বেফাক সংকট সমাধানে দায়িত্বশীলরা দ্রুত উদ্যোগী হন : মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০
বেফাক সংকট সমাধানে দায়িত্বশীলরা দ্রুত উদ্যোগী হন : মুফতী ফয়জুল করীম

বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা সমূহের সর্ববৃহৎ শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ নিয়ে চলমান সংকট বিষয়ে বিশেষ একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশের প্রথিতযশা ও পরিচিত একজন আলেম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)।

আজ বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন – বেফাকের চলমান সংকট নিরসনে দায়িত্বশীল পর্যায়ের ব্যক্তিগণ অতি দ্রুত উদ্যোগী না হলে তিনিসহ আরো ওলামায়ে কেরামদের নিয়ে দেশের সচেতন আলেমদের সাথে পরামর্শ করে বেফাক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবেন তারা।

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন পন্থায় বেফাকের দায়িত্বশীলদের ফোনালাপ ফাঁস ও বিভিন্ন বিতর্ককে তিনি ‘ওলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলার একটি পথ বলে মনে করছেন বলেও ভিডিও বার্তায় জানান।

বিস্তারিত ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেন – বাংলাদেশের মাদ্রাসাসমূহের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর দায়িত্বশীল ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যে বিতর্ক শুরু হয়েছে- বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন পক্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করছেন এবং এরপর তা প্রচার করছেন। যাতে পরিবেশ এতোটাই নোংরা করে তোলা হয়েছে যে- সাধারণ মানুষের কাছে বেফাকের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

এছাড়াও এ কাজের দ্বারা ওলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার যে একটি জায়গা ছিল তা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বলেও বলেন তিনি। সামগ্রিকভাবে যা দেশের সকল ইসলামপন্থীদের জন্য কুফল বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন – বেফাকের সঙ্গে আমরা সব সময় আন্তরিক ভাবে জড়িত ছিলাম। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড বেফাকের অন্তর্ভুক্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠান বলে পদাধিকার বলে আমীরুল মুজাহিদীন হযরত পীর সাহেব চরমোনাই বেফাকের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং কুরআন শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা নুরুল হুদা ফয়েজী সাহেব দামাত বারকাতুহুম বেফাকের সহকারি মহাসচিব দায়িত্বের কারণে নয় বরং এদেশের সহিহ ধারার ওলামায়ে কেরামদের দ্বারা নিয়ন্ত্রনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বেফাকের প্রতি আমাদের নৈতিক ও আদর্শিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।

এজন্যই বেফাকের কোন সংকট তৈরি হলে আমরা বিচলিত না হয়ে পারি না। বর্তমানে আমরা বেশ কিছুদিন ধরে দূর থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ভেবেছিলাম দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সঙ্গে সঙ্গে সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল ও ঘোলাটে হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে সারাদেশের ওলামা এবং তোলাবারা জড়িয়ে পড়ছে।

আমাদের কাছে ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে নানামুখী অনুরোধ আসছে বেফাকের সংকট নিরসনে গঠনমূলক কোন উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এসব বিবেচনা করে তাদের উচিত পরিস্থিতি বাস্তবতা উপলব্ধি করে সংকট নিরসনে উদ্যোগী হয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার দিকে তাকিয়ে আছি।

যদি তারা দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হন তাহলে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি সত্যিকারের সমাধান করতে আমরা দ্রুত দেশের সচেতন ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে বেফাকের পুনঃগঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ।

আমরা চাই এদেশের হক্কানী  ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা পক্ষের প্রভাববলয়ে না থেকে বেফাক নিরপেক্ষভাবে তার গঠনমূলক প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করুক। কেউ যাতে জবাবদিহিতার বাইরে না থাকে এমন একটি গ্রহণযোগ্য সিস্টেমও তৈরি করা হোক।

আরও পড়ুনঃ

বেফাকের ফোনালাপ ফাঁস ও মার্কশীট দুর্নীতি : ফেঁসে যেতে পারে শতাধিক মাদরাসা

বেফাকের অস্থিরতা: গুঞ্জনের ডালপালা পক্ষ-বিপক্ষ ও অনেক পক্ষ

বেফাক থেকে তিনজন বরখাস্ত : দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলবে

বেফাকে অনিয়ম : বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ

বেফাক ও কওমী মাদরাসা সংকট : মূল প্রশ্ন আড়ালেই থাকছে

বেফাক থেকে বহিস্কার বিষয়ে যা বলছেন মুফতী তোয়াহা

বেফাক থেকে বহিস্কার ও ‘ফোনালাপ’ বিষয়ে যা বলছেন মুফতি আবু ইউসুফ

বেফাক মহাসচিব আল্লামা কুদ্দুস নির্দোষ : আল্লামা শফী

শ্রুতিলিখন : আবু আম্মার

মন্তব্য করুন