বেফাক মহাসচিব আল্লামা কুদ্দুস নির্দোষ : আল্লামা শফী

বেফাক প্রসঙ্গ

প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের সাথে বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের সাথের কয়েকটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় নিজ বিবৃতি জানিয়েছেন বেফাক ও হাইআর সভাপতি ও হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী।

গণমাধ্যমে পাঠানো ও বেফাকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি আল্লামা আবদুল কুদ্দুসকে এ ইস্যুতে নির্দোষ ঘোষণা করে বলেছেন – “আব্দুল কুদ্দুস সাহেব নিজের কাজের ব্যাপারে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি লিখিতভাবে আমার নিকট কারণ দর্শনের পাশাপাশি আরোপিত বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজের ব্যাখ্যা দেন। এসব বিচার-বিশ্লেষণ করে আমার কাছে এসব যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় আলোচনা বলেই সাব্যস্ত হয়। তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং তার এই ফোনালাপ এবং কার্যক্রমকে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করা যায় না। আমি তার ব্যাখ্যা ও কারণ দর্শানোর সন্তুষ্ট। গঠনতন্ত্র ও আইনের কোনো ব্যত্যয় না হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করছি”

এ বিষয়ে আল্লামা শফী স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিটি এখানে প্রকাশ করা হলো –

সম্প্রতি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব যিনি গঠনতান্ত্রিক পদাধিকারবলে আল হাইআতুল উলিয়া কো-চেয়ারম্যান, তার অধীনস্থ কর্মকর্তার সাথে দাপ্তরিক বিষয়ে কৃত ফোনালাপ রেকর্ড করে বিকৃত, খন্ডিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ বিষয়টি আমার গোচরে এলে আমি এর আদ্যোপান্ত তদন্ত ব্যখ্যাও তলব করি। এসবের ব্যাপারে কারণ দর্শানো ও আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ দেই। যার ফলে বেফাক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব নিজের কাজের ব্যাপারে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি লিখিতভাবে আমার নিকট কারণ দর্শনের পাশাপাশি আরোপিত বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজের ব্যাখ্যা দেন। এসব বিচার-বিশ্লেষণ করে আমার কাছে এসব যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় আলোচনা বলেই সাব্যস্ত হয়। তার ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং তার এই ফোনালাপ কার্যক্রমকে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করা যায় না। আমি তার ব্যাখ্যা ও কারণ দর্শানোর সন্তুষ্ট। গঠনতন্ত্র আইনের কোনো ব্যত্যয় না হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ মনে করছি।

যেহেতু বেফাক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান সেহেতু জাতীয় স্বার্থে এর সংরক্ষণ ও স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সাধারণভাবে কোনো অসতর্কতার ভিত্তিতে বেফাকের স্বার্ষ নষ্ট হয় এমন কোনো আচরণ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সবার প্রতি অনুরোধ করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়ম মেনে নিজ নিজ কাজ করার এবং এক ও নেক থাকার তৌফিক দান করুক।

আরও পড়ুন : 

বেফাক ও কওমী মাদরাসা সংকট : মূল প্রশ্ন আড়ালেই থাকছে

বেফাকের অস্থিরতা: গুঞ্জনের ডালপালা পক্ষ-বিপক্ষ ও অনেক পক্ষ

বেফাক থেকে বহিস্কার ও ‘ফোনালাপ’ বিষয়ে যা বলছেন মুফতি আবু ইউসুফ

বেফাক থেকে বহিস্কার বিষয়ে যা বলছেন মুফতী তোয়াহা

বেফাকের ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত আল্লামা শফীর বিবৃতি

মন্তব্য করুন