বেফাকের অস্থিরতা: গুঞ্জনের ডালপালা পক্ষ-বিপক্ষ ও অনেক পক্ষ

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

হাছিব আর রহমান : বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ নিয়ে এদেশের কওমী অঙ্গনে চলছে ব্যাপক অস্থিরতা। যে অস্থিরতা এখন কেবল বেফাক নয় বরং এদেশের ইসলামী অঙ্গন এবং কওমী মাদরাসাসহ ইসলামী রাজনীতিতেও ফেলছে কঠোর প্রভাব।

চলমান অস্থিরতা নিয়ে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বিভিন্ন জনের সাথে। এই অস্থিরতার সময়ে বিভিন্ন গুঞ্জন, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা যাচাইয়েও চালানো হয়েছে ব্যাপক অনুসন্ধান।

  • এসব অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে বিশেষ এই প্রতিবেদনটি করেছেন পাবলিক ভয়েস নির্বাহী সম্পাদক হাছিব আর রহমান।

চলমান অস্থিরতার শুরুটা কোথায় :

এই অস্থিরতার শুরু অনেক আগ থেকেই। বেফাক ও হাইআতুল উলয়ার মধ্যে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে এই অস্থিরতার শুরু বলেই জানা যায়। কিন্তু বিষয়গুলো সামনে এসেছে চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার বিশেষ একটি শূরা বৈঠকের পরে। যে শূরা বৈঠকে হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বপ্রথম একটি অস্থিরতা শুরু হয়। কওমী অঙ্গনে এই অস্থিরতা পরবর্তীতে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও শফিপূত্র আনাস মাদানীর একটি যৌথ ভিডিওর মাধ্যমে সুরাহা হয় এবং অনলাইনে এ বিষয়ে কথাবার্তা বন্ধ হয়।

হাটহাজারী প্রসঙ্গ : বিতর্কিত সকল লেখালেখি বন্ধের অনুরোধ জুনায়েদ বাবুনগরীর

‘আমাকে মাফ করি দিবেন, দোয়া করিবেন’ : জুনায়েদ বাবুনগরীকে আনাস মাদানী

  • এর পরপরই শুরু হয় বেফাক এবং হাইআতুল উলিয়া তথা কওমি মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে ফেসবুক আলোচনা।

তীব্র আকার ধারণ করে কখন :

এ আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের সাথে বিভিন্ন সময়ে কওমী মাদরাসার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সাথের বেশকিছু ফোনালাপ প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে। বিশেষ করে সেই সব কল রেকর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের সাথে বেফাক মহাসচিব আল্লামা আবদুল কুদ্দুস থেকে নিয়ে আল্লামা শফিপূত্র আনাস মাদানী এবং হাইআতুল উলয়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবদুল গনী ও বেফাকের সিনিয়র পরিদর্শক মুফতী মোহাম্মদ তোয়াহার সাথে বিভিন্ন স্পর্শকাঁতর বিষয়ে বলা কথাবার্তা প্রকাশ পায়।

ফোনালাপ বিষয়ে করা পাবলিক ভয়েসের প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন

পরবর্তীতে ফেসবুকে প্রকাশিত নয় এমন আরো কিছু কল রেকর্ড পাবলিক ভয়েসের কাছে হস্তগত হয়। যেগুলোতে দেখা গেছে বেফাক ও হাইআতুল উলইয়ার প্রশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে দুর্নীতি বিষয়ে কথা বলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছদ্ম আইডির মাধ্যমে এ বিষয়গুলো প্রকাশ করে রীতিমতো কওমি অঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে একটি গোষ্ঠী। যারা একের পর এক মুহুর্মুহু কল রেকর্ড ফাঁস করে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর খাস কমিটিকে বৈঠকে পর্যন্ত বসিয়েছে এবং বেফাকের এসব অনিয়মের বিষয়ে তরিৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বাধ্য করেছে।

মিটিংয়ে কী হয়েছিলো :

গত ১৪ জুলাই বেফাক অফিসে হওয়া খাস কমিটির মিটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তিনটি সিদ্ধান্ত এসেছে তা হলো –

০১. বেফাকের শৃঙ্খলা বিরোধী নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ মাওলানা আবু ইউসুফকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাওলানা আবু ইউসুফও অভিযোগ স্বীকার করে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন। ০২. ফোনালাপে বেফাকের পরিদর্শক মাওলানা ত্বহার নামও ওঠে এসেছে। নানা অনিয়ম ও বেফাকের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে জড়িত থাকায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। ০৩. পরীক্ষা বিভাগের সঙ্গে কর্মরত ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল গণীকে এ মুহূর্ত থেকে বেফাকের সকল কর্মকাণ্ড থেকে বরখাস্ত করা হয়।

বেফাক থেকে তিনজন বরখাস্ত : দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চলবে

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেদিন বেফাকের বৈঠকে খাস কমিটির সদস্যদের মধ্যে থেকে উপস্থিত ছিলেন বেফাকের সহ সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, বেফাকের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। এবং সেদিনের বৈঠকে তিনজনকে নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে বহিষ্কার করা হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফিজ্জি, মাওলানা আবদুল হক ময়মনসিংহ, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর সাহেব) মাওলানা সাজিদুর রহমান, দারুল আরকাম মাদরাসা, মাওলানা ছফিউল্লাহ পীরজঙ্গী মাদরাসা, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন রাজু, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকাারিয়া, মহসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, সহকারী মহাসচিব মাওলানা নুরূল আমিন, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মনিরুজ্জামান।

  • এছাড়াও মিটিং থেকে সিদ্ধান্ত করা হয় বেফাক মহাসচিব আবদুল কুদ্দুসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বেফাকের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফির কাছে চট্টগ্রাম যাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রোগ্রাম বাতিল করা হয় এবং চট্টগ্রামে বৈঠক না হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া :

এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে সেই ছদ্ম পরিচয়ের দলটি আরও কঠোর হয়ে উঠেন। বেফাক মহাসচিব ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস এর পদত্যাগের দাবিতে তারা আরও শক্ত ভূমিকা নেয়ার হুমকি দিয়ে এই দাবিতে ১৭ জুলাই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে “কওমী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ” নাম দিয়ে বাদ আসর একটি মানববন্ধনের ঘোষণা দেয় তারা। যে মানববন্ধনের দাবি ছিল বেফাকের অনিয়ম দূরীকরণ পূর্বক বর্তমান বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস এর অপসারণ।

[আল্লামা আবদুল কুদ্দুসের পদত্যাগের দাবিতে ‘কওমী ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর মানববন্ধনের ঘোষণা। ছবি : ফেসবুক।]

অপরদিকে “তাহাফফুজে উলামায়ে দেওবন্দ পরিষদ” নামে একটি দল একই সময়ে একই স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেয়। তাদের প্রতিবাদের বিষয়বস্তু ছিল আল্লামা আব্দুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামদের নামে ফেসবুকে ছড়ানো বিষয়গুলোর প্রতিবাদ। পরবর্তিতে উভয় গ্রুপেরই এই মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

[“তাহাফফুজে উলামায়ে দেওবন্দ পরিষদ” নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে আল্লামা আবদুল কুদ্দুসের বিরোধিতাকারীদের প্রতি প্রতিবাদের ঘোষণা। ছবি : ফেসবুক।]

  • এ ক্ষেত্রে আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস বিরোধী অংশটি দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তাদেরকে হুমকি দিয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তাদের একজন পাবলিক ভয়েসের কাছেও বিষয়টি দাবি করেন। তবে তিনি কোন সূত্রের দাবি করেন তা জিজ্ঞেস করা হলেও তেমন কোন সূত্র দেননি।
  • অপরদিকে বেফাকের একজন উধ্বর্তন দায়িত্বশীলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এই বিষয়টিকে তারা সেভাবে গুরুত্ব দেননি বলে পাল্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন এগুলো কওমি মাদ্রাসা, বেফাক, হাইয়া বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এসব বিষয়ের সমাধান কখনোই রাজপথ নয়। বরং আলোচনা এবং বিভিন্ন ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে এর সমাধান হওয়া উচিত।

বেফাকে অনিয়ম : বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ

জড়িয়ে পড়েছে বারিধারা মাদরাসাও :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব পাল্টাপাল্টি আলোচনার মধ্যেই হঠাৎ করে সামনে আসে আল্লামা নূর হোসেন কাসেমীর নেতৃত্বে বেফাক বিষয়ে জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় একটি মিটিং-এর খবর। কওমীপন্থী একটি নিউজ পোর্টাল দাবি করে লেখে –

….বেফাক দখলের নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে গত বুধবার (১৫ জুলাই ২০২০) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত বারিধারা মাদরাসায় একটি গোপন বৈঠক চলে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসেন কাসেমীর নেতৃত্বে তার মাদরাসায় গোপন ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে সরিয়ে বেফাকের বর্তমান মহাপরিচালক অধ্যাপক যোবাইর আহমদ চৌধুরীকে মহাপরিচালকের সাথে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা এবং মাওলানা নূর হোসেন কাসেমীকে নির্বাহী সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এবং একই ব্যক্তিকে মহাসচিব ও মহাপরিচালক হওয়ার সাংবিধানিক বৈধতা দেয়ার সকল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেখানে। প্রতিবেদনের দাবি অনুসারে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মাওলানা মনির হোসেন কাসেমীসহ জমিয়তের আরও অনেক নেতা।

একই বিষয় নিয়ে বেফাকের একটি উধ্বর্তন দায়িত্বশীল সূত্র পাবলিক ভয়েসের কাছে দাবি করে বলেছেন, “বারিধারা মাদ্রাসায় বেফাক বিষয়ে বেশ কয়েকটি গোপন মিটিং হয়েছে। মিটিংটি কত তারিখে হয়েছে এবং কারা উপস্থিত ছিলেন জানতে চাইলে ওই দায়িত্বশীল সূত্রটি জানান ঠিক কত তারিখে হয়েছে না জানলেও বারিধারায় মাদ্রাসা বেফাক বিষয়ে বেশ কয়েকটি গোপন মিটিং হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।”

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে আরজাবাদ মাদরাসা মুহতামিম ও বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ ধরনের কোনো মিটিং এর কোন বিষয়ে আমি জানি না। যারা এই দাবি করেছে এবং বলেছে আমি উপস্থিত ছিলাম তারা অবশ্যই মিথ্যাচার করেছেন। এমনকি একই বিষয়ে বারিধারা মাদ্রাসায় যোগাযোগ করা হলে বারিধারা মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বরাত দিয়ে বলেন – আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী তাকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো মিটিং এর খবর তিনি জানেন না এবং এমন কোনো মিটিং বারিধারা মাদ্রাসায় হয়নি। সেটি আরো অনুসন্ধান করার জন্য বেফাকের সহ-সভাপতি মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন রাজুকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আলোচনায় আসছেন বেফাক মহাপরিচালক অধ্যাপক যোবায়ের আহমদ চৌধুরীর নামও :

ইতিপূর্বে পাবলিক ভয়েসে বেফাকের ফোনালাপ ফাঁস ও মার্কশীট দুর্নীতি : ফেঁসে যেতে পারে শতাধিক মাদরাসা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বেফাক এর মধ্যে দুটি পক্ষের কথা এসেছিলো। এবং সেই প্রতিবেদন যে সূত্রে প্রকাশ করা হয়েছিল তিনি বেফাকের মধ্যে চলমান দুটি গ্রুপের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই গ্রুপ তৈরি হওয়ার কিছু কারণ তিনি প্রকাশ করেছিলেন যা প্রতিবেদনের মধ্যে বিস্তারিত আকারে রয়েছে। যেখানে জোবায়ের আহমেদ চৌধুরীকে বেফাক ভবনের একটি শেড নির্মানে দুর্নীতি করেছেন বলেও অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে।

এছাড়াও বেফাকের একটি গ্রুপ বিষয়েও আলোচনায় আসছে মহাপরিচালক অধ্যাপক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীর নাম। এ পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে- তিনি এর মধ্যেই বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন তার পছন্দের মানুষদের নিয়ে। এমনকি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেফাকের আরো কয়েকজন কর্মী থেকে জানা যায়- গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বেফাকের মহাপরিচালক অধ্যাপক যুবায়ের আহমদ চৌধুরী বেফাক অফিসে একটি জরুরি বৈঠক করেন অধীনস্ত কর্মকর্তা ও স্টাফদের সাথে। সহকর্মী বহির্ভূত এমন কিছু আচরণ এই মিটিংয়ে ফুটে উঠেছে, যা বেফাকের অফিসের লোকদের মনে এক ধরণের ভীতি সঞ্চার করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বেফাকের মহাসচিব বা খাস কমিটির অগোচরেই হয়ে যাওয়া এই মজলিসের ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক অস্বভাবিক উঁচু কন্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে সকলকে সতর্ক হয়ে যেতে বলেন। তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলে বসেন, “কিসের খাস কমিটি, কিসের তদন্ত?” “নো তদন্ত, নো মহাসচিব! এখন থেকে আমি যা বলবো তাই হবে। কেউ যদি কথা শুনতে না চায় তাহলে আবু ইউসুফের যেই পরিণতি হয়েছে তারও সেইম অবস্থা হবে।”

  • তবে এই দাবি বিষয়ে বেফাক অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি এবং বেফাক এর মহাপরিচালক অধ্যাপক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে পাবলিক ভয়েস-এর পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি যে বক্তব্য দিবেন তা যথাযোগ্য গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ইস্যুতে ব্যহত হচ্ছে বেফাকের স্বাভাবিক কর্ম তৎপরতা :

সাম্প্রতিককালের এসব ঘটনা এবং দীর্ঘদিন ধরে বেফাকের সাথে জড়িত দায়িত্বশীলদেরকে বিনা নোটিশে তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণে ইতিমধ্যেই বেফাক অফিসে কিছুটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে অনেকের দাবি হলো – অপসারিত ব্যক্তিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার প্রয়োজন ছিলো। পাশাপাশি বিনা তদন্তে, আকস্মিক এ ধরণের সিদ্ধান্তের কারণে বেফাকের স্বাভাবিক কর্মতৎপরতাও ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

  • এমনকি শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও এধরণের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। অপসারিত হওয়া মাওলানা তোয়াহা ইতিমধ্যেই তাদেরকে অপসারণ করার বিষয়টি সঠিক হয়নি দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে তার বক্তব্য পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এছাড়াও বেফাকের ভেতরকার একটি সূত্র পাবলিক ভয়েসকে জানিয়েছেন – চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে খাস কমিটির বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তে স্পষ্টই ব্যক্তি আক্রোশের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের সিদ্ধান্তের বিপরীতে ক্রোধ বা রাগের মাথায় অবিবেচকের মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেফাক বোর্ডের শূরা ও আমেলার গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিও এই সিদ্ধান্তে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শুধুমাত্র দু একটি ফোন কলের খণ্ডিত রেকর্ডাংশের কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন ধরণের মন্তব্য না শুনেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া শরিয়তের নীতি বহির্ভূত আর মানবিকতারও খেলাফ বলেও বলছেন অনেকে।

  • ফাঁসকৃত খণ্ডিত আলাপের সম্পূর্ণ বক্তব্যই অন্ততপক্ষে সামনে রেখে সিদ্ধান্তে আসা উচিত ছিলো বলে তিনি মনে করেন। একইসাথে সহকর্মীর ব্যাপারে ফাঁসকৃত এই ধরণের সম্মান বহির্ভূত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পেছনের কারণও কী হতে পারে সেই ব্যাপারে মাওলানা আবু ইউসুফের বক্তব্য না শুনেই এধরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও অবিবেচকের মতই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাছাড়া এধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বেফাকের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাদের কর্মজীবনে একধরণের ভীতিকর মানসিকতায় মধ্য দিয়ে সামনের দিনগুলো অতিবাহিত করবেন বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকেই। কেননা, নির্দিষ্ট কোন নীতিমালা ব্যতিরেকে এধরণের তড়িৎ অপসারণের সিদ্ধান্ত যে কোনো খারাপ পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।

ফোনালাপ বিষয়ে অভিযুক্তদের কার কী বক্তব্য :

কল রেকর্ড ফাঁস হলো কিভাবে এবং এর সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেফাকের একটি বিশ্বস্থ সূত্র পাবলিক ভয়েসকে বেফাকের এসব স্পর্শকাঁতর বিষয়গুলোর কল রেকর্ডিং কিভাবে ফাঁস হতে পারলো এ বিষয়ে বলেছেন – এর বিভিন্ন দিক রয়েছে। বেফাক কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এই ফোনালাপ ফাঁস এবং অন্যান্য বিষয়গুলো বাহির থেকে হয়নি বরং বেফাক হাইয়ার দায়িত্বশীলদের কাছাকাছি থাকা কেউ এগুলো করেছে। এমনকি এতে বেফাকের উধ্বর্তন দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহন থাকার একটি সম্ভাবনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তিনি পাবলিক ভয়েসকে আরও বলেছেন – এমন বিভিন্ন ধরনের তথ্য এবং ডকুমেন্ট আমাদের কাছেও রয়েছে যা আমরা কস্মিনকালেও জনগণের সামনে উম্মুক্ত করবো না কারণ এতে কওমি মাদ্রাসা এবং আলেম-ওলামাদের বদনাম।

তাছাড়া বেফাকের আরো একটি দায়িত্বশীল সূত্র পাবলিক ভয়েসকে বলেছেন- যারা কল রেকর্ডগুলো ফাঁস করছে তারা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাজগুলো করছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন – কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়া এবং কুরবানীর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার জন্য হাইআতুল উলয়ার একটি সাব-কমিটি গত ১৪ জু্লাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে যাওয়ার পথের একটি ছবি প্রকাশ করে বেফাক বিষয়ে ফেসবুকে কথা বলা ছদ্ম ওই দলটি। যেখানে মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়াসহ চারজন থাকলেও ‘সরকারের আনুকুল্য পেতে সেখানে যাচ্ছে’ দাবি করে তারা ছবি প্রকাশ করেছে মাত্র দু’জনের। একজন হলেন বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুসের বোনজামাই নূরুল আমিন ও আর একজন শফিপূত্র আনাস মাদানীর। ধানমন্ডি ৮ নং লেকেরপাড় বায়তুল আমান মসজিদে তাদের এশার নামাজ আদায়ের সময়কার একটি ছবি প্রকাশ করা হয় সেখানে। এ বিষয়টিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবেই বিভিন্ন কল রেকর্ডের খন্ডিত খন্ডিত বক্তব্য এবং খন্ডিত প্রেক্ষাপট প্রকাশ করে নির্দিষ্ট একটি অংশকে বেফাক থেকে সরিয়ে দেয়ার কাজ করছে একটি গ্রুপ।

তবে এসব ফোনালাপ বিষয়ে পাবলিক ভয়েসের অনুসন্ধান মতে অভিযুক্ত সবার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু ইউসুফ-এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি কারণ তার একাধিক ফোন নম্বর সব বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তিনি কোথায় আছেন তাও নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেনি। তবে মাওলানা আবু ইউসুফ-এর সাথে ফোনালাপ ফাঁস হওয়া চারজনের মধ্যে দুজনের বক্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে এসেছে।

এর বাইরে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস-এর একটি বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস সংশ্লিষ্ট একটি মহল পাবলিক ভয়েসকে বলেছেন- “আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই প্রশ্ন ফাঁস, বেফাক এবং হাইআতুল উলইয়ার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে বেফাক মহাসচিব আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু বিষয় যা সামনে এসেছে তা সমন্বয়হীনতা এবং কওমী অঙ্গনের সনদ বিষয়ক অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে হয়েছে এবং এর সাথে দেশের একাধিক প্রথম সারির আলেমরা সহ শতশত মাদ্রাসা জড়িত রয়েছে। তাই এসব অভিযোগে অভিযুক্ত করতে হলে সবাইকেই করতে হবে।”

– ফোনালাপ ফাঁস হওয়া পর অভিযুক্ত হয়ে বরখাস্ত হওয়া মাওলানা তোয়াহার বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানতে পড়ুন :

সর্বশেষ এ বিষয়ে কথা বলেছেন বহিস্কৃত অপর ব্যাক্তি মাওলানা আবদু্ল গনি। তার বক্তব্য সাক্ষাতকার আকারে শ্রুতিলিখন করেছেন হোসাইন আমিন নামের ফরিদাবাদের একজন ছাত্র। যার সাথে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে তা হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো –

হোসাইন আমিন বলেন – বেফাক থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি শোনার পর আমি মাওলানা আব্দুল গনির সাথে দেখা করতে যাই। সালাম দেওয়ার পর জিজ্ঞাসা করলাম হুজুর একটা খবর শুনলাম যাতে খুব ব্যথিত হলাম বাস্তবতা জানার জন্য আপনার শরণাপন্ন হলাম।

সরলতা নিয়ে জবাব দিলেন: কি আর শুনছো আমাকে বহিষ্কার করেছে এটাই তো? লজ্জা পাও কেন বললেই তো পারো যে আপনাকে বহিষ্কার করেছে সে খবর আমরা শুনেছি। …এরপর একটি হাসি দিয়ে বলতে লাগলেন আমিতো বেফাকের কর্মচারী না আমাকে কিভাবে বহিষ্কার করল?

হোসাইন আমিন : যদিও আপনি বেতনভুক্ত কর্মচারী নন তবুও পরীক্ষার সময় গুলোতে বেফাকের কাজ করতেন এবং নিরীক্ষণ কমিটিতে হয়তো আপনার নাম আছে সাময়িক হলেও একটি পদ আপনার ছিল।

আবদুল গণি : আরে না আমরা কোন পদ-পদবীর লোক না আমরা ছিলাম বদিল্লা। (বিনা পারিশ্রমিকে খেটে কাজ করা) …বেফাকের প্রায় শুরু জামানা থেকেই বদিল্লা দিয়ে আসছি। আর যখন বেফাকের টাকা ছিলো না তখন নিজের খেয়ে কাজ করছি এখন তো বেফাকের অনেক টাকা হয়েছে এখন হয়তো আমাদের প্রয়োজন নেই তাই এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হোসাইন আমিন : আপনি তো এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করলেন না।

আবদুল গনি : প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্য হলো আমি আবার বেফাকে ফিরে যেতে চাই কিন্তু বাস্তবতা হলো আমি চার বছর আগে থেকেই বেফাক থেকে সরে যেতে চাচ্ছিলাম কিন্তু বেফাক আমাকে ছুটি দিচ্ছিল না। এবার যেহেতু ছুটি পেলাম আর সেখানে যাব না এই সুযোগটা আমার জন্য আল্লাহর রহমত।

হোসাইন আমিন : যদি আপনি বেফাক থেকে চলে আসেন তাহলে ইস্তফা দিয়ে স্বসম্মানে বিদায় নিয়ে আসুন কিন্তু এখন যেই হালাতে (অবস্থায়) বের হয়ে আসলেন এটাতো দূষণীয় একটা বিষয়। এই দুর্নীতির ট্যাগ ঘাড়ে নিয়ে কেন আপনি চুপ করে বসে থাকবেন?

আবদুল গনি : হয়তো আমি এটার যোগ্য ছিলাম, তাই আমার সাথে এমন করা হয়েছে। যদি ভাল লোক হতাম তাহলে তো আর এমনটা করত না। তবে দুঃখের বিষয় হল বাদী বিবাদী উপস্থিত না করে কাজী সাহেব একা বিচার করে ফেলেছেন, এটা কিভাবে সম্ভব হল? যদি আমার ব্যাপারে কোন কথা আসে তাহলে যে বলবে সেই উপস্থিত থাকতে হবে এবং আমাকে উপস্থিত রাখতে হবে দুজনের কথা শুনে কাজি বিচার করবেন কিন্তু এই বিচারের তো কোন আগামাথা দেখি না। ….আমি জানিই না যে আমার নামে বিচার চলছে। তারপর কথা হল যদি আমি ফলাফল দুর্নীতি করতাম তাহলে এটা ধরা অনেক সহজ কারণ পরীক্ষার খাতাগুলো এখনো জমা আছে। সে যে নাম্বার পেয়েছে তার খাতায় তেমন লেখা আছে কিনা সেটা তদন্ত করে যাচাই করবে। যদি বাস্তবতা মিল পাওয়া যেত তাহলে তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতো; তাতে আমার কোনো কথা ছিল না কিন্তু এমন বিচার তাদেরকে কে শিখাইলো আল্লাহ মালুম!

হোসাইন আমিন : এই কথাগুলি যদি আপনি বিবৃতি দিয়ে বলতেন তাহলে সত্যটা প্রকাশ পেতো।

আবদুল গনি : কার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিমু আমার লোকেরাই তো আমাকে বহিষ্কার করেছে।

হোসাইন আমিন : সেদিন মজলিসের প্রধান ছিলেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব মহাসচিব সাহেব তো প্রধান ছিলেন না।

আবদুল গনি : আরে নূর হোসাইন কাসেমী আমারে কিভাবে বহিষ্কার করে সে নিজেই তো বেফাক থেকে একজন বহিস্কৃত লোক।

হোসাইন আমিন : এটা আবার কি বললেন আমরা তো এই বিষয়ে কিছু জানিনা না।

আবদুল গনি : তোমরা তো জানবা না, ইতিহাস আমরা জানি আমাদের কাছ থেকে শোনবে তবে এগুলো আলোচনা করার মধ্যে কোন ফায়দা নেই তাই বাদ থাক। তাদেরকে বেফাককে চালাতে দাও। তারা চালাতে থাকুক। দেখি কেমন পারে!

এই অস্থিরতার সমাধান কী :

চলমান এই অস্থিরতার সমাধান আসলে কী। তা নিয়ে অনেকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা তেমন কোন উত্তর দিতে পারেননি। তবে কওমি অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- দেশের মান্যবর এবং পরিচিত ওলামায়ে কেরাম যারা রয়েছেন তারা এ বিষয়টি নিয়ে সামনে এগিয়ে আসা উচিত যাতে চলমান অস্থিরতার সমাধান করা যায়। তাছাড়া বেশিরভাগ লোকজন মতামত দিচ্ছেন এ বিষয়ে এখন অভ্যন্তরিণ আলোচনা, মিটিং এবং বিভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সকল পক্ষকে নিয়ে বসে অতি দ্রুত সমাধান করা উচিত। নয়তো কওমি মাদ্রাসা এবং এই বেফাক বোর্ডসহ সার্বিক এ বিষয়গুলো আরো জটিল আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে প্রতিনিধিত্বশীল তরুণ আলেম মুফতি এনায়েতুল্লাহ লিখেন –

মান্যজনদের হস্তক্ষেপ জরুরি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে আলেম-উলামাদের পক্ষ হইতে, বিশেষত বেফাককেন্দ্রিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা, দুষ্টুচক্রের অপসারণ ও সৎ পরিকাঠামো গড়িয়া তোলার দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা এবং বিপক্ষীয়দেরও চাপানউতোর শেষে মানববন্ধনের ঘোষণায়- যে ছবি প্রস্ফুটিত হইয়াছে, তাহা ভয়ঙ্করই বটে। এরই মাঝে আসরে নেমে অনেকে সংযম দেখানোর কথা বলিতেছেন, কেউ কেউ আবার পোড়খাওয়া মান্যশ্রেণির নেতাদের চলমান কাজিয়া থামাইতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলিতেছেন।

দৃশ্যত সংযমের ডাক উপেক্ষিত হইতেছে। বিক্ষুব্ধ নেটিজেনরা সংযমের ডাক শুনিয়া বলিতেছেন, প্রতিষ্ঠানখানা নির্দিষ্ট নিয়ম মানিয়া চলিলেই কেবল দফারফা হইতে পারে। পরিস্থিতি খুব ভালো যেমন বলার অবকাশ নেই, মন্দও বলা যাচ্ছে না। তবে আকাশ মেঘাবৃত, যেকোনো সময় প্রবল বর্ষণ শুরু হইতে পারে।

বৃষ্টির পানিতে আস্থা, বিশ্বাস, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ব্যক্তি বিশেষের প্রভাব, স্বজন-পরিজনদের বলয় ভাসিয়া যাইতে পারে। উল্টো আন্দোলনেরও যবনিকাপাত হইতে পারে। কোনো কিছু দৃশ্যমান নয়, পূর্বানুমানও করার উপায় নেই। পক্ষ যখন দুইটা, তখন আবশ্যিকভাবে এক পক্ষকে নির্মূল হইতেই হইবে। কোন পক্ষ টিকিয়া থাকিবে জানি না- কিন্তু তাতে আলোচিত প্রতিষ্ঠান বেফাকের রোগ সারিবে কি?

কাতারে অবস্থানরত তরুণ আলেম ও আন্তর্জাতিক হাফেজ মোহাম্মদুল্লাহ বিন হিফজ বলেন – চলমান এই অস্থিরতার সমাধানের জন্য বেফাকের গঠনতন্ত্রের দিকে তাকালেই হয়। বেফাকের পরিচালনা এবং সার্বিক বিষয়ে যে গঠনতন্ত্র রয়েছে সে মোতাবেক সিদ্ধান্ত করে কাজ করলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন – আমরা বেফাকের মজলিসে আমেলার বৈঠক চাই। তারা যাকে ভোট দেবে তাকেই মহাসচিব হিসেবে আমরা মেনে নিবো, কোন একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নয়।

এছাড়াও বেফাকের চলমান অস্থিরতা নিয়ে মুখ খুলেছেন দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক দেশের পরিচিত আলেম মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী। এবিষয়ে তিনি দীর্ঘ একটি ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে বেফাকের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন।

লাইভের ভিডিওটি দেখলে বেফাক সম্পর্কে আরও বিশদভাবে জানা যাবে।

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

কওমী মাদরাসা বিষয়ক পাবলিক ভয়েসের সকল নিউজ, প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ : 

হেফাজতের মহাসচিব পদে রদবদলের গুঞ্জণ, সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া

হেফাজত নিয়ে আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর প্রতি মামুনুল হকের খোলা চিঠি

আরও পড়ুন :

আল্লামা আ. কুদ্দুসের সভাপতিত্বে হাইআর বৈঠক : চামড়া সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি

মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদের অনলাইন দরস : উপকৃত হচ্ছে কওমী ছাত্ররা

হাটহাজারীতে দরবারী আলেমদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করলেন আল্লামা বাবুনগরী

দারুল উলুম দেওবন্দ : প্রতিষ্ঠা, প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম

দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা কাসিম নানুতবি রহ. : সংক্ষিপ্ত জীবনকথা

পাবলিক ভয়েস পরিক্রমা : বেফাক ও হাইআতুল উলয়ার প্রশ্নফাঁসের পরীক্ষার ধারাবাহিক সংবাদ

বেফাকের ৪২তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু ৮ এপ্রিল

আগামীকাল শুরু হচ্ছে আল হাইয়াতুল উলয়ার ৩য় কেন্দ্রীয় পরীক্ষা

হাইয়া ও বেফাকের ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান করেছে

শনিবার হাইয়াতুল উলইয়ার জরুরি বৈঠক : আলোচনা হতে পারে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে

ফেসবুকে বেফাক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

কওমী মাদরাসার কেন্দ্রীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ; কী ভাবছে কওমী তরুণরা

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কওমী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সকল পরীক্ষা বাতিল

বেফাকের ফযিলত (মেশকাত) বর্ষের সামনের সকল পরীক্ষা স্থগিত

দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা

প্রশ্নফাঁস ও কওমী মাদরাসার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা বাতিল: কী ভাবছেন তরুণ আলেমরা?

হাইআতুল উলয়ার পুনঃপরীক্ষার রুটিন প্রকাশ

আগামীকাল শুরু হচ্ছে দাওরায়ে হাদীসের পুনঃপরীক্ষা

আবারও দাওরায়ে হাদীসের প্রশ্নপত্র ফাঁস; পরীক্ষা স্থগিত

দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষা: প্রশ্নফাঁস রোধে এবার ডিজিটাল পদ্ধতি

প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে প্রশংসার সাথে শেষ হলো হাইয়াতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা

এইচআরআর/আরআর/এসআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন