হজ্বের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তির দোয়া ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের আহবান

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

সামর্থবান মুসলমানদের পবিত্র ইবাদত হজের মূল পর্ব আজ সম্পন্ন হয়েছে। জাবালে রহমতের পাদদেশে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদানের মাধ্যমে এ বছরের হজ্বের মূল কার্যক্রম পালিত হলো।

  • এ বছর খুতবা দেন হজের খুতবায় নতুন নিয়োগ পাওয়া খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই, ৯ জিলহজ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সালাম দিয়ে হজের খুতবা শুরু করেন তিনি। খুতবার শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন। এরপর তিনি কয়েকটি আয়াত পাঠ করে মূল খুতবা শুরু করেন।

আরাফাতের ময়দানে হাজিদের উদ্দেশ্যে দেয়া খুতবায় তিনি প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে মুক্তি, গোনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত কামনাসহ সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি নানা নির্দেশনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বিষয়টি বারবার তুলে ধরেন।

তিনি খুতবায় বলেন – মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর সীমিত আকারে হজ্ব পালন করা হচ্ছে যা বিশ্ব মুসলমানদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। যেখানে লাখো মুসলমানদের সমাগম থাকতো সেখানে অল্পসংখ্যক মুসলমানদের নিয়ে এই হজ্ব পালন সবার মনেই কষ্টের দাগ তৈরি করে দিচ্ছে। তারপরও আমরা পবিত্র এই হজ্বের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন সবাইকে এই মহামারী করোনা থেকে মুক্তি দেন।

তিনি বলেন – তবে, এই পৃথিবীতে পরিস্থিতি যতই কঠিন হয়ে উঠুক না কেন, এই সমস্যাগুলি চিরকাল স্থায়ী হয় না। আল্লাহর রহমত সর্বদা আরও বিস্তৃত এবং তিনি যে পরিত্রাণ দান করেন তা সর্বদা বান্দার কাছেই থাকে।

এ ছাড়াও হজ্বের খুতবায় তিনি তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর ভয় তৈরির বিষয়ে বারবার বলেছেন। পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াত এনে তিনি বলেছেন –

প্রিয় মুসলমানগণ, আমি আপনাদের সবাইকে – পাশাপাশি নিজেকেও – আল্লাহ তাআলার তকওয়া অর্জন করার জন্য [তাঁর আদেশসমূহ পালন করে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞাগুলি এড়িয়ে] পরামর্শ দিচ্ছি। তাকওয়া হলো আল্লাহ তা’আলা সমস্ত পূর্ব ও পরবর্তী প্রজন্মকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে চলা। তাকওয়ার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাওহীদ: মনে রাখতে হবে সমস্ত ইবাদাত তা একাকী হোক বা সম্মিলিত হোক আল্লাহর নিকটে নিবেদিত। সুতরাং, কোনপ্রার্থনা, কুরবানী, নামাজ, বা অন্য কোন ইবাদত মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারও জন্য করা উচিত নয়।

দীর্ঘ খুতবায় তিনি আরও অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। মুসলিম জীবন কেমন হওয়া উচিত। মুসলমানদের সামাজিক, ধর্মীয়, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই তিনি তাঁর খুতবায় আলোচনা করেছেন। এবং এ বছরের খুতবা বাংলা ভাষাতেও অনুবাদ হয়েছে। ১৪৪১ হিজরির হজের পুরো খুতবা বাংলায় শুনতে https://arafat.gph.gov.sa এ ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলা মেন্যুতে ক্লিক করলেই শোনা যাবে।

প্রসঙ্গত : গত ২৮ জুলাই খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে ড. আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-মানিয়াকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি হলেন সবচেয়ে বেশি বয়স্ক হজের খতিব।

মন্তব্য করুন