কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ‘চরদরবেশে’ জনদূর্ভোগে ২০ হাজার পরিবার

প্রকাশিত: ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০
দু বছরেও কোনো বিকল্প ব্যাবস্থা করেনি প্রকল্প কর্মকর্তারা।

ইউসুফ পিয়াস : নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক পরিচালিত”সোনাপুর টু জোরালগঞ্জ মহাসড়কের আওতাধীন মুছাপুর ছোটধলী টু বাগধারা বাজার এশিয়ান হাইওয়ে রোড সংযোগস্থল আহসান মাঝির ঘাট সংলগ্ন স্থানে (৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বাজেটে) একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

[দীর্ঘ সময় ধরে এভাবেই অব্যবস্থাপনায় নির্মিত হচ্ছে ব্রিজটি।]

  • প্রকল্পের ২ বছর অতিবাহিত হলেও ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ হতে আরো দীর্ঘ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

যে কোনো মহাসড়কের সংযোগ স্থলে ব্রিজের কাজ চলাকালীন বিকল্প নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন পুল বা কালভার্ট তৈরি হলেও পশ্চিম চরদরবেশের এ ব্রিজের পাশে বিকল্প কোন ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ।

[জনগণের চলাচলের বিকল্প ব্যাবস্থা ছাড়াই ব্রিজ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।]

ব্রিজটি উপর দিয়ে পশ্চিম চরদরবেশ ও মুছাুরের প্রায় ২০ হাজার পরিবারের মানুষ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবব্যস্থাপনার কারণে মারাত্মক ঝুকিতে নড়বড়ে বাসের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছে হাজার হাজার জনগণ।

[ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই সাঁকো পারাপার করে স্থানীয়রা। নির্বিকার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা]

স্থানীয় ব্যক্তিরা পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করার জন্য মুছাপুর বাংলাবাজারে যেতে হয় এই সড়ক পথ দিয়ে। কিন্তু তারা ভাঙ্গা নড়বড়ে সাঁকো হওয়ার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকার মানুষদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, আমরা করোনার এসময় এমন একটি পরিস্থিতিতে আসছে বর্তমানে এ অঞ্চলের কোন মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাতায়াতের অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হবে না।

এলাকার আরেক বাসিন্দা ইমন বলেন, এ জনদূর্ভোগের কারনে এ অঞ্চলের ঈদের আনন্দও বিঘ্নিত হতে যাচ্ছে। প্রতিদিন এ সড়কদিয়ে হাজার হাজার পর্যটনের গাড়ি মুছাপুর ক্লোজারে যাতায়াত করে কিন্তু বর্তমানে পর্যটনদের হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেক কষ্টে এ ব্রিজ পর্যন্ত এসে আবার ফিরে যেতে হয়।

[দু’বছর ধরে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের চলাচলের মাধ্যম এই সাঁকো]

ভুক্তভোগী কয়েকজন পর্যটক পাবলিক ভয়েসকে বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসে এভাবে ফিরে যেতে হবে কল্পনা করেনি যা আমাদের পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তারা কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, কতৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকার মানুষদের হয়রানি করছে তাদের দাবি হলো কতৃপক্ষ ইচ্ছা করলে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে যাতায়াত সহজ করতে পারতো কিন্তু তারা করে নাই।

বিষয়টি নিয়ে নোয়াখালীর ডিসি মহোদয় ও নির্বাহী প্রকৌশলির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ব্যাবস্থা করা হবে।

[বাঁশের এই সাকো দিয়েই চলাচল করে জনগণ।]

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চরদরবেশ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার নান্টু পাবলিক ভয়েসকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এলাকার মানুষের কষ্টের কথা শিকার করে তিনি আশ্বাস দেন ঈদের পূর্বেই যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তা করে দিবেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন বৃষ্টির চাপ থাকার কারণে আমাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ৭নং পশ্চিম চরদরবেশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভুট্টু পাবলিক ভয়েসকে জানান, তিনি ঐ এলাকা পরিদর্শন করে এসেছেন এবং সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথেও কথা বলেছেন এবং তিনি আশা রাখেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প রাস্তা তৈরি করে সমস্যা সমাধান করবেন।

এইচআরআর/আরআর/ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন