কলসকাঠীতে ব্রিজ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা, দ্রুত নির্মানের দাবি সাধারন জনতার!

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

মহিব্বুল্লাহ মহিব,বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের খাদ্য গুদাম সংলগ্ন আয়রন ব্রিজটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায়। বহুদিন ধরে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সেতুটির খুঁটি রেলিং ভেঙে অচল হওয়ায় ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম এই ব্রিজটি। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পথচারী পারাপার হচ্ছে এই ব্রিজের উপর দিয়ে। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে যাতায়াত করতে এই ব্রিজটি তাদের একমাত্র ভরসা। সেতুটির ঢালাইয়ের পাশাপাশি খুঁটি ও রেলিং ভেঙে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার অাশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাকেরগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় কর্মকর্তারা জানান প্রায় ১৭ বছর বছর আগে কলসকাঠি ইউনিয়নের খাদ্য গুদাম সংলগ্ন খালের উপর এলজিইডির অর্থায়নে এই অায়রন ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তৎকালীন সময়ে সেতুটি সংস্কার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন,ভুল ডিজাইন,কম বরাদ্দ,ব্রিজটির পাশে উপজেলা খাদ্য গুদাম এসব মাথায় না রেখে দায়সারা ভাবে সেতুটি নির্মাণ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের সে ভুলের মাশুল এখন আমাদের গুনতে হচ্ছে।
বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে কলসকাঠী বিএম একাডেমী,কলসকাঠী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,কলসকাঠী ডিগ্রী কলেজ,কলসকাঠী কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও একটি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ কলসকাঠী ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকজন চলাচল করে।সেতুটির মাঝ বরাবর অন্তত পনের থেকে বিশ ফুট অংশ ভেঙে গেছে এবং দক্ষিণ দিকে হেলে পড়েছে।

এসব গ্রামের মানুষকে কলসকাঠীতে অবস্থিত হাসপাতাল, ইউনিয়ন তফসিল অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। লোহার ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় কাঠের গুঁড়ি দিয়ে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে তাও ভেঙে গেছে। ফলে মানুষ হাঁটাচলা করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে। এলাকার মানুষকে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পার হতে হয়। ব্রিজটি পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

পথচারী এক শিক্ষার্থী বলেন,স্কুলে যাওয়ার জন্য ব্রিজটি পারাপারের সময় ব্রিজের পাটাতনের ফাঁকে পা পড়ে যায়।তাই ব্রিজটি পূর্ননির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই। এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন,শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত আয়রন ব্রিজটি অপসারণ করে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানাই,নয়তো ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়তে পারে লোকজন।

কলসকাঠী ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জোমাদ্দারের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে জানা যায়,ইতিমধ্যে তিনি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি এলাকাবাসীর স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি পূর্ননির্মানের দাবি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাকেরগঞ্জ মাধবী রায় বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্রীজটি পরিদর্শনের জন্য বলেছি উনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। ব্রীজ দিয়ে কোনো গাড়ি চলাচল যেনো না করতে পারে তার ব্যবস্থা করেছি। এবং লাল পতাকা টানিয়ে সর্তকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে বিষয়টি মুঠোফোনে বলেছেন;ব্রীজটি পরিদর্শনে যাবো,এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন