বেফাক থেকে বহিস্কার ও ‘ফোনালাপ’ বিষয়ে যা বলছেন মুফতি আবু ইউসুফ

বেফাকে অস্থিরতা

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০
বেফাক থেকে বহিস্কার ও ‘ফোনালাপ’ বিষয়ে যা বলছেন মুফতি আবু ইউসুফ।

আহমাদুল্লাহ আল জামি : বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা শিক্ষার সর্ববৃহত শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ এর বেশ কিছু অনিয়ম ও বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ-এর সাথে বিভিন্নজনের ফোনালাপ ফাঁস বিষয়ে উত্তাল হয়ে আছে কওমী মাদরাসা অঙ্গন।

ফোনালাপ ফাঁস ও বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই গত ১৪ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ শুরা সদস্য আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেফাকের খাস কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বেফাকের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলকে বহিস্কার করে দেয়া হয়।

পড়ুন : বেফাকের অস্থিরতা: গুঞ্জনের ডালপালা পক্ষ-বিপক্ষ ও অনেক পক্ষ

সিদ্ধান্ত তিনটি হলো – ০১. বেফাকের শৃঙ্খলা বিরোধী নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ মাওলানা আবু ইউসুফকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত।

০২. ফোনালাপে বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা তোয়াহা নামও ওঠে এসেছে। নানা অনিয়ম ও বেফাকের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাকেও বরখাস্ত।

০৩. পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণীকে এ মুহূর্ত থেকে বেফাকের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আল্লামা কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বহিস্কৃত তিনজনই এরপর মুখ খুলেছেন। প্রথমেই এ বিষয়ে কথা বলেছেন বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা তোয়াহা।

পড়ুন : বেফাক থেকে বহিস্কারের বিষয়ে যা বলছেন মুফতী তোয়াহা

এরপর বহিস্কার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে কথা বলেছেন বেফাকের পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণী। তিনি এই বহিস্কার আইসম্মত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এবং আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত আসার ব্যাপারে বলেছেন – ‘আল্লামা কাসেমীই তো এক সময়ে বেফাক থেকে বহিস্কৃত, তিনি আমাকে বহিস্কার করবেন কিভাবে’?

বহিস্কারের বিষয়ে আবদুল গণির বক্তব্য পড়তে ক্লিক করুন এখানে

বেফাক নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে মুখ খুলবেন আল্লামা আ. কুদ্দুস

 

এই আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন বেফাকের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফ। যেহেতু ফোনালাপগুলো সবই ছিলো মাওলানা আবু ইউসুফের সাথে তাই তাঁর বক্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো সবার জন্য। এ ছাড়াও বহিস্কারের ঘোষণার পর থেকে তিনি অনেকটা নিরব ছিলেন এবং তাঁর সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছিলো না।

  • সম্প্রতি বিশেষ একটি সূত্রের মাধ্যমে পাবলিক ভয়েসের সাথে যোগাযোগ হয় মাওলানা আবু ইউসুফের সাথে। তিনি তাঁর উপর আরোপিত অভিযোগ বিষয়ে লিখিত আকারে দীর্ঘ মতামত পাঠিয়েছেন। পাঠকদের জন্য পাবলিক ভয়েসের পক্ষে তাঁর মতামতটি হুবহু তুলে ধরেছেন আহমাদুল্লাহ আল জামি –

পাঠকদের জন্য তাঁর মতামতটি হুবহু তুলে ধরা হলো –

প্রিয় তালিবানে ইলম ও উলামায়ে কেরাম! আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ।

গত কয়েকদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ একটি অজ্ঞাত ফেইক আইডি থেকে কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড ‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের’ নীতিনির্ধারক মুরব্বিদের সাথে আমার কিছু খণ্ডিত ফোনালাপ প্রচার করেছে একটি মহল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ফোনালাপ প্রচার হওয়ায় উলামা-তলাবাদের মাঝে এক প্রকার ক্ষুব্ধতা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আমি আমার কর্ম জীবনের বড় একটি অংশ এই দ্বীনি শিক্ষা বোর্ডের খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম বিধায় ‘আমার ফোনালাপকে’ কেন্দ্র করে যে বিতর্ক ও ক্ষুব্ধতা তৈরি হয়েছে-উলামা তলাবাদের মাঝে, সে সম্পর্কে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা একান্ত জরুরি মনে করছি। এবং সংক্ষেপে বেফাকে আমার নিয়োগকাল হতে অব্যহতি প্রদান পর্যন্ত আমার সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোর মূলকথা আপনাদের সামনে তুলে ধরা দ্বীনী দায়িত্ব ও শরয়ী প্রয়োজন মনে করছি।

এক. বেফাকে আমার নিয়োগপ্রাপ্তি ও কিছু ঘটনাবলী :

১৪৩৪ হি: সনের জিলহজ্ব মাসে বেফাকের জনবল নিয়োগ সাব কমিটি কর্তৃক আমাকে অস্থায়ী ভাবে বেফাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। পূর্ণ এক বছর আমার কর্ম দক্ষতা ও বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার পর ১৪৩৫ হি: সনে আনুষ্ঠানিক ভাবে মজলিসে আমেলার সকল সদস্যবৃন্দের সমর্থনের মাধ্যমে আমাকে স্থায়ী ভাবে ‘নাযেমে ইমতিহান’ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

বেফাকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই নানা বাধা-বিপত্তি ও চড়াই উতরাই আমাকে পার হতে হয়েছে। বেফাকের কল্যাণে কাজ করেও অনেকের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রোষানলেও পড়তে হয়েছে আমাকে। তবুও আমি এটাকে জাতীয় দ্বীনি খেদমত হিসাবে গ্রহণ করেছি বিধায় ছয় বার ‘ইস্তফাপত্র’ দেয়ার পরও মুরুব্বিদের সান্ত্বনা ও মার্জিত আদেশে প্রতিবারই থাকতে বাধ্য হয়েছি। বেফাকে আমার নিয়োগপ্রাপ্তির পর থেকে কখনো কারো কটু কথায় ভেঙ্গে পড়লে সান্ত্বনার বাণী শুনাতেন মরহুম মাওলানা আঃ জাব্বার জাহানাবাদী সাহেব থেকে শুরু করে সকল মুরব্বিগণ।

আমার বেশ কয়েকবার ‘ইস্তফাপত্র’ দেয়ার বিষয়টি একটু স্পষ্ট করে দিচ্ছি-

১.বেফাকে আমার কর্ম দিবসের তিন দিনের মাথায় বাদ যোহর আমি সর্বপ্রথম ইস্তফানামা পেশ করি অফিসিয়াল কিছু সমস্যার কারণে। কিন্তু মরহুম মাওলানা আব্দুল জাব্বার সাহেব (রহঃ) আমার ‘ইস্তফাপত্র’ গ্রহণ না করে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। ২. এরপর ইমতিহান (পরীক্ষা) কমিটি বরাবর আমার ইস্তফাপত্র দিয়েছি। ৩. প্রশ্নপত্র তাসহীহ কমিটির প্রধান মরহুম আল্লামা আশরাফ আলী সাহেব (রহঃ) এর নিকট। ৪. পরম শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব দাঃবাঃ বরাবর। ৫. মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব দাঃবাঃ এর বরাবর। ৬. শ্রদ্ধাভাজন আল্লামা সাজিদুর রহমান সাহেব দাঃবাঃ, মুহতারাম আল্লামা নুরুল ইসলাম সাহেব দাঃবাঃ এর নিকট।

কিন্তু তাদের কেউই আমার ইস্তফা গ্রহণ করেননি।উপরন্তু আমাকে অনুরোধ করে বারবার রেখে দিয়েছেন। অনুসন্ধানী পাঠক জীবিত মুরুব্বিদের থেকে তার সত্যতা যাচাই করতে পারেন। এতে আমার কোন আপত্তি নেই। এই কথাগুলো কখনো এভাবে মিডিয়ায় বলতে হবে ভাবিনি! কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে। একটি মহল আমাকে পদলোভী এবং পদের জন্য মুরুব্বিদের কাছে লবিংকারী, আঁতাতকারী বলে গালাগাল দিচ্ছেন, তাদের কারণে আজ এসব বলতে হলো আমাকে।আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।

দুই. আমার উপর আরোপিত অভিযোগসমূহ এবং সেসব বিষয়ে আমার বক্তব্য।

আমি অনলাইনে সক্রিয় না থাকায় সব আপত্তি আমার কানে না আসলেও বিভিন্ন মাধ্যমে বেশ কিছু আপত্তি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। দ্বীনী চেতনা ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি ধারাবাহিকভাবে আপত্তিগুলোর জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

আমার প্রতি আরোপিত অভিযোগ ও আপত্তিসমূহ :

১.”মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব এর সাথে “স্বল্পপেন্নাই” মাদরাসার ছাত্রদের মেশকাত জামাতের মার্কশীট তৈরিতে অনিয়ম। ২. মহাসচিবের সাথে সহকারী নাযেমে ইমতিহান নিয়োগের ব্যাপারে স্বজনপ্রীতির অনুমোদন। ৩.”মাওলানা আব্দুল গণি” সাহেবের সাথে ‘দাওরায়ে হাদীসের’ ফলাফলে স্বজনপ্রীতি। ৪. “মাওলানা আনাস মাদানী সাহেবকে” “খাস” কমিটি ভেঙ্গে দিতে আবেদন ও বড়দের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল আচরণ। ৫. বেফাকের খাতা বন্টনে অনিয়ম।

  • ১ ম অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য:

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক হাইআতুল উলয়ার অধিনে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসকে মার্স্টার্সের মান দেওয়ার দুই বছর পর মুরুব্বিদের সম্মিলিত নতুন সিদ্ধান্তে দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আল হাইয়াতুল উলইয়ার শর্ত ছিল –”বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসার সর্বমোট ৬ টি বোর্ডের যেকোনো একটি বোর্ড থেকে ফজিলত (মেশকাত) জামাতের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া। কেউ যদি ফজিলত জামাতে এই বোর্ডগুলো থেকে পরীক্ষা না দিয়ে থাকে তবে তাদেরকে হাইআতুল উলইয়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পড়ুন : বেফাকের মার্কশীট দুর্নীতি ও বিশেষ একটি প্রতিবেদন

পরবর্তীতে হাইআতুল উলইয়ার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য সারাদেশের শতাধিক মাদ্রাসার ফজিলত জামাতের মার্কশিট নিয়ে নিবন্ধন জটিলতা সৃষ্টি হলে বিষয়টির সুরাহার জন্য বেফাকের মিটিংয়ে পেশ করি। সেখানে এই মাদরাসাগুলোর নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।কমিটিতে যারা ছিলেন:

  • মহাসচিব মাওঃ আব্দুল কুদ্দুস দাঃবাঃ
  • মাওঃ মাহফুজুল হক দাঃবাঃ
  • মাওঃ মুফতী নুরুল আমীন দাঃবাঃ

এবং যাচাই বাছাইয়ের জন্য সহযোগী হিসাবে আমাকে ও পরীক্ষা বিভাগের মুহাম্মাদ রফিক সাহেবকে সঙ্গে নেন। আলহামদুলিল্লাহ বেশ কিছু মাদরাসার জটিলতা কেটে গেলেও কিছু মাদরাসা থেকে যায়। তন্মধ্যে “স্বল্পপেন্নাই মাদরাসা”ও ছিলো। তাদের কিছু ছাত্র বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে মাদরাসায় পরীক্ষা দেয়। অন্যান্য মাদ্রাসার জটিলতা নিরসনের পাশাপাশি মহাসচিব আমাকে ‘সল্পপেন্নাইয়ের’ বিষয়েও কোন সুরাহা করতে বলেন। এখানে কেবল ঐ মাদরাসাই নয়; আরো অসংখ্য মাদ্রাসা একই প্রসেসে নিজেরা মেশকাতের মার্কশিট বানিয়ে হাইআতুল উলইয়া এবং বেফাকে জমা দিয়েছে। এসবের ডকুমেন্ট বেফাক ও হাইয়ার অফিসে বিদ্যমান। অন্যান্য মাদ্রাসার আলোচনা ছেড়ে কেবল ‘সল্পপেন্নাইয়ের’ ব্যাপারে মহাসচিব মহোদয় বলেছেন বিধায় আমাকে এবং তাঁকে অভিযুক্ত করা এবং স্বজনপ্রীতির ট্যাগ লাগানো রীতিমতো জুলুম এবং সত্যকে আঁধারে ঢেলে দেয়া। উপরন্তু যেখানে স্বজনপ্রীতির গন্ধও নেই; এমন একটি বিষয়ে আমাকে মহাসচিব পক্ষীয় ক্রীড়নক বলাটা অবশ্যই জুলুম ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয়!

এখানে আমি হলাম তাঁদের অধীনস্থ। এবং বেফাকের বেতনভুক্ত একজন কর্মকর্তা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের কথা আমাকে মানতে হবে। আর তাছাড়া নিবন্ধন জটিলতা বিষয়ক কমিটির তিনি প্রধানতম ব্যক্তি।এখানে তিনি অন্যান্য মাদ্রাসার কথাও বিভিন্ন আলাপে আমাকে বলেছেন। সেসব বাদ দিয়ে ঐ মহলটি কেবলমাত্র একটি মাদ্রাসার ঘটনা সামনে এনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এবং সকল মাদরাসার স্বার্থে বেফাকের এই উদারতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে!

  • ২য় অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য:

গত তিন বছর যাবৎ সহকারী নাযেমে ইমতিহানের পদটি শূন্য হয়ে আছে। আমি প্রতিটি মিটিংয়ে এ পদে লোক নিয়োগের চাহিদাপত্র পেশ করে এসেছি। কিন্তু তারা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরে না পেয়ে অফিসিয়ালি ভাবে আমাকে লোক দেখার জন্য বলেন। আমিও আমার আশে পাশে ইলমী, আমলী এবং নিয়োগের শর্ত মোতাবেক এপদের যোগ্য কয়েক জনকেই পেয়েছি কিন্তু তারা তাদরিসী খেদমত ছেড়ে এ পদে আসতে সম্মত হননি। অতঃপর মহাসচিব দাঃবাঃ একদিন ফোন করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন নায়েবে নাযেম সম্পর্কে। আমি এখনো কাউকে খুঁজে পাইনি বলে জানালাম। পরে হুজুর একজনকে দিবেন বলে জানালেন এবং আমার মর্জি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। এই জানতে চাওয়াটা আমি অপরাধ হিসাবে মনে করি না। কারণ, যেহেতু আমার সহকারী হবেন। তাই, কাজের গতিময়তার জন্য অবশ্যই আমার মুওয়াফিক হওয়া জরুরী।

উপরেও বলেছি- যেহেতু আমি তাঁর অধীনে থাকি তাই তাঁর কথা শীরধার্য। তাছাড়া আমি তাকে খুশি করতে তার কথা একেবারে মেনেও নেই নি।শ্রোতারা ও সচেতন পাঠকগণ অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন। প্রার্থিত ব্যক্তির বয়স,অভিজ্ঞতা,ইলমী যোগ্যতা‌ ও কাজের দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি। অতঃপর সবকিছুর সমন্বয় হলে আমি সাদরে গ্রহণ করার কথা তাকে জানিয়েছি। এখানে মহাসচিব মহোদয়ের পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার মতো কিছু তো আমি করিনি। পদাধিকার বলে ও শর্তানুযায়ী তিনি কাউকে নিয়োগ দেয়ার পূর্ণ অথরিটি রাখেন। এরপরও এখানে আমাকে নিন্দিত বা অভিযুক্ত করার মতো কোন বিষয় সচেতন শ্রোতা ও পাঠকেরা নিরপেক্ষ বিচারে পাবেন না আশা করি।

  • ৩ য় অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য:

হাইআতুল উলইয়ার নিরীক্ষক “মাওলানা আব্দুল গণি” সাহেবের থেকে আমার ছেলে ও তার ভাতিজার রেজাল্টের বিষয়ে জানতে চেয়েছি। আসলে ফোনালাপটি দীর্ঘ একটি ফোনালাপের খণ্ডবিশেষ। মূল আলোচনা ছিলো হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষা বিষয়ক বেফাকের সহযোগীতা নিয়ে। সেই প্রসঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়। আলাপের শেষ পর্যায়ে গিয়ে আমার ছেলের প্রতি খেয়াল রাখতে বলি। নাম্বার বাড়িয়ে দেয়া কিংবা কমিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কোন কথা বলি নি। অনেকেই বিষয়টাকে ভিন্ন ভাবে বুঝেছেন বা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন এভাবে যে, আমি আমার ছেলের নাম্বার বাড়িয়ে দেয়ার অফার করছি তার বিনিময়ে উনার ভাতিজার নাম্বার আমি বাড়িয়ে দিবো। বিষয়টা মোটেও এমন নয়। এমন হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। কারণ, তারা উভয়ে ২০১৮ সনে মেশকাত পরীক্ষা দিয়েছে। ২০১৯ সনে একই সাথে দাওরা পরীক্ষা দিয়েছে। হাইয়ার উত্তরপত্র তৈরির কোন দায়িত্বই তো আমার নেই।তাহলে বিনিময়ের প্রশ্ন তো পুরোপুরি অবান্তর ও ধারণাপ্রসূত বিষয়!

উপরন্তু তিনি তার গড় নাম্বার ৯০% বলেছেন। আর রেজাল্ট প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা গেল আমার ছেলের গড় নাম্বার নব্বইয়ের নিচে (মোট নাম্বারঃ ৮৯৬, গড় ৮৯.৬০%) তাহলে আমার বলার পর যদি উনি তা বাড়িয়ে দিতেন অবশ্যই নব্বইয়ের উপরে হতো! অথচ, তা তো হয়নি!

এছাড়াও তার মেশকাত ও শরহে বেকায়ার রেজাল্ট নিয়েও আপত্তি করা হয়েছে এবং আমার উপর দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়েছে! অথচ,সে যে নিজের যোগ্যতায় এই ঈর্ষনীয় ফলাফল করেছে, সেটা তার আসাতিজায়ে কেরামদের স্বীকৃতি দ্বারা প্রমাণিতও হয়েছে। অনুসন্ধানী পাঠক খুঁজলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসব পেয়ে যাবেন। তাছাড়া তার পরীক্ষার খাতাগুলো তো এখনো বেফাক ও হাইয়ার অফিসে সংরক্ষণ করা আছে। অভিযোগকারী মহলের কেউ তদন্ত করে দেখে নিতেও তো কোন অসুবিধা নেই।

  • ৪র্থ অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য:

মাওলানা আনাস মাদানী সাহেবের সাথে এই ফোনালাপটি আরো প্রায় দেড় বছর পুরোনো। প্রসঙ্গটি ছিলো মেশকাতে হাটহাজারী মাদরাসার ৬ কিতাবের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা নিয়ে। মুরুব্বিদের থেকে কেউ কেউ বলেছিলেন হাটহাজারীর ফলাফল স্থগিত রাখতে। ফোনালাপে যেমন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেবের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি মরহুম আশরাফ আলী সাহেব (রহঃ) ও বর্তমান মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস দাঃবাঃ’র নির্দেশে আমি হাটহাজারী মাদরাসার ফলাফল প্রকাশ করি। এবং তাঁদের নির্দেশের লিখিত দলীলও আমি পেশ করি অন্য মুরুব্বিদের সমীপে। তথাপি আমাকে অন্যান্য বড়দের রোষানলে পড়তে হয়েছে! মুরুব্বিদের ধমক শুনতে হয়েছে! অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে!

এ বিষয়গুলো আমি মাওলানা আনাস মাদানী সাহেবকে জানানোর পর উনি জিজ্ঞেস করেন যে, তারা কারা? এর প্রেক্ষিতে আমি “খাস” কমিটির কথা বলি। এবং মুরুব্বিদের লিখিত অনুমতি পত্র দেখানোর পরও আমাকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করার ফলে কষ্টের জায়গা থেকে ‘খাস’ কমিটি ভেঙ্গে দিতে বলি। এটা হয়তো আমার বলা উচিৎ হয়নি। কিন্তু,অভিমানের জায়গা থেকে মানবিক কারণে আমি এটা বলতে বাধ্য হয়েছিলাম।

শুধুমাত্র এই কারণে আমাকে হাটহাজারী হযরতের পক্ষের দালাল ট্যাগ দেয়া হয়েছে! অথচ উপরের বক্তব্যের মতো এখানেও পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগ অমূলক, অবান্তর, অবাস্তব। বেফাক একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। হাটহাজারীর মুহতামিম বেফাকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সারাদেশের উলামায়ে কেরামের সমর্থনে। আমি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের বেতনভুক্ত একজন কর্মকর্তা। বোর্ডের স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী আমি চেয়ারম্যানের অনুগত ও অনুরক্ত হওয়াই যুক্তিযুক্ত। বরং তার বিরোধিতা নীতিগতভাবে অন্যায়! আর বিষয়টি যেহেতু চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, তাই আমি তার প্রতিনিধি হিসেবে মাওলানা আনাস মাদানীকে বিষয়টি জানিয়েছি। এখানে আমার অন্যায় কতটুকু!? মুরুব্বিদের নির্দেশে একটা কাজ আমি করেছি,এরপরও আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়টি আমি কাউকে বলতে পারবো না? তবে হ্যাঁ, চেয়ারম্যান মহোদয় বা মহাসচিব মহোদয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন দূর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আসলে এটা বেফাকের মজলিসে আমেলা সিদ্ধান্ত নিবে। এখানে আমি কোন পক্ষাবলম্বনের সুযোগ নেই, প্রয়োজনও নেই। আমি তো সকলের হয়ে কাজ করেছি বা করাটা উচিৎ।

তবে এই ফোনালাপে মনোকষ্টে বড়দের সম্পর্কে অশ্রদ্ধাশীল আচরণের জন্য সেদিনের মিটিংয়ে সবার থেকে আমি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, তাঁরা ক্ষমাও করেছেন।

  • ৫ম অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য:

আমার উপর আরোপিত আরেকটি অভিযোগ হলো পরিবার পরিজন দিয়ে একাধিক খাতা দেখিয়েছি! এখানে আমি বলতে চাই, বেফাকের প্রত্যেকটি কাজই সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত। খাতা বন্টন ও মূল্যায়নের ব্যপারটিও তেমনই। এই বিষয়টি দেখেন “নেগরান মুমতাহিন কমিটি” তারাই মুমতাহিনদের নামে খাতা বন্টন করেন। এতে করে প্রত্যেকের জন্য কমপক্ষে একটি বিষয়ের খাতা বরাদ্দ থাকে। বিগত ৪২তম পরীক্ষায় বার বার প্রশ্ন ফাঁস হয়ওয়ায় পরীক্ষা শেষ হতে প্রায় রমজান ঘনিয়ে গেছে। কিন্তু মুরুব্বিদের আদেশ ছিল যে কোন মূল্যেই হোক পরীক্ষার ফলাফল যেন আগের মতো ২৫শে রমজানের পূর্বেই প্রকাশ করা হয়। এটা ছিল আমার বেফাকের সাত বছরে কম সময়ে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বার বার পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কারণে যে সব মুমতাহিনদের তারাবী আছে, ইমামতি আছে,কালেকশন আছে, তাছাড়া এভাবে একাধিকবার পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কারণে অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ছেন তারা সবাই এক সাথে খাতা না দেখে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে এমন আছেন যে বিতরণ কেন্দ্র থেকে খাতা-ই গ্রহণ করেন নি। এমন প্রায় ২৫০-৩০০ প্যাকেট খাতা জমা হয়ে গেছে। বিষয়টি আমি মহাপরিচালক ও মহাসচিব সাহেবকে অবগত করি। অতঃপর “নেগরান মুমতাহিন কমিটি”র মুরুব্বি মাওঃ আব্দুল গণি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করি। এরপর উনারা নিজেরা-ই অনেক মেধাবী আলেম, নিরীক্ষকবৃন্দের নাম বলেন তখন দায়িত্বশীলরা তাদেরকে এবং অন্যদেরকে যাকে যেভাবে পেরেছেন সেভাবেই অতিরিক্ত খাতাগুলো বন্টন করেছেন। আমার পরিবারের জন্য আমি একবারও খাতা দিতে বলি নাই। অপারগ হয়ে তারাই বরং তাদেরকে অতিরিক্ত খাতা দিয়েছে। কে কত টাকা পেলো এসব তারা দেখেননি। দেখেছেন একটি জাতীয় স্বার্থ। ফলে কার আত্মীয় স্বজনকে এসব বিষয় কমিটি বিবেচনা করেননি মনে হয়। এ বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ থাকলে অফিসে গিয়ে যাচাই করে আসতে পারেন আমার কোন আপত্তি থাকবে না।

তিন. ‘খাস’ কমিটির মিটিংয়ে মুরুব্বিদের সিদ্ধান্ত।

গত ১৪ই জুলাই ২০২০ইং রোজ মঙ্গলবার আমার কিছু ফোনালাপ ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে আমাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন বেফাকের “খাস” কমিটি। যদিও আমার এমন বিদায় আমি কখনো চাইনি। তদুপরি বড়দের রেখে যাওয়া গচ্ছিত আমানত এই মহান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে কিছুটা হলেও নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছি। যদিও মজলিশটা বিচারের মজলিশ ছিলো না, ছিলো বড়দের সিদ্ধান্ত শুনানির আনুষ্ঠানিকতা। আমার স্বাভাবিক জীবন নিয়েও অজ্ঞাত মহলটি নানা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছিল বিধায় শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো।

তবুও আমি সেদিন নিয়মমাফিক অফিসে গিয়েছি! বৈঠকের এক পর্যায়ে আমাকে ডাকা হলে মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব সভাপতি সাহেবের অনুমতি নিয়ে আমাকে ৩-৪ মিনিটে কিছু প্রশ্ন করেন এবং দ্বিতীয় দফায় আমাকে ডেকে একটি কাগজে সাইন করতে বলেন। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে কোন কিছুর বাস্তবতা তুলে ধরার মতো সুযোগ দেয়া হয়নি! আমি কোন কথা না বলে উক্ত মজলিসের সকল সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। এবং আমার আচার আচরণ, চলা ফেরার কারণে যারাই কষ্ট পেয়েছেন সকলের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। অতঃপর আমি অফিসের সকল ফাইল, কাগজপত্র, চাবি ইত্যাদি মহাপরিচালক সাহেবসহ অন্যান্যদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নিয়ে এসেছি।

সবিশেষ উলামায়ে কেরাম ও সচেতন মহলের কাছে অনুরোধ করে বলতে চাই– কেউ কোন অপরাধ করলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমার কোন অপরাধ প্রমাণিত হলে এ শাস্তি মেনে নিতে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিকভাবে হওয়া উচিৎ।

  • সচেতন উলামায়ে কেরামদের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ডিত ফোনালাপের উপর ভিত্তি করে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে এমনকি শরীয়তের চিরায়ত বিধান বাদী-বিবাদিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এজলাসের মাধ্যমে তাদের দলিল প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়েই বেফাক আমাকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিল অথচ আমার ব্যাপারে আনিত অভিযোগ নিয়ে বেফাক আমাকে বক্তব্য দাখিল করার জন্য সামান্য সুযোগটুকুও দিলো না!
  • অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জবাবদিহিতার সুযোগ না দিয়ে একতরফা বহিস্কারের রায়ের মানে কী? এভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির দাবি অনুযায়ী এই একতরফা সিদ্ধান্ত বৈধ হয় কী করে? এটা কি আমার দীর্ঘ বক্তব্যে স্পষ্ট হওয়া লঘু অন্যায়ে গুরু দণ্ড নয়!?

প্রিয় তালিবানে ইলম ও উলামায়ে কেরাম!

বিগত ১৪৩৪ হি: সন হতে আপনাদের খেদমতে ছিলাম। আপনাদের মতো আমিও চাই বেফাকের গঠণতন্ত্রে, পরিচালনাগত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসুক। এবং সকল বিভাগের অপরাধের সঠিক তদন্ত হয়ে বিচার হোক। আপনারা ন্যায়-ইনসাফের সাথে বিষয়গুলো দেখবেন। আমার অপরাধগুলো যদি বহিষ্কারযোগ্য হয় তাহলে তো আমি কর্মের ফল যথাযথ পেয়েই গিয়েছি। আর যদি আমার উপর অন্যায় অবিচার করা হয়ে থাকে তাহলে আমি সেটা আল্লাহর দরবারে পেশ করলাম। দুর্নীতি আর অনিয়মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান যখন শুরুই হয়েছে;এই অভিযান যেন পরিপূর্ণ হয়। এমন যেন না হয় দূর্বলের উপর সবদোষ চাপিয়ে দিয়ে কিংবা বড় কোন অপরাধ ঢাকতে গিয়ে ছোট অপরাধগুলোর একতরফা বিচার করে অন্যান্য অপরাধ ধামাচাপা দেয়া হয়েছে!

  • এমন কিছু হলে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সমস্যার জায়গায় সমস্যা থেকেই যাবে।মাঝে মাঝে হয়তো কিছু লোক আসবে আর যাবে। কোন আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে না…!

আরেকটা বিষয় জানিয়ে রাখতে চাই বেফাকের অর্থনৈতিক কোন কেলেঙ্কারীতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। কারণ, অর্থনৈতিক আয় ব্যায়ের হিসাব, কাগজ ক্রয়-বিক্রয়, কমিটি বানানো, ভবন নির্মাণ, প্রকাশনা বিভাগ ইত্যাদি এসব কিছু থেকেই আমি অনেক দূরে। এগুলো প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব। আমার কাজ ছিলো মানসম্মত নির্ভূল প্রশ্ন তৈরী করা। এবং তা যথাযত সংরক্ষণ করা। সারা দেশে বেফাকভুক্ত মাদরাসাগুলোর সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা নেওয়া। পরিদর্শকদের থেকে বিভিন্ন মাদরাসার পরিদর্শনের খোঁজ নেওয়া। সনদ তৈরী করা। এবং যথাসময়ে পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করা ও বিভিন্ন মিটিংয়ের প্রস্তুতি ও মেহমানদের দাওয়াত দেওয়া।

পরিশেষে আরেকটি নিবেদন রেখে ইতি টানবো- যে বা যারা আমার ফোনালাপ প্রকাশ করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন।মেহেরবানী করে এসব বন্ধ করুন।আমাকে এবং আমার পরিবারকে নিয়ে আর বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ : 

বেফাক থেকে তিনজন বরখাস্ত : দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলবে

বেফাকে অনিয়ম : বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন