৭ মাসেও গ্রেফতার হয়নি মনপুরায় আলেমদের উপর হামলাকারী সা’দপন্থীদের প্রধান আসামী

ফলোআপ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট : তাবলীগের দুপক্ষের পারস্পরিক বিবাদে প্রায় ৭ মাস আগে (গত ১ জানুয়ারী) মনপুরা উপজেলার থানার মোড়ে তাবলীগের মাও. সা’দ এর অনুসারী ও মাও. জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে মনপুরার এক মসজিদে জামাত আসার বিষয়কে কেন্দ্র করে মনপুরা মারকায এর শুরা সদস্য মাওলানা মাহবুব ও মাও. সাদের অনুসারী বলে পরিচিত সাবেক এক মেম্বার নুর ইসলামের সাথে কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে সোমবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধা ৬ টার দিকে আলেমদের উপর হামলা চালায় তাবলীগের মাওলানা সা’দ কান্ধলভী অনুসারীরা। সে সময় মাওলানা মাহবুব এর ছোট ভাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনপুরা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মাও. ইউনুস আহমেদ এর উপর মাওলানা সা’দ অনুসারী নুর ইসলাম মেম্বারের ছেলে সাগর ফরাজীর নেতৃত্ব হামলা করা হয়।

এর কয়েকদিন পরই মাওলানা ইউনুস আহমদ এর বড় ভাই মাহবুব মিয়ার উপরও সাগর ফরাজী কর্তৃক অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন : মনপুরায় আলেমদের ওপর সা’দপন্থী তাবলিগীদের হামলার অভিযোগ

একে একে দুটি হামলার পর এ বিষয়ে প্রতিবাদে উত্তাল হয় মনপুরা উপজেলার আলেম সমাজ। করা হয় প্রতিবাদ মিছিলও। এরপর প্রায় ৬ জনকে আসামী করে মনপুরা থানায় মামলা করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে মামলার আগামীদের উপর ওয়ারেন্টও জারী হয়। কিন্তু হামলার ৭ মাস পার হলেও মামলার প্রধান আসামী সাগর ফরাজীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা সত্বেও এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পড়ুন : মনপুরায় সা’দপন্থী কর্তৃক আলেমদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ

অনুসন্ধানে আরও জানা যায় – এ হামলার প্রধান আসামী সাগর ফরাজীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের সাথেও মারামারি করে সাগর ফরাজী ও তার বাবা নূর ইসলাম মেম্বারের লোকজন। পরবর্তিতে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ এনে মনপুরা থানায় পুলিশ বাদী মামলা করা হয়। এরপর খুব দ্রুততার সাথেই এ মামলার চার্জশীট দাখিল করে মনপুরা থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন পাবলিক ভয়েসকে বলেন – এ মামলার প্রায় সব আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খুব দ্রুততার সাথেই মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। সাগর ফরাজী নামের একজন আগামীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি কারণ সে এখনও পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে পেলেই গ্রেফতার করবো। তাছাড়া মামলার চার্জশীট দাখিল ও তার ওয়ারেন্টের কারণে যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি। তাছাড়া এ ঘটনায় মনপুরা থানা পুলিশ শুরু থেকেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারাধিন তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার অবশ্যই হবে বলেও বলেন তিনি।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন পাবলিক ভয়েসকে অভিযোগ করে বলেন – মনপুরা উপজেলার ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন-এর ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি সাগর ফরাজীকে। এমনকি আসামী সাগর ফরাজী ও তার বাবা নুর ইসলাম মেম্বারের ভয়ে এলাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে মনপুরার উলামায়ে কেরাম উপজেলা প্রশাসন-এর নিকট এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করলে প্রশাসন বারবার বিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এবং বিষয়টিতে প্রশাসনের আন্তরিকতার প্রশংসাও করেছেন তারা।

তবে আজকে ৭ মাস হয়ে গেলো এখনো আসামী সাগর গ্রেফতার হয়নি বলে কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে আলেমদের মধ্যে।

এ ব্যাপারে মনপুরার উলামায়ে কেরাম বলেন, দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরার মানুষ শান্তিপ্রিয় ও ইসলাম প্রিয়। এই মনপুরার মানুষ কোন দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেনা। এই শান্তি শৃঙ্খলা যারা বিনষ্ট করতে চায় তাদেরকে মনপুরা থেকে বয়কট করা উচিত এবং এ মামলার সকল আসামীকে দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।

পাবলিক ভয়েস/প্রতিবেদন

মন্তব্য করুন