আমরা গাছ লাগাই, জামায়াত এসে ফল খায় : বিএনপি নেতা

যে কোনো সময়ে জামায়াত ছাড়তে পারে বিএনপি

প্রকাশিত: ৬:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

চারদলীয় জোট থেকে জামাতকে ইসলামকে বিদায় দেওয়া প্রসঙ্গে বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন –

আমরা গাছ লাগাই আর তারা এসে ফল খায়। জামাতের যে দুর্নামটি আছে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে। বিএনপি কেন এটা বয়ে বেড়াবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা মুক্তিযোদ্ধার ধারায় রাজনীতি করতে চাই। এবং জামায়াতকে ছাড়ার পক্ষেই মতামত দেই।

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে হুট করেই আলোচনায় এসেছে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি জোট থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে।

এ বিষয়ে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে ঢাকার একটি সংবাদপত্র এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওই সংবাদে সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ সদস্যই জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের জন্য মত দিয়েছেন। এখন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগেও অনেকবার জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কচ্ছেদের সংবাদ শোনা গিয়েছে।

এছাড়াও বিএনপির একাধিক নেতারা সরাসরিই জামায়াত ছাড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন- বিএনপি একটি মুক্তিযোদ্ধার দল। আমি বিএনপি করি, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কিন্তু যখন অনেক জায়গায় আমরা যাই তখন তারা আমাদেরকে এমন ভাবে ট্রিট করে যেন আমরা রাজাকারের সন্তান। আমাদের সাথে জামাত জোটবদ্ধ আছে বলেই এই দাগটা আমাদের নিতে হয়। তাই জামায়াতের সাথে এখন জোটবদ্ধভাবে রাজনীতি করা উচিত নয় বলে মনে করি।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন- স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সাথে রাজনীতি করতে পারে না। বিএনপির রাজনৈতিক অনেক ভুলের সমাহারের মধ্যে এটাও একটা বড় ভুল যে জামাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বিএনপির রাজনীতি করা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন – দল যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেই সিদ্ধান্তের সাথে আছি। তবে এই মুহূর্তে বিএনপি জামাতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। তাতে আমি মনে করি নতুন প্রজন্মের কাছে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং এতে করে বিএনপি আরো শক্তিশালী হবে।

প্রসঙ্গত : ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়তে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট গঠন হয়। একসঙ্গে আন্দোলনের পর এই জোট ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পায় এবং সরকার গঠন করে। শুরুর দিকে চারদলীয় জোটের শরিক ছিল এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামী। একপর্যায়ে এরশাদ চার দল ছেড়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে গেলে জাতীয় পার্টির নেতা নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে দলটির একটি অংশ (যা পরে বিজেপি হয়) চার দলে থেকে যায়। চারদলীয় জোট পরে ১৮ দলীয় জোট এবং যা আরও পরে ২০-দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়।

অষ্টম জাতীয় সংসদ থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচন করেছে বিএনপি-জামায়াত।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন