করোনায় বৈশ্বিক বিপর্যয়, মানসিক বিপর্যয়

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

ফৌজিয়া অনু: বতর্মান এই বৈশ্বিক বিপর্যয়ে থমকে আছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে এসেছে এক বড় পরিবর্তন। ঘরে বন্দি হয়েই চলে যাচ্ছে আমাদের ছোট জীবনের বেশ কিছু মূল‍্যবান সময়। তবে কেউ কেউ আবার জীবিকার তাগিদে কাজে ছুটছেন। কিন্তু রুটিন যার যেমনই হোক না কেনো, সবার মাঝেই বিরাজমান রয়েছে এক চাপা আতঙ্ক। যার ফলস্বরূপ মানসিক ব‍্যাধি গুলো জড়িয়ে ধরছে সবাইকে। প্রতিনিয়ত আসা খারাপ সংবাদগুলো আমাদের নেতিবাচক হতে বাধ্য করছে।

এমতাবস্থায় তাহলে করনীয় কি………?

করনীয় অনেক কিছুই হতে পারে। তবে শুরুতেই নিজেকে নিজের আবিস্কার করাটা জরুরি। আমি কি চাই, আমার কি ভালোলাগে কিংবা মন্দ লাগে। আমার প্রতিভা গুলো কি কি। আমি কোন কাজ করতে সবথেকে বেশি পছন্দ করি।

সবাই যেমন, আপনাকেও যে তেমনি হতে হবে\সেই কাজগুলোই করতে হবে এমন নয়। আপনার যেটা আছে সেটা অন‍্যের নেই, তাই নিজেকে জানুন এবং সেভাবেই পরিচর্যা করুন। Quarantine -এর এই সময়টাকে নিজের কাজে লাগান। যেমন: আপনার প্রতিভা সাহিত্যে, কিন্তু সবাই computer নিয়ে কাজ শিখছে তাই আপনিও নিজের মন কে বাধ্য করে সেটা করবেন, এটা কি নিজেকে নিজে torture করা নয়?

নিজেকেই নিজে depressed না করে, নিজের সাথে কথা বলে decision-এ আসুন। কারন আপনার থেকে ভালো আপনাকে কেউ চিনে না। আপনার মন যে কাজে সায় দিবে সেটা করার চেষ্টা করুন। একজন মানুষ সব বিষয়ে পারদর্শী হতে পারে না। আপনার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে, আপনি যে কাজকে ভালোবাসেন সেটা করার চেষ্টা করুন। তাতে করে সফল হওয়ার সম্ভবনা অনেকটা বেশি থাকবে।

মানসিকভাবে ভালো থাকার অন্যতম উপায় হলো পরিবারের সাথে সময় কাটানো। পরিবারের সদস্যদের সাথে quality time কাটান। যেকোনো বিষয়ে পরিবারের সাথে আলাপ-আলোচনা করুন। তাতে করে আপনার মানসিক চাপ কমে যাবে। এছাড়াও ছোট/বড় ভাইবোনের সাথে খুনসুটির পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক debate করতে পারেন।

পড়ালেখা ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি অনলাইনে অনেক কাজ করা ও শেখার সুযোগ রয়েছে তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে। করোনাকালের গৃহবন্দি হয়ে থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেন যে কোনো অনলাইন কাজ করে। বর্তমান সময়ে অনলাইনে ভালো আয় করার সুযোগও রয়েছে। কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অনায়সে আপনার সময়টা কেটে যাবে। আর কাজের মধ্যে থাকলে আপনার মানসিক বিপর্যয় হওয়ার সম্ভবনা খুব কম।

এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, একটা simple রুটিন maintain করা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহন ইত্যাদি তো আমরা জানিই। সর্বোপরি শুধু নিজের না,কাছের মানুষদের mental health -এর দিকেও খেয়াল রাখুন।

মন্তব্য করুন