এই সম্পর্কে চিড় ধরে— এমন কিছু সেনাবাহিনীর দিক থেকে হবে না, পুলিশ বাহিনীর দিক থেকেও হবে না।

জেনারেল আজিজ আরও বলেন, ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। আমরা সেটা নিয়ে মন্তব্য করব না। তবে আমরা আবারও বলছি, এই ঘটনা নিয় যেন কেউ সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক তৈরির বা দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরানোর প্রয়াস না চালায়, সে বিষয়ে আমরা সবাইকে অনুরোধ করব।

ব্রিফিংয়ে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ৫০ বছর ধরে আমরা দুই বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে চলছি। দুইটি প্রতিষ্ঠানই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে। এই যে গত তিন মাস দেশ করোনা সংকটের মধ্যে রয়েছে, এই সময়েও আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থার। যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধার এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় সৃষ্টি করবে বলে আমরা মনে করি না। বরং আমাদের লক্ষ্য হবে তদন্ত কমিটি যে প্রভাবমুক্ত হয়ে তদন্ত করে। তারা অনুসন্ধানের পর যে পরামর্শ দেবে, তা অনুসরণ করে এ ধরনের ঘটনা যেন পরে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করব।

উসকানিতে দুই বাহিনীর সম্পর্কের অবনতি ঘটবে না জানিয়ে আইজিপি বলেন, অনেকেই এ ঘটনা নিয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। কিন্তু দুই বাহিনীই অত্যন্ত দক্ষ, চৌকষ ও পেশাদার বাহিনী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এসব উসকানি দিয়ে কেউ সফল হতে পারবে না। যারা উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তারা সফল হবেন না।

আইজিপি আরও বলেন, পাশাপাশি যারা উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের বলতে চাই— দেশের কল্যাণের জন্য, রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য, জনগণের অগ্রগতির জন্য দয়া করে দেশকে ভালোবাসুন, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না।

এর আগে, বুধবার জেনারেল আজিজ ও ড. বেনজীর দুই বাহিনীর সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে কক্সবাজার পরিদর্শনে যান। সেখানকার দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনা তদন্ত করতে প্রথমে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলিকে আহ্বায়ক করে গত ১ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে একই দিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য রেখে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন